হাইলাইটস:

  • স্কুল নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে নতুন পদক্ষেপ ইডির।
  • অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা একটি সংস্থার আর্থিক নথি তলব।
  • সংস্থার আয়-ব্যয়, লেনদেন এবং অর্থের উৎস খতিয়ে দেখতে চাইছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
  • নিয়োগ দুর্নীতির অর্থপাচার সংক্রান্ত সূত্র খুঁজছে ইডি।
  • তৃণমূলের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই তদন্তকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

বাংলাস্ফিয়ার: পশ্চিমবঙ্গের বহুল আলোচিত স্কুল নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে ফের নতুন মোড় এল। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) এবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা একটি সংস্থার আর্থিক নথি ও হিসাবপত্র চেয়েছে। তদন্তকারীদের লক্ষ্য, এই সংস্থার মাধ্যমে কোনও আর্থিক অনিয়ম বা নিয়োগ দুর্নীতির অর্থের লেনদেন হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা।

সূত্রের খবর, ইডি সংশ্লিষ্ট সংস্থার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ, আয়কর রিটার্ন, শেয়ারহোল্ডিং প্যাটার্ন, আর্থিক লেনদেনের রেকর্ড এবং বিভিন্ন চুক্তিপত্র সংগ্রহ করতে উদ্যোগী হয়েছে। তদন্তকারীরা দেখতে চাইছেন, সংস্থার আর্থিক কার্যকলাপের সঙ্গে স্কুল নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কোনও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগাযোগ রয়েছে কি না।

স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি) এবং প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের নিয়োগ সংক্রান্ত অনিয়ম নিয়ে বহুদিন ধরেই তদন্ত চলছে। ইতিমধ্যে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা দফতরের একাধিক প্রাক্তন কর্তা এবং কয়েকজন মধ্যস্থতাকারীর বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দিয়েছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ, সোনা এবং সম্পত্তির হদিসও মিলেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

ইডির মতে, নিয়োগে দুর্নীতির মাধ্যমে যে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল, তার একটি অংশ বিভিন্ন সংস্থা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কিংবা বিনিয়োগ প্রকল্পের মাধ্যমে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। সেই কারণেই এখন আর্থিক লেনদেনের বিস্তৃত চিত্র সামনে আনার চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীরা বিশেষভাবে নজর দিচ্ছেন এমন সব সংস্থার উপর, যাদের আর্থিক বৃদ্ধি বা লেনদেনের ধরনে অস্বাভাবিকতা দেখা যাচ্ছে।

অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বারবার অভিযোগ করা হয়েছে যে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। দলের নেতাদের বক্তব্য, কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই বিরোধী রাজনৈতিক নেতৃত্বকে চাপে রাখার জন্য বারবার তদন্তের পরিধি বাড়ানো হচ্ছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও অতীতে একাধিকবার দাবি করেছেন যে তিনি তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই।

তবে ইডি সূত্রে দাবি, তদন্ত এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে আর্থিক লেনদেনের শৃঙ্খল অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সমস্ত নথি, ব্যাঙ্ক তথ্য এবং কর সংক্রান্ত রেকর্ড বিশ্লেষণ করা হবে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্তা ও আধিকারিকদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের পর এই মামলার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। একদিকে আদালতে চলমান আইনি লড়াই, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সংস্থার ধারাবাহিক তদন্ত— দুইয়ের ফলে নিয়োগ দুর্নীতি ইস্যু আবারও রাজ্যের রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

ইডির এই নতুন পদক্ষেপে তদন্ত কোন দিকে এগোয়, সংশ্লিষ্ট সংস্থার নথি থেকে কী তথ্য উঠে আসে এবং তা নিয়োগ দুর্নীতি মামলার সঙ্গে কতটা সম্পর্কযুক্ত বলে প্রমাণিত হয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের। তদন্তকারীদের মতে, আর্থিক নথির বিশ্লেষণই আগামী পর্যায়ের তদন্তের ভিত্তি নির্ধারণ করবে।