স্বচ্ছতার খোঁজে নয়া বাছাই: প্রক্রিয়া এনটিএ-র

যা জানা জরুরি
- একের পর এক সর্বভারতীয় পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, ভুল প্রশ্ন এবং পরিচালনগত ত্রুটি নিয়ে প্রবল সমালোচনার মুখে প্রশ্নপ্রণেতা নির্বাচনের নিয়ম আমূল বদলাচ্ছে জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা…
- ইতিমধ্যেই বিশেষজ্ঞদের তালিকা থেকে প্রায় ৬০০ জনকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
- নতুন করে বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ নিয়োগের ক্ষেত্রে চালু হচ্ছে চার ধাপের যাচাইপ্রক্রিয়া।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
একের পর এক সর্বভারতীয় পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, ভুল প্রশ্ন এবং পরিচালনগত ত্রুটি নিয়ে প্রবল সমালোচনার মুখে প্রশ্নপ্রণেতা নির্বাচনের নিয়ম আমূল বদলাচ্ছে জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা বা এনটিএ। ইতিমধ্যেই বিশেষজ্ঞদের তালিকা থেকে প্রায় ৬০০ জনকে বাদ দেওয়া হয়েছে। নতুন করে বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ নিয়োগের ক্ষেত্রে চালু হচ্ছে চার ধাপের যাচাইপ্রক্রিয়া।
এনটিএ-র অভ্যন্তরীণ নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রশ্নপ্রণেতা বা বিষয়-বিশেষজ্ঞ হতে ইচ্ছুক শিক্ষক-শিক্ষিকাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, চাকরির ইতিহাস এবং পরিচয়পত্র জমা দিতে হবে। সেই সঙ্গে বর্তমান নিয়োগকর্তার কাছ থেকে ‘অনাপত্তিপত্র’ নেওয়া বাধ্যতামূলক। কোনও স্বার্থের সংঘাত রয়েছে কি না, আত্মীয় বা ঘনিষ্ঠ কেউ সংশ্লিষ্ট পরীক্ষায় বসছেন কি না এবং গোপনীয়তা রক্ষা করবেন—এই মর্মেও পৃথক ঘোষণাপত্র দিতে হবে।
প্রথম ধাপে আবেদনপত্র সম্পূর্ণ কি না, আবেদনকারীর যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা এবং আধার, প্যান ও অনাপত্তিপত্রের মতো নথি যাচাই করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে এনটিএ-গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটি আবেদনকারীর শিক্ষাক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠা, গবেষণার অভিজ্ঞতা, আগে প্রশ্নপত্র তৈরির কাজ করেছেন কি না এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জ্ঞানের গভীরতা বিচার করবে।
তৃতীয় ধাপে নির্বাচিতদের শিক্ষাগত শংসাপত্র, চাকরির ইতিহাস, সততা-সংক্রান্ত ঘোষণা এবং সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা হবে। সব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে চতুর্থ ধাপে নির্দিষ্ট বিষয়, পরীক্ষার স্তর এবং কাজের প্রকৃতি অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হবে। এই তালিকাভুক্তির মেয়াদ হবে তিন বছর। তবে কাজের মান সন্তোষজনক না হলে, সততা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে অথবা কোনও শর্ত ভাঙলে উপযুক্ত নোটিস দিয়ে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞকে বাদ দেওয়া যাবে।
এনটিএ বছরে একাধিক পর্বে নিট, জেইই মেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের জাতীয় যোগ্যতা নির্ণায়ক পরীক্ষা এবং অভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় প্রবেশিকা-সহ দশটি বড় সর্বভারতীয় পরীক্ষা পরিচালনা করে। তালিকাভুক্ত বিষয়-বিশেষজ্ঞরাই এই পরীক্ষাগুলির প্রশ্নপত্র তৈরি করেন। ভূমিকা অনুযায়ী সাধারণত সাত থেকে পনেরো দিন তাঁদের কাজে যুক্ত থাকতে হয় এবং বছরে প্রায় ৩৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পারিশ্রমিক দেওয়া হয়।
প্রশ্নপ্রণেতাদের পরিচয় ও সততা যাচাইয়ের দুর্বলতাকে দীর্ঘদিন ধরেই পরীক্ষাব্যবস্থার একটি বিপজ্জনক ফাঁক হিসেবে দেখা হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রক এনটিএ-কে দায় নির্ধারণ, গোটা পরীক্ষা পরিচালনা ব্যবস্থার নিরীক্ষা এবং ত্রিশ দিনের মধ্যে সংশোধনমূলক ব্যবস্থার প্রতিবেদন দিতে বলেছে। প্রশ্নপত্র পরীক্ষার জন্যও চার স্তরের যাচাই চালু হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন কর্মী নিয়োগ, এনটিএ-র দপ্তর স্থানান্তর এবং কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তবে কর্মরত শিক্ষকদের অনাপত্তিপত্র জমা দেওয়ার নিয়ম নিয়ে আপত্তিও উঠেছে। একাংশের আশঙ্কা, প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের ব্যক্তিগত পছন্দ বা মতাদর্শ এই অনুমোদনকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে কঠোর যাচাইয়ের ঘোষণার পরেও মূল পরীক্ষা হবে—নতুন ব্যবস্থা কতটা নির্ভুল প্রশ্নপত্র, গোপনীয়তা এবং পরীক্ষার্থীদের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



