বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়াল বিজেডি, সিইসির পদত্যাগ চেয়ে বিরোধী মিছিলে নবীনের দল

যা জানা জরুরি
- বিজেপি ও কংগ্রেসের থেকে সমদূরত্ব বজায় রাখার পুরনো অবস্থান সরিয়ে এবার নির্দিষ্ট দাবিতে বিরোধীদের সঙ্গে রাস্তায় নামল বিজু জনতা দল।
- মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের প্রতিবাদ মিছিলে যোগ দিলেন নবীন পট্টনায়কের দলের সাংসদেরা।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর ঘিরে বিতর্কই এই যৌথ প্রতিবাদের কেন্দ্রবিন্দু।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
বিজেপি ও কংগ্রেসের থেকে সমদূরত্ব বজায় রাখার পুরনো অবস্থান সরিয়ে এবার নির্দিষ্ট দাবিতে বিরোধীদের সঙ্গে রাস্তায় নামল বিজু জনতা দল। মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের প্রতিবাদ মিছিলে যোগ দিলেন নবীন পট্টনায়কের দলের সাংসদেরা। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর ঘিরে বিতর্কই এই যৌথ প্রতিবাদের কেন্দ্রবিন্দু।
নবীনের নির্দেশে মিছিলে অংশ নেন রাজ্যসভার সাংসদ মানস মঙ্গরাজ ও সুলতা দেও। তবে বিজেডি স্পষ্ট করেছে, এই অংশগ্রহণকে ‘ইন্ডিয়া’ জোটে যোগদান হিসেবে দেখার কারণ নেই। সুলতার বক্তব্য, তাঁদের দল এনডিএ কিংবা ইন্ডিয়া—কোনও শিবিরেরই সদস্য নয়। একটি দায়িত্বশীল আঞ্চলিক দল হিসেবেই নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা প্রশ্নে প্রতিবাদ জানাচ্ছে বিজেডি। অর্থাৎ, যৌথ আন্দোলনে শামিল হলেও সাংগঠনিক স্বাধীনতা বজায় রাখার অবস্থানই সামনে রাখছে দল।
বিজেডির আপত্তির অন্যতম বিষয় ভোটার হিসেবে নাম তোলার আবেদনপত্র, ফর্ম ৬ নিয়ে বিতর্ক। সুলতা জানিয়েছেন, এসআইআর চলাকালীন ওই ফর্মে পরিবর্তন সম্পর্কে সুপ্রিম কোর্টের ব্যাখ্যার পরেই তাঁরা প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের অবস্থানকে সমর্থন করতে আদালতের নাম ব্যবহার করা হয়েছে। মঙ্গরাজও জানিয়েছেন, নবীন নিজেই আগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ চেয়েছেন।
ভোটার বাদ পড়া নিয়েও সরব হয়েছে দল। বিজেডি মুখপাত্র লেনিন মহান্তির অভিযোগ, এসআইআরের নামে দেশজুড়ে বিপুল সংখ্যক মানুষ ভোটাধিকার হারিয়েছেন; ওড়িশাতেও লক্ষ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে নৈতিক দায় নিতে হবে বলে দাবি করেছেন তিনি। এগুলি বিজেডির অভিযোগ; ভোটার বর্জনের উদ্দেশ্য বা রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগকে প্রমাণিত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার অবকাশ নেই। বিজেডির বক্তব্যে তাই বারবার এসেছে ভোটারদের অধিকার এবং নির্বাচন কমিশনের কাজের বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখার প্রশ্ন।
এই অবস্থানের তাৎপর্য বুঝতে বিজেপির সঙ্গে বিজেডির সম্পর্কের ইতিহাস জরুরি। ১৯৯৮ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত দুই দল জোটসঙ্গী ছিল। সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার পরেও সংসদে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নরেন্দ্র মোদী সরকারকে সমর্থন দিয়েছে বিজেডি। কিন্তু ২০২৪ সালের ওড়িশা বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি নবীনের টানা ২৪ বছরের শাসনের অবসান ঘটায়। তারপর থেকে দুই দলের সম্পর্কের তিক্ততা ক্রমশ বেড়েছে।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই ধাপে ধাপে কৌশল বদলাচ্ছে বিজেডি। নিট বিতর্কে রাজ্যসভায় বিরোধীদের সঙ্গে ওয়াকআউট, নির্বাচনী কেন্দ্র পুনর্বিন্যাসের বিরোধিতায় বৈঠকে যোগদান এবং রাজ্যসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে যৌথ প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত সেই পরিবর্তনের উদাহরণ। খনি সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় আইনের বিরুদ্ধেও সরব হয়েছেন নবীন। দলের একাংশের উপলব্ধি, কেন্দ্রের পাশে দাঁড়ানোর পুরনো কৌশল নির্বাচনে লাভ দেয়নি।
বিজেপি অবশ্য এই সক্রিয়তাকে অস্তিত্ব রক্ষার চেষ্টা বলে কটাক্ষ করেছে। দলের নেতা বিরঞ্চি নারায়ণ ত্রিপাঠীর দাবি, ক্ষমতা হারানোর পর বিজেডি সংকটে পড়েছে; নিজেদের প্রাসঙ্গিক রাখতেই অপ্রয়োজনীয় বিষয় তুলে ধরছে তারা। ফলে নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে প্রতিবাদের পাশাপাশি ওড়িশার দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর রাজনৈতিক সংঘাতও সামনে এসেছে।
দিল্লিতে সংসদ ভবন চত্বর থেকে নির্বাচন কমিশনের দফতরের দিকে এগোনো মিছিল পুলিশ পার্লামেন্ট স্ট্রিটে আটকে দেয়। এরপর বিরোধী সাংসদেরা ধর্নায় বসেন। মল্লিকার্জুন খাড়্গে ও রাহুল গান্ধীও কর্মসূচিতে ছিলেন। পরে কয়েকজন সাংসদকে আটক করে বাসে তোলা হয়। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ বিজেডির অংশগ্রহণকে স্বাগত জানিয়ে ভোট এবং নির্বাচনী কেন্দ্র পুনর্বিন্যাসের প্রশ্নে বিরোধী ঐক্য বজায় রাখার কথা বলেছেন।
সব মিলিয়ে, মঙ্গলবারের ঘটনা নতুন জোট ঘোষণার চেয়ে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দূরত্ব কমার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিজেডি নিজের পরিচয় বজায় রেখেই বিজেপিবিরোধী প্রতিবাদের পরিসরে এসেছে। এতে কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন ইন্ডিয়ার আনুষ্ঠানিক সদস্যদের গণ্ডি পেরোল। নবীনের দলের পরবর্তী পদক্ষেপই বোঝাবে, এই সহযোগিতা নির্দিষ্ট দাবিতে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি আরও বিস্তৃত রাজনৈতিক সমন্বয়ের দিকে যাবে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



