DRAFT

‘অঙ্কুর’ থেকে ‘মালগুডি ডেজ’: দাদাসাহেব ফালকে সম্মান পাচ্ছেন অনন্ত নাগ

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাংলাস্ফিয়ার: পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে পর্দায় অসংখ্য চরিত্রকে জীবন্ত করে তোলা অভিনেতা অনন্ত নাগ পাচ্ছেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ সম্মান, দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার।
  • বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় সরকার এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।
  • আগামী ২২ সেপ্টেম্বর গুজরাতের কেভাডিয়ায় ৭২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে সম্মান তুলে দেওয়া হবে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাংলাস্ফিয়ার: পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে পর্দায় অসংখ্য চরিত্রকে জীবন্ত করে তোলা অভিনেতা অনন্ত নাগ পাচ্ছেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ সম্মান, দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার। বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় সরকার এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর গুজরাতের কেভাডিয়ায় ৭২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে সম্মান তুলে দেওয়া হবে। ৭৮ বছরের অভিনেতার দীর্ঘ শিল্পীজীবনে যুক্ত হচ্ছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি।

কন্নড় চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রধান মুখ অনন্ত অন্তত ৩০০টি ছবিতে অভিনয় করেছেন। কন্নড়ের পাশাপাশি হিন্দি এবং দক্ষিণ ভারতের অন্য ভাষার ছবিতেও তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজ রয়েছে। ২০২৫ সালে তিনি পদ্মভূষণ পান। রাজকুমারের পরে দ্বিতীয় কন্নড় অভিনেতা হিসেবে দাদাসাহেব ফালকে সম্মান পেতে চলেছেন তিনি। রাজকুমার এই পুরস্কার পেয়েছিলেন ১৯৯৫ সালে। তিন দশকের ব্যবধানে সেই সম্মান আবার কন্নড় চলচ্চিত্রের এক বর্ষীয়ান শিল্পীর হাতে।

অনন্তের অভিনয়ের ভিত তৈরি হয়েছিল মঞ্চে। মুম্বইয়ে কন্নড়, কোঙ্কণি, মরাঠি ও হিন্দি নাটকে অভিনয় করেন তিনি। সত্যদেব দুবে, গিরিশ কারনাড এবং অমল পালেকরের মতো নাট্যব্যক্তিত্বের সঙ্গে কাজ তাঁর শিল্পীজীবনকে সমৃদ্ধ করে। সত্যদেব দুবের সূত্রেই বেনেগালের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়, যা পরবর্তী সময়ে হিন্দি ছবিতে তাঁর অভিনয়ের পথ খুলে দেয়। ১৯৭৩ সালে কন্নড় ছবি ‘সংকল্প’ দিয়ে চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ। তার পর শ্যাম বেনেগালের ‘অঙ্কুর’ তাঁকে বৃহত্তর দর্শকসমাজের সামনে নিয়ে আসে।

হিন্দি ছবির দর্শকের কাছে অনন্তের পরিচয় মূলত ভারতীয় সমান্তরাল চলচ্চিত্রের এক গুরুত্বপূর্ণ অভিনেতা হিসেবে। বেনেগালের ‘নিশান্ত’, ‘মন্থন’, ‘ভূমিকা’ এবং ‘কলযুগ’-এ তাঁর অভিনয় সেই পরিচয়কে দৃঢ় করেছে। সামাজিক দ্বন্দ্ব, ক্ষমতার সম্পর্ক কিংবা ব্যক্তিগত দুর্বলতায় জর্জরিত চরিত্র ফুটিয়ে তোলার কাজে তাঁর সংযত উপস্থিতি বিশেষ তাৎপর্য পেয়েছে। পর্দায় নায়ক হওয়ার পাশাপাশি জটিল মানুষ হয়ে ওঠার ক্ষমতাই তাঁকে আলাদা করে চিনিয়েছে।

তবে তাঁর অভিনয়জীবন কোনও একটি ধারায় আটকে থাকেনি। কন্নড়ের জনপ্রিয় ছবিতে প্রেম, কৌতুক এবং পারিবারিক কাহিনির মধ্যেও তিনি ছিলেন সমান স্বচ্ছন্দ। ‘গণেশনা মাদুভে’, ‘গৌরী গণেশ’ কিংবা ‘মুঙ্গারু মালে’-র মতো ছবি তাঁর জনপ্রিয়তার বিস্তার বোঝায়। জি ভি আয়ারের ‘হংসগীতে’ আবার তাঁর অভিনয়ের অন্য সম্ভাবনা সামনে এনেছিল। শিল্পমনস্ক ছবি ও বাণিজ্যিক সাফল্যের মধ্যে অনায়াস যাতায়াত তাঁর কর্মজীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

বাংলার দর্শকের কাছেও অনন্ত নাগের একটি অত্যন্ত পরিচিত ঠিকানা ‘মালগুডি ডেজ’। আর কে নারায়ণের গল্প অবলম্বনে দূরদর্শনের এই ধারাবাহিক পরিচালনা করেছিলেন তাঁর ভাই শঙ্কর নাগ। অনন্ত অভিনয় করেন একাধিক পর্বে। ছোট শহরের চেনা মানুষের জীবন, হাসি, দুঃখ আর খামখেয়ালিপনায় ভরা সেই জগৎ ভাষার সীমানা পেরিয়ে দর্শকের আপন হয়ে উঠেছিল। দুই ভাইয়ের এই কাজ ভারতীয় টেলিভিশনের স্মৃতিতে আজও উজ্জ্বল।

পরবর্তী প্রজন্মের পরিচালকদের ছবিতেও নিজের জায়গা ধরে রেখেছেন তিনি। ‘গোধি বান্না সাধারাণা মাইকাট্টু’ ছবিতে আলঝাইমার্সে আক্রান্ত বাবার চরিত্রে তাঁর অভিনয় বিশেষ প্রশংসা পায়। ‘কেজিএফ: চ্যাপ্টার ওয়ান’-এ আনন্দ ইঙ্গলাগির ভূমিকাও নতুন দর্শকের কাছে তাঁকে পৌঁছে দেয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চরিত্র বদলেছে, কিন্তু পর্দায় তাঁর উপস্থিতির গুরুত্ব কমেনি। নতুন মুখের ভিড়েও অভিজ্ঞতার জোরে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় বজায় রেখেছেন অনন্ত।

অভিনয়ের বাইরে রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। কর্নাটকের বিধান পরিষদ ও বিধানসভার সদস্য হয়েছেন; বেঙ্গালুরুর নগরোন্নয়ন মন্ত্রীর দায়িত্বও সামলেছেন। তবে তাঁর সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী পরিচয় নির্মিত হয়েছে অভিনয়েই। মঞ্চ, বড় পর্দা এবং টেলিভিশন মিলিয়ে সেই পরিচয়ের বিস্তার কয়েক প্রজন্মজুড়ে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে সহজ অভিনয়, বহুমুখী প্রতিভা এবং চরিত্রে গভীরতা আনার ক্ষমতার প্রশংসা করেছেন। অনন্তের এই সম্মান একই সঙ্গে ভারতীয় চলচ্চিত্রের বহুভাষিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি। কন্নড় ছবিতে শিকড় রেখেও তিনি যে দেশজোড়া দর্শকের স্মৃতিতে জায়গা করে নিয়েছেন, তার পিছনে রয়েছে দীর্ঘ সাধনা এবং অভিনয়ের নিজস্ব ভাষা।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles