Home খবর শেষযাত্রায় জনসমুদ্র, ট্রাম্পের মন্তব্যে নতুন বিতর্ক

শেষযাত্রায় জনসমুদ্র, ট্রাম্পের মন্তব্যে নতুন বিতর্ক

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
83 views 2 minutes read
A+A-
Reset

হাইলাইটস

  • তেহরানে প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর শেষযাত্রায় লাখো মানুষের ঢল।
  • শোকসভাকে ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তোলে ইরান।
  • চার হাজারেরও বেশি মানুষ অস্থায়ী চিকিৎসাকেন্দ্রে পরিষেবা নেন।
  • ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য ঘিরে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি।
  • ১১ জুলাই ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের কারিগরি পর্যায়ের বৈঠকের সম্ভাবনা।

তেহরানে প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর শেষযাত্রায় নজিরবিহীন জনসমাগমের মধ্যেই নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি মন্তব্য। ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রায় সবাই যখন শেষ শ্রদ্ধা জানাতে একত্রিত, তখন ট্রাম্প বলেন, “ওরা সবাই সেখানে রয়েছে। এক আঘাতেই সবাইকে শেষ করে দেওয়া সম্ভব। কিন্তু আমরা তা করব না, কারণ তাহলে আলোচনার জন্য আর কেউ থাকবে না।” তাঁর এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।

ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, শেষযাত্রা উপলক্ষে তেহরানের মোসাল্লা এলাকায় স্থাপিত অস্থায়ী চিকিৎসাকেন্দ্রগুলিতে চার হাজারেরও বেশি মানুষ চিকিৎসা বা স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়েছেন। যদিও এত মানুষের চিকিৎসা নেওয়ার নির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি, তবে প্রচণ্ড গরম, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা এবং ভিড়ের চাপই এর প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

এর আগে প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বিপুল জনসমাগমের কারণে সম্ভাব্য গণদুর্ঘটনার আশঙ্কায় বিশেষ জরুরি পরিকল্পনা তৈরি করেছিল ইরানের প্রশাসন। প্রয়োজনে তিন হাজার পর্যন্ত প্রাণহানির পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতিও রাখা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

জার্মান সংবাদমাধ্যম ডি ভেল্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের রেড ক্রিসেন্ট এবং জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার একটি গোপন নথিতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা হামলার পরিস্থিতি মোকাবিলার বিকল্প পরিকল্পনার কথা উল্লেখ ছিল। শেষযাত্রাকে ঘিরে বিপুল জনসমাগম এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে নিরাপত্তা সংস্থাগুলিকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়।

অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতির পর কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। পাকিস্তানের সংবাদপত্র ডন কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, আগামী ১১ জুলাই ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে কারিগরি পর্যায়ের বৈঠক হতে পারে। যদিও দুই দেশের কেউই এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এই বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

পর্যবেক্ষকদের মতে, একদিকে শেষযাত্রাকে ঘিরে জাতীয় ঐক্যের বার্তা তুলে ধরতে চাইছে তেহরান, অন্যদিকে ট্রাম্পের মন্তব্য দুই দেশের সম্পর্ককে আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। যদিও তিনি শেষ পর্যন্ত হামলার সম্ভাবনা নাকচ করে আলোচনার গুরুত্বের কথা বলেছেন, তবু এমন মন্তব্য অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়ে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা কূটনৈতিক মহলের।

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনও অস্থির। যুদ্ধবিরতির পর সরাসরি সংঘর্ষ আপাতত থেমে থাকলেও পারস্পরিক অবিশ্বাস, কঠোর রাজনৈতিক অবস্থান এবং সামরিক প্রস্তুতি বহাল রয়েছে। তাই সম্ভাব্য ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক বাস্তবে কোনও ইতিবাচক অগ্রগতি আনতে পারে কি না, সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles