১৫ মিনিটেই রাজভবনের প্রশ্ন

যা জানা জরুরি
- নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: নির্ধারিত সময়ের ১৫ মিনিট পরে রাজ্যপালের ভাষণ সম্প্রচার কেন?
- কারণ জানতে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চাইল রাজভবন।
- বিশ্ববিদ্যালয়কে পাঠানো চিঠিতে জানতে চাওয়া হয়েছে, কার নির্দেশে এবং কী কারণে ভাষণ সম্প্রচারে এই বিলম্ব হল।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: নির্ধারিত সময়ের ১৫ মিনিট পরে রাজ্যপালের ভাষণ সম্প্রচার কেন? কারণ জানতে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চাইল রাজভবন। বিশ্ববিদ্যালয়কে পাঠানো চিঠিতে জানতে চাওয়া হয়েছে, কার নির্দেশে এবং কী কারণে ভাষণ সম্প্রচারে এই বিলম্ব হল। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ দেওয়ার পাশাপাশি কোনও কারিগরি সমস্যা হয়েছিল কি না, তাও জানাতে বলা হয়েছে। রাজভবনের এই পদক্ষেপে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
সূত্রের খবর, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক এক অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল তথা আচার্য আর এন রবির পূর্বনির্ধারিত ভাষণ বৈদ্যুতিন মাধ্যমে সম্প্রচারের কথা ছিল। ভাষণের দৃশ্য-শ্রাব্য রেকর্ড আগেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে পাঠানো হয়েছিল। জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল সম্প্রচারের নির্দিষ্ট সময়ও। কিন্তু অনুষ্ঠানসূচি অনুযায়ী তা দেখানো হয়নি। রাজভবনের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের প্রায় ১৫ মিনিট পরে ভাষণটি সম্প্রচার করা হয়।
বিষয়টি নজরে আসার পরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে রাজভবন। পরে লিখিত ভাবে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। ভাষণ সম্প্রচারের দায়িত্বে কারা ছিলেন, নির্ধারিত সময় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত কে নিয়েছিলেন এবং বিলম্বের কারণ কী—সবই জানতে চাওয়া হয়েছে। কোনও কারিগরি বিভ্রাট হয়ে থাকলে তার নথি বা সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনও জমা দিতে বলা হয়েছে।
রাজভবনের একাংশের মতে, রাজ্যপাল পদাধিকারবলে রাজ্যের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলির আচার্য। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে তাঁর ভাষণ সম্প্রচারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময় ও পদমর্যাদা বজায় রাখা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। সেই সূচিতে ব্যতিক্রম হলে তার যথাযথ ব্যাখ্যাও দিতে হবে। ফলে ১৫ মিনিটের এই বিলম্ব নিছক ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটি, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের জবাবেই স্পষ্ট হবে।
যদিও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের দাবি, ইচ্ছাকৃত ভাবে রাজ্যপালের ভাষণ পিছিয়ে দেওয়া হয়নি। অনুষ্ঠানের আগের পর্ব শেষ হতে দেরি হওয়া অথবা দৃশ্য-শ্রাব্য ব্যবস্থা প্রস্তুত করতে অতিরিক্ত সময় লাগার কারণেই সম্প্রচারে বিলম্ব হয়ে থাকতে পারে। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে রাজভবনকে উত্তর দেওয়া হবে। তবে এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
আর এন রবি রাজ্যপালের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির প্রশাসনিক কাজকর্ম নিয়ে সক্রিয়। বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালন সমিতিতে আচার্যের মনোনীত সদস্যদের ভূমিকা, বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া-সহ একাধিক বিষয়ে তিনি উপাচার্য ও নিবন্ধকদের কাছ থেকে প্রতিবেদন চেয়েছেন। সেই আবহেই এবার রাজ্যপালের ভাষণ সম্প্রচারে ১৫ মিনিটের বিলম্ব নতুন করে রাজভবন-विश्वবিদ্যালয় সম্পর্কের টানাপড়েন সামনে আনল।
শিক্ষামহলের একাংশের মতে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অপ্রয়োজনীয় সংঘাত এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে দ্রুত এবং স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন। এখন দেখার, বিশ্ববিদ্যালয়ের জবাব পাওয়ার পর রাজভবন ঘটনাটিকে নিছক প্রশাসনিক ত্রুটি হিসেবেই দেখবে, নাকি দায়িত্ব নির্ধারণের পথে হাঁটবে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



