Home খবর আরজি কর ধর্ষণ-খুন মামলা: সিবিআই তদন্তে বিলম্বে ক্ষুব্ধ হাইকোর্ট, ‘কপি-পেস্ট’ রিপোর্টে কড়া প্রশ্ন

আরজি কর ধর্ষণ-খুন মামলা: সিবিআই তদন্তে বিলম্বে ক্ষুব্ধ হাইকোর্ট, ‘কপি-পেস্ট’ রিপোর্টে কড়া প্রশ্ন

Authored By নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়
22 views 3 minutes read
A+A-
Reset

হাইলাইটস

  • আরজি কর ধর্ষণ-খুন মামলার তদন্তে সিবিআইয়ের অগ্রগতি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট।
  • আদালতের পর্যবেক্ষণ, বিশেষ তদন্তকারী দলের (এসআইটি) আগের রিপোর্টের পুনরাবৃত্তি করে সিবিআই স্বাধীন তদন্তের পরিচয় দিতে পারেনি।
  • বিচারপতিরা জানতে চান, এত সময় পেরিয়েও নতুন তথ্য বা তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি কোথায়।
  • নিরপেক্ষ, গভীর ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত নিশ্চিত করতে সিবিআইকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ আদালতের।
  • নিহত তরুণী চিকিৎসকের পরিবারও দীর্ঘদিন ধরে তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ তুলে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছে।

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুন মামলার তদন্তে বিলম্ব এবং তদন্তের মান নিয়ে শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্ট সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)-এর ভূমিকা নিয়ে একাধিক কঠোর প্রশ্ন তোলে। আদালতের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট, এত সংবেদনশীল ও বহুল আলোচিত মামলায় তদন্তকারী সংস্থার কাছ থেকে যে মাত্রার নিষ্ঠা, স্বাধীনতা এবং নতুন তথ্য-উদ্ঘাটনের প্রত্যাশা ছিল, তা এখনও সন্তোষজনক নয়।

শুনানির সময় আদালত লক্ষ্য করে যে সিবিআই যে রিপোর্ট জমা দিয়েছে, তার বহু অংশ আগের বিশেষ তদন্তকারী দলের (এসআইটি) রিপোর্টের সঙ্গে হুবহু মিলে যাচ্ছে। বিচারপতিরা প্রশ্ন তোলেন, যদি তদন্ত নতুন করে করা হয়ে থাকে, তাহলে রিপোর্টে নতুন অনুসন্ধান, নতুন প্রমাণ বা স্বাধীন বিশ্লেষণের প্রতিফলন কোথায়? আদালতের মতে, কেবল আগের নথির পুনরাবৃত্তি করলে তা স্বাধীন তদন্তের উদ্দেশ্য পূরণ করে না।

মামলার শুরু থেকেই নিহত চিকিৎসকের পরিবারের অভিযোগ, ঘটনাটি কেবল একজনের অপরাধ নয়, এর পিছনে আরও বড় ষড়যন্ত্র বা প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা থাকতে পারে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই হাইকোর্ট আগেই সিবিআইকে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল, যাতে অভিযোগগুলি আলাদাভাবে খতিয়ে দেখা হয়। সেই এসআইটির রিপোর্ট নিয়েই এবার আদালতের অসন্তোষ প্রকাশ্যে এল।

আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এমন একটি মামলায় তদন্তের প্রতিটি ধাপ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হওয়া অত্যন্ত জরুরি। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চিকিৎসক সমাজ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এই মামলাকে ঘিরে যে আস্থার প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, তা মাথায় রেখেই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আদালতের মতে, তদন্তের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হলে বিচারপ্রক্রিয়াও প্রশ্নের মুখে পড়বে।

নিহত চিকিৎসকের বাবা-মা দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছেন যে, তদন্তে বহু গুরুত্বপূর্ণ দিক উপেক্ষিত হয়েছে। তাঁদের দাবি, অপরাধের প্রকৃত চিত্র এখনও সামনে আসেনি এবং সম্ভাব্য সব অভিযুক্তকে চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। আদালতে দাখিল করা বিভিন্ন আবেদনে তাঁরা নতুন প্রমাণ, অডিও ক্লিপ এবং ফরেনসিক তথ্যও বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৯ অগস্ট আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের সেমিনার কক্ষে কর্তব্যরত অবস্থায় এক তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করে। পরে সিবিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে গ্রেফতার করা হয় এবং নিম্ন আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। কিন্তু নিহতের পরিবার বরাবরই দাবি করে এসেছে, ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারেন এবং তদন্ত সেই সম্ভাবনাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি।

এই মামলায় প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ এবং তৎকালীন থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকের বিরুদ্ধে প্রমাণ নষ্টের অভিযোগও সামনে আসে। পাশাপাশি হাসপাতালের প্রশাসনিক ভূমিকা, অপরাধস্থল সংরক্ষণ, অভিযোগ নথিভুক্ত করতে বিলম্ব এবং সম্ভাব্য তথ্য গোপনের বিষয়গুলি নিয়েও আলাদা তদন্ত চলছে।

হাইকোর্টের সর্বশেষ পর্যবেক্ষণ থেকে স্পষ্ট, আদালত আর কেবল আনুষ্ঠানিক অগ্রগতি রিপোর্টে সন্তুষ্ট নয়। তদন্তে বাস্তব অগ্রগতি, নতুন তথ্য সংগ্রহ, বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ এবং প্রত্যেকটি অভিযোগের নিরপেক্ষ অনুসন্ধান দেখতে চায় আদালত। বিচারপতিরা কার্যত সিবিআইকে মনে করিয়ে দিয়েছেন, এত বড় জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট মামলায় তদন্তের প্রতিটি পদক্ষেপ হতে হবে তথ্যনির্ভর এবং স্বাধীন।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতের এই কঠোর মন্তব্য সিবিআইয়ের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দিল। আগামী শুনানির আগে তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি এবং অভিযোগগুলির পৃথক বিশ্লেষণ আদালতের সামনে তুলে ধরতে না পারলে তদন্তকারী সংস্থাকে আরও কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হতে পারে। একই সঙ্গে নিহত চিকিৎসকের পরিবারও আশা করছে, আদালতের সক্রিয় নজরদারির ফলে তদন্তের গতি বাড়বে এবং ঘটনাটির সমস্ত দিক শেষ পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসবে।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles