Home খবরদেশ স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লায় প্রথম বার ‘বন্দে মাতরম’, এ বারের উদ্‌যাপনের মুখ ‘যুবশক্তি’

স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লায় প্রথম বার ‘বন্দে মাতরম’, এ বারের উদ্‌যাপনের মুখ ‘যুবশক্তি’

Authored By নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়
12 views 3 minutes read
A+A-
Reset

স্বাধীনতা দিবসের চিরাচরিত অনুষ্ঠানে এ বার যোগ হচ্ছে নতুন অধ্যায়। আগামী ১৫ অগস্ট দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লায় স্বাধীনতা দিবসের মূল অনুষ্ঠানে প্রথম বার আনুষ্ঠানিক ভাবে গাওয়া হবে জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম’। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লালকেল্লার প্রাচীরে পৌঁছনোর পর প্রথমে ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশিত হবে। তার পর তিনি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবেন এবং দেশবাসীর উদ্দেশে স্বাধীনতা দিবসের ভাষণ দেবেন। প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিংহ সোমবার এ বছরের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানসূচি ঘোষণা করতে গিয়ে এই তথ্য জানিয়েছেন।

এই সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি। ১৮৭০-এর দশকে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা এই গান পরে তাঁর ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে স্থান পায় এবং ব্রিটিশ-বিরোধী জাতীয় আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মন্ত্রে পরিণত হয়। ২০২৬ সালে গানটির ১৫০ বছর উদ্‌যাপন করা হচ্ছে। প্রতিরক্ষা সচিবের বক্তব্য, স্বাধীনতা সংগ্রামে লক্ষ লক্ষ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা এই জাতীয় গানের দীর্ঘ ঐতিহ্যকে সম্মান জানাতেই লালকেল্লার স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে প্রথম বার এটি পরিবেশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানের ক্রমও নির্দিষ্ট করে দিয়েছে কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রী লালকেল্লার প্রাচীরে পৌঁছনোর পর ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনের সময় উপস্থিত সকলেই দাঁড়িয়ে থাকবেন। এর পর জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। শেষে প্রধানমন্ত্রী তাঁর স্বাধীনতা দিবসের ভাষণ দেবেন। প্রতি বছরের মতো এ বারও সেই ভাষণ থেকেই সরকারের আগামী দিনের অগ্রাধিকার এবং নীতিগত দিশা তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী।

‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তিকে আরও দৃশ্যমান করে তুলতে ভারতীয় বায়ুসেনার একটি এমআই-১৭ হেলিকপ্টার বিশেষ ব্যানার নিয়ে লালকেল্লার উপর দিয়ে উড়ে যাবে। সেই ব্যানারে থাকবে জাতীয় গানের দেড়শো বছর পূর্তির উল্লেখ। একই সঙ্গে হেলিকপ্টার থেকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত মানুষের উপর পুষ্পবৃষ্টিও করা হবে।

এ বারের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপনের আর একটি প্রধান বিষয় ‘যুবশক্তি’। ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার যে লক্ষ্য কেন্দ্র স্থির করেছে, সেখানে দেশের তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা তুলে ধরাই অনুষ্ঠানের অন্যতম উদ্দেশ্য। প্রতিরক্ষা সচিবের কথায়, উন্নত ভারত গড়ার যাত্রায় তরুণেরা যেমন প্রধান অবদানকারী হবেন, তেমনই সেই উন্নয়নের সুফলও তাঁরাই সবচেয়ে বেশি পাবেন।

তবে সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের আবহে ‘যুবশক্তি’-কে স্বাধীনতা দিবসের মূল বিষয় হিসেবে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে যন্তর মন্তরে ছাত্রদের আন্দোলনের পরে এই বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রতিরক্ষা সচিব অবশ্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, ছাত্র আন্দোলনের অনেক আগেই স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে যুবশক্তির সাফল্য তুলে ধরার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক কোনও রাজনৈতিক বা আন্দোলনগত ঘটনার সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের সম্পর্ক নেই।

দেশের তরুণদের সাফল্য তুলে ধরতে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে সফল ছাত্রছাত্রীদেরও বিশেষ ভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, জীববিদ্যা এবং গণিত অলিম্পিয়াডে পদকজয়ী ১৯ জন ভারতীয় পড়ুয়া লালকেল্লার অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। তাঁদের বসার ব্যবস্থা করা হবে লালকেল্লার প্রাচীরের বিশেষ অংশে। কেন্দ্রের মতে, বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে নতুন প্রজন্মের এই সাফল্যই ‘যুবশক্তি’-র অন্যতম প্রতীক।

সব মিলিয়ে প্রায় পাঁচ হাজার বিশেষ অতিথিকে এ বারের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা এবং ‘বিকশিত ভারত’-এর যাত্রায় ভূমিকা নেওয়া ব্যক্তিদের এই তালিকায় রাখা হয়েছে। অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রেও এ বার বিশেষ প্রতীকী বার্তা থাকছে। সেখানে ‘সেবা তীর্থ’ এবং ধর্মচক্রের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। সরকারের ব্যাখ্যায়, ধর্মচক্র কর্তব্য, নিরন্তর কর্ম এবং নিঃস্বার্থ সেবার প্রতীক।

বসার জায়গাগুলির নামকরণেও নতুনত্ব আনা হয়েছে। প্রজাতন্ত্র দিবসে ভিআইপি সংস্কৃতির বদলে সমতার বার্তা দিতে বিভিন্ন ঘেরাটোপের নাম দেশের নদীর নামে রাখা হয়েছিল। এ বার স্বাধীনতা দিবসে সেই আসনক্ষেত্রগুলির নাম রাখা হচ্ছে ভারতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ হ্রদের নামে।

লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকেও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাঁর আসন কোথায় হবে, তা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে প্রতিরক্ষা সচিব জানিয়েছেন, সরকারি ‘টেব্‌ল অব প্রিসিডেন্স’ কঠোর ভাবে অনুসরণ করা হবে। সেই ক্রম অনুযায়ী কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের পরেই বিরোধী দলনেতার আসন থাকবে।

ফলে এ বছরের লালকেল্লার অনুষ্ঠান শুধু স্বাধীনতার ৮০তম বর্ষ উদ্‌যাপনেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। বঙ্কিমচন্দ্রের ‘বন্দে মাতরম’-এর দেড়শো বছরের উত্তরাধিকার এবং দেশের নতুন প্রজন্মকে একই মঞ্চে এনে স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে ২০৪৭-এর ‘উন্নত ভারত’-এর লক্ষ্যকে যুক্ত করার চেষ্টা করছে কেন্দ্র। আর সেই আয়োজনেই সবচেয়ে বড় নতুন সংযোজন—স্বাধীনতা দিবসের সকালে লালকেল্লার প্রাচীর থেকে প্রথম বার ধ্বনিত হবে ‘বন্দে মাতরম’।

বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles