খবর

শতবর্ষে গ্র্যান্ড মসজিদ, সম্প্রীতির নতুন বার্তা

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • হাইলাইটস শতবর্ষ পূর্ণ করল প্যারিসের ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড মসজিদ।
  • ১৯২৬ সালে উদ্বোধন; প্রথম বিশ্বযুদ্ধে প্রাণ হারানো মুসলিম সৈনিকদের স্মৃতিতে নির্মিত।
  • শতবর্ষ উদযাপনে আন্তঃধর্মীয় সংলাপ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও শান্তির বার্তা।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

হাইলাইটস

  • শতবর্ষ পূর্ণ করল প্যারিসের ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড মসজিদ
  • ১৯২৬ সালে উদ্বোধন; প্রথম বিশ্বযুদ্ধে প্রাণ হারানো মুসলিম সৈনিকদের স্মৃতিতে নির্মিত।
  • শতবর্ষ উদযাপনে আন্তঃধর্মীয় সংলাপ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও শান্তির বার্তা।
  • ফ্রান্সে ধর্মনিরপেক্ষতা, বহুত্ববাদ ও সামাজিক সংহতির প্রতীক হিসেবে আবারও উঠে এল মসজিদের ঐতিহাসিক গুরুত্ব।

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের গ্র্যান্ড মসজিদ একশো বছরে পা দিল। ১৯২৬ সালে উদ্বোধন হওয়া এই ঐতিহাসিক স্থাপনা শুধু একটি উপাসনালয় নয়; এটি ফ্রান্সে মুসলিম সম্প্রদায়ের অবদান, ইতিহাস এবং বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।

শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিভিন্ন ধর্মের নেতা, শিক্ষাবিদ, কূটনীতিক এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা। অনুষ্ঠানের মূল বার্তা ছিল একটাই—বিভাজন নয়, সংলাপ; সংঘাত নয়, সহাবস্থান।

খ্রিস্টান, ইহুদি, বৌদ্ধসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতির গুরুত্বকে আরও একবার সামনে এনে দেয়।

যুদ্ধের স্মৃতি থেকে সম্প্রীতির প্রতীক

গ্র্যান্ড মসজিদ নির্মিত হয়েছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ফ্রান্সের হয়ে লড়াই করতে গিয়ে প্রাণ হারানো উত্তর আফ্রিকা ও অন্যান্য উপনিবেশের হাজার হাজার মুসলিম সৈনিকের স্মৃতির উদ্দেশে।

তাঁদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবেই ফরাসি সরকার এই মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিল। ফলে এটি শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, ফ্রান্সের ইতিহাস ও জাতীয় স্মৃতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

স্থাপত্যেও অনন্য

মরক্কীয় স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এই মসজিদের সুউচ্চ মিনার, রঙিন মোজাইক, সবুজ বাগান এবং ঐতিহ্যবাহী অঙ্গন প্রতিবছর হাজার হাজার পর্যটক ও দর্শনার্থীকে আকর্ষণ করে।

ধর্মীয় উপাসনার পাশাপাশি এখানে নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিক্ষামূলক কার্যক্রম এবং সামাজিক উদ্যোগও আয়োজন করা হয়।

আজকের ইউরোপে নতুন তাৎপর্য

অভিবাসন, পরিচয় রাজনীতি এবং ধর্মীয় সহাবস্থান নিয়ে যখন ইউরোপজুড়ে তীব্র বিতর্ক চলছে, তখন গ্র্যান্ড মসজিদের শতবর্ষ নতুন তাৎপর্য বহন করছে।

আয়োজকদের বক্তব্য, দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও সামাজিক সংহতির একমাত্র পথ হলো পারস্পরিক বোঝাপড়া, শ্রদ্ধা এবং নিয়মিত সংলাপ

ফ্রান্সের কঠোর ধর্মনিরপেক্ষতা বা লাইসিতে (Laïcité) নীতির প্রেক্ষাপটে গ্র্যান্ড মসজিদ বহু বছর ধরেই রাষ্ট্র ও মুসলিম সমাজের মধ্যে সংলাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে আসছে। শতবর্ষের এই উদযাপনে সেই ঐতিহ্যকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করা হয়েছে।

এক শতাব্দী পেরিয়ে প্যারিসের গ্র্যান্ড মসজিদ আজ শুধু ফ্রান্সের মুসলিম সমাজের গর্ব নয়; এটি বিশ্বের কাছে বহুত্ববাদ, সহনশীলতা ও আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতির এক জীবন্ত প্রতীক।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles