সৌদামিনী শম্পা
আমরা আসলে ভিখিরি,দয়া প্রার্থী। সবথেকে বড় কথা আমরা অলস!জাত পা-চাটা!তাই সেই কবে থেকেই,ইংরেজরা এসে আমাদের চাকরি দিল নিজেদের সুবিধার্থে আর আমরা তা গ্ৰহন করে নিলাম মজ্জায় মজ্জায়! আমরা মাথা খাটাতে চাই না,কোনো ভালো কাজে। যদিও কূটকাচালিতে আমাদের তুলনা নেই। আমরা শরীর খাটাতে পারি না,তাই চাকরি খুঁজি।যেখানে অন্য রাজ্যে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে একটি ছেলে নিজের ওয়ার্কশপ খোলে, আমরা দাঁত বের করে,বুক ফুলিয়ে,ঘাড়ে ব্যাগ ঝুলিয়ে,চোঙা জিন্স পরে চলে যাই সেক্টর ফাইভে কন্টেন্ট রাইটারের কাজ করতে।যার মাইনে সাকুল্যে দশটি হাজার টাকা।এবং যে কোনো মুহূর্তে পশ্চাদ্দেশে পদাঘাত খাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল!তবু নিজে কিছু করবো না!ওরে বাবা! ওতে বহুৎ চাপ!
আমরা দেখেছি ,চোরেদের হাতে ক্ষমতা থাকলে আমাদের সুবিধা।বেশ ভাগ বাঁটোয়ারা করে খাওয়া যায়। হোক না উচ্ছিষ্ট,তাতে কি? ছিঁটেফোঁটা যা আসে মাগনায় আমাদের তাতেই সন্তুষ্টি।তাই মান-সম্মান খায় না মাথায় মাখে, এই ভাবনায়, সোনার দোকানের মালকিন হয়েও একটা ছাপা শাড়ি পরে দাঁড়াই ভিক্ষের ঝুলি পাঁচশো টাকায় ভরতে।ধুর!চাকরির দাবী কেন করবো? ওতে ছেলে চাকরি পাবে, বৌয়ের আয়েশ হবে! আমার কি লাভ?তার চেয়ে ওরা ওদেরটা বুঝুক, এতে মাস গেলে একটা শাড়ি তো আসবে!
মুখ বন্ধ করার জন্য উৎকোচকে উপঢৌকনের নামে পেশ করে! আমরা মনে মনে বলি,বেশ করে! ফ্রি,ফ্রি,ফ্রি!আরে ধুর ,ফ্রিতে তো পাচ্ছি! ও সব সৎ লোকেরা আদর্শের বুলি কপচে কয়েকজনকে চাকরি বাকরি দেবে। হ্যাঁ! তাতে ওরা জাতে উঠবে বটে! তবে সে আর ক’জন? আর তাছাড়া অদ্দুর যেতে বড় খাটনি,বড় কষ্ট, বড় পরিশ্রম। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তো আগেই বলে গেছেন,”জামা কিনিতে গিয়া,পাইলাম একপাটি মোজা!এখন সেইটেকেই টানিয়া টুনিয়া জামা করিবার প্রচেষ্টা!” আমরা যা পাই, বিশেষ করে “ফিরি”, তাতেই আমাদের বিশাল আনন্দ। যাক বাবা! খাটতে তো হলো না! আর এই “মিল বাঁটকে” খাওয়ার ফলে ছিঁটেফোঁটা তো আমাদের ওরা দেবেই।চোর না হয়ে মহাপুরুষ হলে কি আর ওদের মনে ভয় থাকবে? তাতে শুধু যোগ্য লোকেদেরই ভালো। আমরা যারা অকর্মন্য, অলস জাতির গর্ভস্রাব তারা আর ঠিকঠাক যোগ্য ক’জন? বরং অযোগ্যের সংখ্যাই বেশি।আরে বাবা “মেজোরিটি,বুইলেন না”? মেজোরিটিই তো গণতন্ত্রে শেষ কথা বলে! আর বাবা! যোগ্য হতে বড্ড হ্যাপা! তার চেয়ে চোরই ভালো। তুমিও খাও,আমিও খাই, জগাই মাধাই, বগল বাজাই! তাই চোরেদের ভোট দিলে সিংহভাগই টুপাইস কামাতে পারবে।আর ওইসব সৎ ফৎ হলে বহুৎ চাপ।সবাই ওসব হতেও পারবো না।আর যোগ্য হতেও যে খাটনি ওই সময় ভাই “নটি আমেরিকা” আর তাছাড়া আরো যে কত, সে সব দেখে গা গরম করবো।খেটে গা গরম করে কোন আহাম্মক? ঠেকে ঠেকে বন্ধুরা তো গেলাস ,বোতল, এন্টারটেইনমেন্ট এর ঢালাও ব্যবস্থা করেই রেখেছে। তাই বন্ধুগণ, “চালাও পানসি বেলঘড়িয়া”। এসো সবাই এই দেশকে সন্দেশ বানিয়ে খাই।তাই চোরদের দিই ভোট, একসাথে করি ঘোঁট।ভাগে যোগে তো তাহলে কিছু অন্তত পাবো।আরে প্রবাদেই তো আছে,”মিলেমিশে করি কাজ,হার জিতি নাহি লাজ “! এখানে অবশ্য কাজ বলতে …কি বললাম সে তো বুইলেন! কি? বুইলেন না?