রাজস্থানের জয়পুর জেলার রামপুরা-কানওয়ারপুরা গ্রামের জরাজীর্ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনটি অবশেষে ভেঙে ফেলল প্রশাসন। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি-র ‘স্কুল ঠিক করো’ অভিযানে বিদ্যালয়টির বিপজ্জনক অবস্থা প্রকাশ্যে আসার পরেই বিষয়টি নিয়ে রাজ্যজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল। বুধবার জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা দফতরের আধিকারিকদের উপস্থিতিতে পুরনো ভবনটি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। সেখানে ১৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নতুন বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ করবে রাজস্থান সরকার।

বিদ্যালয়টির দুরবস্থা অবশ্য প্রশাসনের অজানা ছিল না। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে কারিগরি সমীক্ষার পর ভবনটিকে জরাজীর্ণ ও ব্যবহারের পক্ষে বিপজ্জনক বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। তারপর ভবনটিতে পঠনপাঠন বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু নতুন ভবন নির্মাণের কাজ দীর্ঘদিন শুরু হয়নি। সিজেপির অভিযোগ, বিকল্প উপযুক্ত পরিকাঠামো না থাকায় শিশুদের কার্যত মহিষের গোয়ালের মতো একটি জায়গায় বসে পড়াশোনা করতে হচ্ছিল।

গত মাসে সিজেপির একটি প্রতিনিধিদল ‘স্কুল ঠিক করো’ অভিযানের অংশ হিসেবে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করতে রামপুরা গ্রামে যায়। সেই পরিদর্শন ঘিরে সিজেপি সদস্য এবং একদল গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। দু’পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করে। সিজেপির দাবি, বিজেপির সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন তাঁদের কর্মীদের উপরে হামলা করেছিলেন, মহিলাদের হেনস্থা করেছিলেন এবং তাঁদের গাড়ির কাচ ভেঙে দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, কয়েকজন গ্রামবাসীর অভিযোগ ছিল, সিজেপির প্রতিনিধিরা তাঁদের ভয় দেখিয়ে গ্রামে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করেছিলেন। অভিযোগগুলি নিয়ে তদন্ত চলছে।

বিতর্কের মধ্যেই রাজ্য সরকার নতুন বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের জন্য ১৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করে। এর মধ্যে ১২ লক্ষ টাকা এসেছে জেলা খনিজ প্রতিষ্ঠান তহবিল থেকে। গত ১৩ আগস্ট ওই অর্থ মঞ্জুর করা হয়েছিল। বাকি ছয় লক্ষ টাকা দেওয়া হচ্ছে স্থানীয় বিধায়কের উন্নয়ন তহবিল থেকে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা আশা জানিয়েছেন, নতুন ভবন তৈরি হলে ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক—উভয়েরই সুবিধা হবে। শিশুরা নিরাপদ ও যথাযথ পরিবেশে পড়াশোনা করার সুযোগ পাবে। স্থানীয় বাসিন্দা জগদীশ শর্মাও সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।

সিজেপি নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ঘটনাটিকে ছাত্রছাত্রীদের জয় বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, পরিদর্শনের সময় তাঁদের উপরে পাথর ছোড়া হয়েছিল এবং গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছিল। কিন্তু সেই ঘটনার পরেও যদি শিশুদের জন্য একটি ভাল বিদ্যালয় তৈরি হয়, তবে তাঁদের আন্দোলন সার্থক। জরাজীর্ণ ভবন ভাঙার কাজ শুরু হলেও সিজেপির দাবি, বরাদ্দ ঘোষণাতেই দায়িত্ব শেষ হয় না—নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নতুন ভবন নির্মাণ সম্পূর্ণ করতে হবে।