বাংলাস্ফিয়ার: টাইফুন ডলফিনের প্রভাবে উষ্ণ বাতাস ধেয়ে আসায় ইতিহাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা নথিভুক্ত হল হংকংয়ে। রবিবার শহরের সরকারি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে তাপমাত্রা পৌঁছয় ৩৬.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ১৮৮৪ সালে আবহাওয়ার নথি রাখা শুরু হওয়ার পর গত ১৪২ বছরে এটিই হংকংয়ের সর্বোচ্চ সরকারি তাপমাত্রা।
হংকং অবজারভেটরি জানিয়েছে, রবিবার বিকেলে তাদের সদর দফতরে ৩৬.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা নথিভুক্ত হয়। এর আগে হংকংয়ের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ছিল ৩৬.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২০১৭ সালের ২২ অগস্ট টাইফুন হাতো আঘাত হানার ঠিক আগে সেই তাপমাত্রা নথিভুক্ত হয়েছিল।
টাইফুন ডলফিন এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সপ্তাহান্ত জুড়ে গোটা অঞ্চলে প্রচণ্ড গরম বেড়েছে। চিনের পূর্ব উপকূলে ঝড় আছড়ে পড়ার আগে ব্যাপক ভাবে বিমান চলাচল বাতিল করতে হয়েছে এবং বিপুল সংখ্যক মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
হংকংয়ের সরকারি রেকর্ডের ক্ষেত্রে অবজারভেটরির সদর দফতরের তাপমাত্রাকেই মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয়। তবে ঘনবসতিপূর্ণ এই আর্থিক কেন্দ্রের বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি উঠে যায়।
শহরের উত্তরাংশের শেউং শুই এলাকার একটি আবহাওয়া কেন্দ্রে তাপমাত্রা পৌঁছয় ৩৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। হংকং অবজারভেটরির বক্তব্য, আশির দশকে স্বয়ংক্রিয় আবহাওয়া কেন্দ্র চালু হওয়ার পর শহরের কোথাও এত বেশি তাপমাত্রা আগে নথিভুক্ত হয়নি।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, টাইফুন ডলফিন ঝেজিয়াংয়ের দিকে অগ্রসর হয়ে স্থলভাগের ভিতরে ঢুকে পড়লেও তার বাইরের অংশের নিম্নমুখী বায়ুপ্রবাহ সোমবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত হংকংয়ে অত্যন্ত গরম আবহাওয়া বজায় রাখবে।
রবিবার হংকংয়ে ‘অত্যন্ত গরম আবহাওয়ার সতর্কতা’ জারি করা হয়। বাসিন্দাদের পর্যাপ্ত জল পান করতে এবং বাইরে কঠোর শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ডলফিন ইতিমধ্যেই চিনের মূল ভূখণ্ডে আছড়ে পড়েছে। হংকং থেকে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে ঝেজিয়াং প্রদেশের ইউহুয়ানের কাছে রবিবার স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ ঝড়টি স্থলভাগে প্রবেশ করে বলে জানিয়েছে চিনের আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ।
স্থলভাগে আছড়ে পড়ার সময় ডলফিনের কেন্দ্রের কাছে বাতাসের সর্বোচ্চ স্থায়ী গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৫১ কিলোমিটার। স্যাফির-সিম্পসন মাপকাঠি অনুযায়ী এই শক্তি প্রথম শ্রেণির হারিকেনের সমতুল্য।
বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করছেন, মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বজুড়ে চরম তাপপ্রবাহের ঘটনা আরও ঘন ঘন ঘটছে এবং তার তীব্রতাও বাড়ছে। হংকংয়ের ১৪২ বছরের তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙে যাওয়ার ঘটনাটি সেই বৃহত্তর উদ্বেগকেই আরও সামনে নিয়ে এল।