হাইলাইটস
- জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা।
- IMD-র সতর্কতা: ৭ থেকে ১১ সেমি পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে।
- বজ্রবিদ্যুৎ ও দমকা হাওয়ার আশঙ্কাও থাকছে।
- নদী-সংলগ্ন ও নিচু এলাকায় সতর্ক থাকার পরামর্শ।
আবার বৃষ্টির ভ্রূকুটি উত্তরবঙ্গে। বর্ষা ঢোকার পর থেকেই পাহাড় ও ডুয়ার্স অঞ্চলে আর্দ্রতা বেড়েছে, তারই জেরে জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলায় ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি করেছে ভারতীয় আবহাওয়া দফতর। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই দুই জেলার এক-দু’টি জায়গায় ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, উত্তরবঙ্গে এই সময় বৃষ্টির প্রধান কারণ দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা। বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প ঢুকছে। সেই আর্দ্র বাতাস পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির সংস্পর্শে এসে দ্রুত মেঘ তৈরি করছে। ফলে ডুয়ার্স, তরাই এবং পাহাড়-সংলগ্ন এলাকায় বৃষ্টির তীব্রতা দক্ষিণবঙ্গের তুলনায় বেশি হতে পারে।
হলুদ সতর্কতা মানে আতঙ্ক নয়, কিন্তু সাবধান থাকা জরুরি। বিশেষ করে নদী-সংলগ্ন এলাকা, চা-বাগান অঞ্চল, নিচু গ্রাম, পাহাড়ি রাস্তা এবং জল জমে যাওয়ার প্রবণতা থাকা বাজার এলাকায় প্রশাসনকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। ভারী বৃষ্টির ফলে ছোট নদী ও ঝোরার জলস্তর আচমকা বাড়তে পারে। পাহাড়ি এলাকায় ধসের আশঙ্কাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ এবং দমকা হাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। খোলা মাঠে কাজ করা কৃষক, চা-বাগানের শ্রমিক, নদীতে মাছ ধরতে যাওয়া মানুষ এবং বাইক-যাত্রীদের বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বজ্রপাতের সময় গাছের নিচে আশ্রয় না নেওয়া, জলাশয়ের ধারে না থাকা এবং মোবাইল ফোন হাতে খোলা জায়গায় দাঁড়িয়ে না থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
দক্ষিণবঙ্গে আপাতত তুলনামূলকভাবে ছিটেফোঁটা বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি। কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বজায় থাকতে পারে। তবে উত্তরবঙ্গে আগামী কয়েক দিন বৃষ্টির প্রবণতা বেশি থাকবে বলেই পূর্বাভাস। IMD জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু পশ্চিমবঙ্গের বাকি অংশে আরও এগোনোর অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
প্রশাসনিক দিক থেকে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—আগাম সতর্কতা, জলনিকাশি ব্যবস্থা এবং নদী তীরবর্তী এলাকার নজরদারি। বর্ষার শুরুতেই উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির এই সতর্কতা মনে করিয়ে দিচ্ছে, প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই নয়, প্রস্তুতিই একমাত্র পথ।