Home International কাশ্মীরে ভোট থমকাল

কাশ্মীরে ভোট থমকাল

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
16 views 3 minutes read
A+A-
Reset

পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে টানা বিক্ষোভ, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ এবং অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রভাব এ বার সরাসরি পড়ল বিধানসভা নির্বাচনে। তিন দফার ভোটের শেষ পর্বে ১১টি আসনে ভোট হওয়ার কথা থাকলেও সাতটি আসনের ভোট স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। নতুন ভোটের দিন এখনও ঘোষণা হয়নি। ফলে শুধু নির্বাচন শেষ হওয়ার সময়ই নয়, গোটা রাজনৈতিক প্রক্রিয়াই অনিশ্চয়তার মুখে।

সোমবার, ১০ অগস্ট ছিল নির্বাচনের শেষ দফা। তার আগেই পুঞ্চ ও সুধনোতি এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনের রিপোর্ট আসে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই সাতটি আসনে ভোট পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। স্থানীয় নির্বাচন কমিশনের আধিকারিক রাজা শাকিল জানিয়েছেন, পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত। কবে ভোট হবে, তা পরে জানানো হবে।

ফলাফলে এগিয়ে পিএমএল-এন

প্রথম দুই দফায় ৩৪টি আসনে ভোট হয়ে গিয়েছে। এর মধ্যে পাকিস্তানের শাসক দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ (নওয়াজ) বা পিএমএল-এন পেয়েছে ২৪টি আসন। পাকিস্তান পিপলস পার্টি বা পিপিপির ঝুলিতে গিয়েছে ১০টি।

অর্থাৎ সাত আসনের ভোট বাকি থাকলেও সংখ্যার বিচারে সরকার গঠনের দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে পিএমএল-এন।

তবে ফলাফল নিয়ে আপত্তি তুলেছে পিপিপি। দলটির নেতা হাসান মুর্তাজার অভিযোগ, একাধিক ভোটকেন্দ্রে নির্ধারিত সময়ে ভোট শুরু হয়নি। তাঁর দাবি, এই বিলম্ব নির্বাচনী অনিয়মেরই ইঙ্গিত।

অভিযোগ উড়িয়ে পিএমএল-এন নেতা রানা সানাউল্লাহ বলেছেন, কারচুপির অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই এবং তাঁর দলই সরকার গঠন করবে।

অন্য দিকে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ বা পিটিআইয়ের সঙ্গে যুক্ত প্রার্থীরা কারচুপির অভিযোগ তুলে নির্বাচন বয়কট করেছেন।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, পাকিস্তানের জাতীয় রাজনীতিতে পিএমএল-এন ও পিপিপি পরস্পরের জোটসঙ্গী। ফলে কাশ্মীরের নির্বাচন ঘিরে এই বিরোধ ইসলামাবাদের ক্ষমতাসীন জোটের অন্দরেও অস্বস্তি বাড়াতে পারে।

ভোটের নেপথ্যে বিস্ফোরক ক্ষোভ

তবে নির্বাচনী উত্তেজনার শিকড় শুধু ভোটের মাঠে নয়। গত কয়েক মাস ধরেই পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দাবিতে আন্দোলন চলছে।

সামনের সারিতে রয়েছে জম্মু কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি বা জেএএসি। জুনে আঞ্চলিক সরকার সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও আন্দোলন থামেনি।

জুলাইয়ের শেষ দিকে প্রথম দফার ভোটের পর রাওয়ালাকোটের আশপাশে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ ভয়াবহ আকার নেয়। জেএএসি নেতৃত্বের দাবি, ওই সংঘর্ষে ৩০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তবে রয়টার্স স্বাধীন ভাবে সেই সংখ্যার সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।

এখনও রাওয়ালাকোটের সঙ্গে সড়ক ও ইন্টারনেট যোগাযোগের বড় অংশ বিচ্ছিন্ন বলে জানা যাচ্ছে।

আসল বিরোধ আসন ঘিরে

আন্দোলনের অন্যতম বড় ইস্যু বিধানসভার আসনবিন্যাস।

স্থানীয় আইনসভায় সরাসরি নির্বাচিত ৪৫টি আসনের বাইরে ১২টি আসন সংরক্ষিত রয়েছে এমন ব্যক্তিদের জন্য, যাঁদের স্থানীয় সংবিধানে ভারত-শাসিত কাশ্মীর থেকে আসা ‘শরণার্থী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই আসনগুলির ভোটারদের বড় অংশ পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের বাইরে পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করেন।

জেএএসি-র অভিযোগ, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ইসলামাবাদ স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পায়। পাকিস্তান সরকার অবশ্য সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

কিন্তু ক্ষোভ শুধু আসনবিন্যাস নিয়ে নয়। বিদ্যুতের দাম, খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য, সরকারি সুযোগ-সুবিধা এবং স্থানীয় সম্পদের উপর অধিকার—সব মিলিয়েই জমেছে অসন্তোষ।

আন্দোলন দমনে গ্রেফতার, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলেরও নজরে এসেছে। রাষ্ট্রপুঞ্জ পরিস্থিতি এবং মানবাধিকার সংক্রান্ত অভিযোগের দিকে নজর রাখছে।

ভারতের কড়া আপত্তি

ভারত অবশ্য এই নির্বাচন প্রক্রিয়ার বৈধতাই স্বীকার করে না। নয়াদিল্লির বক্তব্য, জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের যে অংশ পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, সেটি ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ফলে সেখানে পাকিস্তানের নির্বাচন আয়োজনকে ভারত বেআইনি দখলকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা হিসেবেই দেখে।

নয়াদিল্লির আরও অভিযোগ, নির্বাচনের আড়ালে ওই অঞ্চলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টিও চাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

সাত আসন, বড় অনিশ্চয়তা

সাতটি আসনের ভোট স্থগিত হওয়ায় পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা আরও বাড়ল।

সংখ্যার বিচারে পিএমএল-এন সরকার গঠনের কাছাকাছি পৌঁছে গেলেও বিক্ষোভ, বিরোধীদের কারচুপির অভিযোগ, পিটিআইয়ের বয়কট এবং সাত আসনের ভোট স্থগিত—সব মিলিয়ে নতুন সরকারের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, নতুন ভোটের দিন ঘোষণা করলেই কি পরিস্থিতি শান্ত হবে?

নাকি ভোটের বাইরেও যে ক্ষোভ গত কয়েক মাস ধরে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরকে উত্তপ্ত করে রেখেছে, সেটিই আগামী দিনে আরও বড় রাজনৈতিক সঙ্কটের রূপ নেবে?

বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles