য়াদিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনের বাইরে বসানো প্রতিবন্ধক, যান নিয়ন্ত্রণের খুঁটি এবং ভিসাপ্রার্থীদের সারি সামলানোর জন্য তৈরি কাঠামো সরিয়ে দিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। প্রকাশ্যে কেন্দ্রীয় সরকার এই পদক্ষেপের বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিলেও সরকারি সূত্রের বক্তব্য, ইসলামাবাদে ভারতীয় হাইকমিশনের বাইরে একই ধরনের ব্যবস্থা ভেঙে দেওয়ার জবাবেই দিল্লিতে এই অভিযান চালানো হয়েছে।

বুধবার রাতে ভারী যন্ত্র ব্যবহার করে পাকিস্তান হাইকমিশনের ভিসা বিভাগের সামনের কাঠামোগুলি ভেঙে ফেলা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থলের ছবিতে ভাঙা লোহার রেলিং, প্রবেশদ্বার, ছাউনি, ইট ও কংক্রিটের স্তূপ দেখা যায়। তবে হাইকমিশনের মূল ভবন এবং ভিসা দেওয়ার জানালাগুলি অক্ষত ছিল।

ভারতীয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, সরিয়ে দেওয়া কাঠামোগুলি পাকিস্তান হাইকমিশনের অনুমোদিত সীমানার বাইরে, পাশের সরু রাস্তার উপর তৈরি হয়েছিল। তার মধ্যে ছিল ভিসাপ্রার্থীদের দাঁড়ানোর জায়গা, সারি নিয়ন্ত্রণের রেলিং, যান চলাচল আটকানোর খুঁটি এবং অস্থায়ী ছাউনি। প্রযুক্তিগত ভাবে এগুলিকে ‘অননুমোদিত কাঠামো’ বলা হলেও এত দিন দ্বিপাক্ষিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে সেগুলি রেখে দেওয়া হয়েছিল।

ঘটনার সূত্রপাত ১৭ আগস্ট ইসলামাবাদে। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ সেখানকার অতি সুরক্ষিত কূটনৈতিক এলাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের বাইরে বসানো নিরাপত্তা প্রতিবন্ধক ও গাড়ি রাখার খুঁটি সরিয়ে দেয়। ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো হলেও পাকিস্তান সেই অভিযান বন্ধ করেনি। ইসলামাবাদের দাবি ছিল, রাস্তা প্রশস্ত করার কাজের জন্য ওই কাঠামোগুলি সরানো প্রয়োজন।

দুই দেশের দূতাবাসের অনুমোদিত জমির বাইরে এই ধরনের কিছু ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই চালু ছিল। কূটনৈতিক সূত্রের ব্যাখ্যা, ভারত ও পাকিস্তান পারস্পরিকতার নীতিতে নিজেদের দূতাবাসের জন্য কিছু অতিরিক্ত নিরাপত্তা ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের সুবিধা মেনে নিয়েছিল। পাকিস্তান একতরফা ভাবে সেই ব্যবস্থা প্রত্যাহার করায় ভারতও দিল্লিতে একই সুবিধা বজায় না রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে পদক্ষেপটি নিছক জবরদখল উচ্ছেদ নয়; এর মধ্যে একটি স্পষ্ট কূটনৈতিক বার্তাও রয়েছে—ইসলামাবাদ ভারতীয় মিশনকে যে সুবিধা দেবে না, দিল্লিও পাকিস্তানি মিশনকে সেই সুবিধা দেবে না।

পাকিস্তান হাইকমিশনের মূল নিরাপত্তা অবশ্য প্রত্যাহার করা হয়নি। কূটনৈতিক স্থাপনা হিসেবে তার সুরক্ষার দায়িত্ব ভারতেরই এবং পুলিশি নিরাপত্তা বহাল রয়েছে। সরানো হয়েছে কেবল অনুমোদিত চৌহদ্দির বাইরের অতিরিক্ত নিরাপত্তা ও সারি নিয়ন্ত্রণের কাঠামো।

এই ঘটনার সঙ্গে কাশ্মীর নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরের মন্তব্যের প্রতিবাদে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক পদক্ষেপের সরাসরি যোগ রয়েছে—এমন কোনও সরকারি নিশ্চিতকরণ নেই। উপলব্ধ তথ্য অনুযায়ী, দিল্লির সিদ্ধান্তের তাৎক্ষণিক কারণ ইসলামাবাদে ভারতীয় হাইকমিশনের বাইরের প্রতিবন্ধক অপসারণ। অর্থাৎ এটি মূলত পাকিস্তানের পদক্ষেপের মাপা কিন্তু দৃশ্যমান পাল্টা জবাব।