সংসদীয় কমিটিতে বিদ্রোহী ২০ সাংসদকে নয়, লোকসভা সচিবালয়কে চিঠি অভিষেকের

যা জানা জরুরি
- বাংলাস্ফিয়ারঃ দল ছেড়ে অন্য শিবিরে যাওয়া ২০ সাংসদকে সংসদীয় কমিটিতে জায়গা না দেওয়ার অনুরোধ জানাল তৃণমূল কংগ্রেস।
- লোকসভায় দলের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই মর্মে লোকসভা সচিবালয়কে চিঠি দিয়েছেন।
- তাঁর বক্তব্য, ওই সাংসদদের বিরুদ্ধে সদস্যপদ খারিজের প্রক্রিয়া চলছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
বাংলাস্ফিয়ারঃ দল ছেড়ে অন্য শিবিরে যাওয়া ২০ সাংসদকে সংসদীয় কমিটিতে জায়গা না দেওয়ার অনুরোধ জানাল তৃণমূল কংগ্রেস। লোকসভায় দলের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই মর্মে লোকসভা সচিবালয়কে চিঠি দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ওই সাংসদদের বিরুদ্ধে সদস্যপদ খারিজের প্রক্রিয়া চলছে। তাই বিভিন্ন কমিটির সদস্য মনোনয়নের সময় তাঁদের নাম বিবেচনা করা উচিত নয়। তবে সংসদীয় বিধি ও সদস্যদের প্রাপ্য সুযোগের কারণে তৃণমূলের এই অনুরোধ কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
তৃণমূলের বিদ্রোহী ওই সাংসদেরা ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া বা এনসিপিআইয়ে যোগ দিয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগের অভিযোগে ব্যবস্থা চায় তৃণমূল নেতৃত্ব। সেই বিরোধের মধ্যেই সংসদীয় কমিটি পুনর্গঠনের সময় তাঁদের বাদ দেওয়ার দাবি উঠল। ফলে দলের অভ্যন্তরের ভাঙনের প্রভাব এসে পড়েছে সংসদের কমিটিগুলিতে প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নেও।
প্রতি বছর এই সময়ে সংসদের বিভিন্ন কমিটি নতুন করে গঠন করা হয়। লোকসভার অধ্যক্ষ এবং রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলির সদস্য মনোনয়নের দায়িত্ব পালন করেন। সাধারণত অধিকাংশ সদস্য আগের কমিটিতেই থেকে যান। তবে শূন্যপদ তৈরি হলে, কোনও সদস্যের মেয়াদ শেষ হলে অথবা কোনও সাংসদ মন্ত্রী হলে সদস্যবিন্যাসে পরিবর্তন আসে। সেই অনুযায়ী কিছু সাংসদকে এক কমিটি থেকে অন্য কমিটিতে পাঠানো হয়।
এই বার্ষিক প্রক্রিয়ার অঙ্গ হিসেবেই ২৪টি স্থায়ী কমিটির জন্য তৃণমূলের মনোনীত সদস্যদের নাম চেয়ে অভিষেককে চিঠি দিয়েছিল লোকসভা সচিবালয়। তার উত্তরে তিনি বিদ্রোহী সাংসদদের অন্তর্ভুক্ত না করার অনুরোধ জানান। অর্থাৎ, দলের প্রতিনিধিদের নাম পাঠানোর প্রথাগত প্রক্রিয়াকেই নেতৃত্ব বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে নিজেদের আপত্তি নথিভুক্ত করার জন্য ব্যবহার করেছে।
তৃণমূলের এক প্রবীণ পদাধিকারী জানিয়েছেন, প্রচলিত রীতি মেনেই সচিবালয় অভিষেকের কাছে কমিটির সদস্যদের নাম চেয়েছিল। অভিষেক জানান, ওই ২০ বিদ্রোহীর বিরুদ্ধে সদস্যপদ খারিজের প্রক্রিয়া চলায় তাঁদের কমিটিতে রাখা উচিত হবে না। দলীয় সূত্রের এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট, তৃণমূল কমিটিতে মনোনয়নের প্রশ্নটিকে সাংসদদের বিরুদ্ধে চলতে থাকা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে চাইছে।
কিন্তু এখানেই রয়েছে সংসদীয় বিধির প্রশ্ন। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, একজন সাংসদের একটি স্থায়ী কমিটি এবং একটি পরামর্শদাতা কমিটির সদস্য হওয়ার সুযোগ রয়েছে। সেই কারণে কেবল দলীয় নেতৃত্বের আপত্তির ভিত্তিতে বিদ্রোহী সাংসদদের কমিটির বাইরে রাখা সহজ হবে না। তাঁদের বিরুদ্ধে সদস্যপদ খারিজের প্রক্রিয়া চলার কথা বলা হয়েছে; সদস্যপদ ইতিমধ্যে খারিজ হয়ে গিয়েছে, এমন তথ্য প্রতিবেদনে নেই।
তাই এই ঘটনায় দুটি পৃথক বিষয় সামনে আসছে। প্রথমটি, দল নিজের প্রতিনিধি হিসেবে কাদের নাম সুপারিশ করবে। দ্বিতীয়টি, সাংসদ হিসেবে কোনও সদস্য সংসদীয় কাজে অংশ নেওয়ার কী সুযোগ পাবেন। অভিষেকের চিঠি প্রথম প্রশ্নে তৃণমূলের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। কিন্তু সেই অবস্থান মেনেই দ্বিতীয় প্রশ্নের নিষ্পত্তি হবে কি না, তা নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট বিধি এবং সংসদীয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের উপর।
তৃণমূলের কাছে বিষয়টির রাজনৈতিক তাৎপর্যও রয়েছে। অন্য দলে যোগ দেওয়ার পরেও বিদ্রোহীরা সংসদীয় কমিটিতে স্থান পেলে, তাঁদের বিরুদ্ধে নেতৃত্বের আপত্তি সত্ত্বেও সংসদীয় দায়িত্ব পালনের সুযোগ বজায় থাকবে। অভিষেকের আবেদনে সেই সম্ভাবনা আটকানোর চেষ্টা স্পষ্ট। অন্য দিকে, কমিটি পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় দলীয় সুপারিশের পাশাপাশি সদস্যদের সংসদীয় অবস্থানও বিবেচনার বিষয় হয়ে উঠছে।
আপাতত লোকসভা সচিবালয় অভিষেকের আবেদনের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার উল্লেখ পাওয়া যায়নি। বিদ্রোহী সাংসদদের প্রতিক্রিয়াও দেওয়া হয়নি। ফলে তাঁদের কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে বলে এখনই সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর অবকাশ নেই। তৃণমূলের দাবি নথিভুক্ত হয়েছে; কিন্তু কমিটির সদস্যপদ এবং দলত্যাগের অভিযোগে সাংসদপদ খারিজের প্রশ্ন শেষ পর্যন্ত কী ভাবে বিবেচিত হবে, নজর এখন সেদিকেই।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



