পশ্চিমবঙ্গে তোলাবাজির অভিযোগ নিয়ে বিজেপির অন্দরে বাড়তে থাকা বিতর্কের মধ্যে এবার কঠোর অবস্থান নিলেন দলের রাজ্য সভাপতি অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দলের কোনও কর্মী বা নেতা যদি তোলাবাজি, দুর্নীতি বা প্রভাব খাটিয়ে অর্থ আদায়ের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে প্রমাণিত হন, তবে তাঁকে কোনওভাবেই রেয়াত করা হবে না। প্রয়োজনে দল থেকে বহিষ্কারও করা হবে।
দলীয় সূত্রের খবর, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন জেলা থেকে বিজেপির কিছু কর্মী ও নেতার বিরুদ্ধে তোলাবাজি, ঠিকাদারদের উপর চাপ সৃষ্টি, সরকারি প্রকল্পে কমিশন দাবি এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে সংগঠনের ভাবমূর্তি রক্ষায় কড়া বার্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য নেতৃত্ব।
অগ্নিমিত্রা বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে মানুষের দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের প্রত্যাশা পূরণ করতে। তাই দলের কেউ যদি সেই আদর্শের বিরোধী কাজ করেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, অভিযোগ পেলেই তা যাচাই করা হবে এবং প্রমাণ মিললে বহিষ্কার-সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কোনও দ্বিধা থাকবে না।
রাজ্য সভাপতি আরও বলেন, বিরোধী অবস্থায় থাকাকালীন বিজেপি দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ‘তোলাবাজি’ ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে আন্দোলন করেছে। ফলে এখন বিজেপির কোনও কর্মীর বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ উঠলে তা দল কখনও মেনে নেবে না। দলের নৈতিক অবস্থান অক্ষুণ্ণ রাখতেই এই কড়া বার্তা।
দলীয় মহলের মতে, সরকার গঠনের পর দ্রুত সংগঠনের বিস্তার ঘটায় অনেক নতুন মুখ বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ ব্যক্তিস্বার্থে দলের নাম ব্যবহার করছেন কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। সেই কারণেই জেলা নেতৃত্বকে অভিযোগের বিষয়ে সতর্ক থাকতে এবং দ্রুত রিপোর্ট পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতায় আসার পর যে কোনও রাজনৈতিক দলের কাছেই সংগঠনকে নিয়ন্ত্রণে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। বিরোধী দল হিসেবে যে নৈতিক অবস্থান তুলে ধরা হয়েছিল, ক্ষমতায় এসে তা বাস্তবে প্রয়োগ করতে না পারলে জনসমর্থনে প্রভাব পড়তে পারে। সেই দিকটি মাথায় রেখেই অগ্নিমিত্রার এই কড়া অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য বিজেপির এই অবস্থানকে কটাক্ষ করেছে। তাদের দাবি, অভিযোগ শুধু সতর্কবার্তায় সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না, প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও নিতে হবে। অন্যদিকে বিজেপির বক্তব্য, অভিযোগ প্রমাণিত হলেই কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কোনও ব্যক্তি দলের ঊর্ধ্বে নন।
রাজনৈতিক মহলের নজর এখন এ দিকেই, রাজ্য সভাপতির এই সতর্কবার্তার পর অভিযোগের মুখে থাকা নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিজেপি বাস্তবে কতটা দ্রুত এবং কঠোর পদক্ষেপ করে। ক্ষমতাসীন দল হিসেবে নিজেদের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’র বার্তাকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলাই এখন বিজেপি নেতৃত্বের বড় পরীক্ষা।