Home খবর টাইফুন ‘ডলফিন’-এর তাণ্ডব: চিনে সরানো হল ১০ লক্ষেরও বেশি মানুষ

টাইফুন ‘ডলফিন’-এর তাণ্ডব: চিনে সরানো হল ১০ লক্ষেরও বেশি মানুষ

সাংহাইয়ে ১৫০ বছরের বৃষ্টির রেকর্ড ভাঙল

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
3 views 2 minutes read
A+A-
Reset

বাংলাস্ফিয়ার: পূর্ব চিনে শক্তিশালী টাইফুন ‘ডলফিন’-এর আঘাতের মুখে রবিবার সন্ধ্যার মধ্যেই ১০ লক্ষের বেশি মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রবল বৃষ্টির জেরে ব্যাপক বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ঝড়টি ক্রমশ উত্তর দিকে এবং দেশের অভ্যন্তরে এগিয়ে যাওয়ায় আগামী কয়েক দিন পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছে প্রশাসন।

ঝেজিয়াং প্রদেশের উপকূলবর্তী শহর ওয়েনঝৌ জানিয়েছে, সেখান থেকে ৯ লক্ষের বেশি মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরানো হয়েছে। দুর্গতদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য খোলা হয়েছে ১,৫০০টিরও বেশি জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র। প্রতিবেশী ফুজিয়ান প্রদেশের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সরানো হয়েছে ৯৮,৯০০ জনকে।

সাংহাইয়েও বড় আকারে মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত শহরের ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল থেকে ২ লক্ষ ১৫ হাজার ৬০০ জনকে সরিয়েছে প্রশাসন। এর আগে এই সংখ্যা ৩০,৩০০ বলে জানানো হয়েছিল। পরিস্থিতির দ্রুত অবনতির সঙ্গে সঙ্গে সরিয়ে নেওয়ার কাজের পরিধি বাড়ানো হয়।

সাংহাইয়ের কেন্দ্রস্থলের একটি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে গত ২৪ ঘণ্টায় যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, তা গত ১৫০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। চিনের আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস, আগামী কয়েক দিনে কোনও কোনও এলাকায় ২০০ থেকে ৪০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে।

সোমবার ভোর ৫টা নাগাদ ডলফিন দ্রুত শক্তি হারিয়ে ক্রান্তীয় ঝড়ে পরিণত হয়। কিন্তু তাতেও বিপদ কাটেনি। ঝড়টি উত্তর দিকে এবং দেশের আরও অভ্যন্তরে এগিয়ে চলায় পূর্ব ও মধ্য চিনের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে প্রবল বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। শানডং পর্যন্ত উত্তরের এলাকাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। হেনান, হুবেই, আনহুই, জিয়াংসু, ঝেজিয়াং এবং সাংহাইয়ে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

প্রশাসনের সতর্কবার্তা, বুধবার পর্যন্ত একটানা প্রবল বৃষ্টি চললে বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যা ও ভূমিধস হতে পারে। ভারী বৃষ্টির সময় বাসিন্দাদের যথাসম্ভব ঘরের ভিতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ডলফিনের প্রভাবে সাংহাইয়ের দুই বিমানবন্দরে বিমান চলাচলও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ১,৩০০টিরও বেশি উড়ান বাতিল করতে হয়েছে।

চিনে পৌঁছনোর আগে ডলফিন জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওকিনাওয়া প্রিফেকচারের উপর দিয়ে বয়ে যায়। সেখানে ছয় জন আহত হন এবং ৫০ হাজারেরও বেশি বাড়ি ও ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

ফিলিপিন্সের উত্তরাঞ্চলে ডলফিন সরাসরি আছড়ে না পড়লেও তার প্রভাবে মৌসুমি বৃষ্টি আরও তীব্র হয়। প্রধান দ্বীপ লুজনের বিস্তীর্ণ এলাকা, এমনকি ম্যানিলার আশপাশেও বন্যা দেখা দেয়।

বিজ্ঞানীদের মতে, বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে চরম আবহাওয়ার ঘটনা ক্রমশ বেশি ঘটছে। একই সঙ্গে শক্তিশালী টাইফুনের মতো ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকিও বেড়ে চলেছে।

বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles