হাইলাইটস
- উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় টানা বর্ষণের পূর্বাভাস।
- পাহাড়ি এলাকায় আচমকা বন্যা ও ধসের ঝুঁকি বেড়েছে।
- উত্তর-পূর্ব ভারত এবং উপ-হিমালয় সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিমে আগামী কয়েক দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা।
- নদী, ঝরনা ও পাহাড়ি নালার জলস্তর দ্রুত বাড়তে পারে বলে সতর্কতা।
- পর্যটক, তীর্থযাত্রী ও পাহাড়ি অঞ্চলের বাসিন্দাদের বিশেষ সতর্ক থাকার নির্দেশ।
উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বৃষ্টির দাপট আপাতত থামার কোনও লক্ষণ নেই। বরং আগামী কয়েক দিন বৃষ্টি আরও জোরদার হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ভারতীয় আবহাওয়া দফতর। বিশেষ করে হিমালয় সংলগ্ন রাজ্য, উত্তর-পূর্ব ভারত এবং উপ-হিমালয় অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনার পাশাপাশি আচমকা বন্যা, ভূমিধস এবং নদীর জলস্তর দ্রুত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, মৌসুমি বায়ু এখন সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। এর সঙ্গে নিম্নচাপীয় পরিস্থিতি এবং আর্দ্র বায়ুর প্রবাহ মিলিত হওয়ায় উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় ধারাবাহিক বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ফলে পাহাড়ি এলাকায় অল্প সময়ে অতিবৃষ্টির ঘটনা ঘটতে পারে, যা আচমকা বন্যা ও ধসের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয় পাহাড়ি নদী ও ঝরনাগুলি। ভারী বৃষ্টির ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই এগুলির জলস্তর বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যেতে পারে। বহু এলাকায় নদীর তীরবর্তী বসতি, সেতু, গ্রামীণ সড়ক এবং কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নিচু এলাকায় জল জমে যোগাযোগও ব্যাহত হতে পারে। উপ-হিমালয় সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিমেও আগামী কয়েক দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারের বিভিন্ন এলাকায় প্রবল বর্ষণের সম্ভাবনা থাকায় প্রশাসনকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিস্তা, তোর্সা, জলঢাকা-সহ একাধিক নদীর জলস্তরের উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
উত্তর-পূর্ব ভারতের অরুণাচল প্রদেশ, অসম, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, মিজোরাম ও ত্রিপুরাতেও একই ধরনের সতর্কতা জারি হয়েছে। কোথাও কোথাও অত্যন্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই অরুণাচল প্রদেশে প্রবল বর্ষণের জেরে প্রাণহানির খবর মিলেছে, যা পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আচমকা বন্যা সাধারণ বন্যার তুলনায় অনেক বেশি বিপজ্জনক। কারণ কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাহাড়ি ঢল নেমে নদী ফুলে-ফেঁপে ওঠে। অনেক সময় শুকনো নালা বা ছোট খালও মুহূর্তে স্রোতস্বিনী হয়ে ওঠে। ফলে নদীর ধারে, পাহাড়ি গিরিখাত বা ঝরনার কাছাকাছি অবস্থান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।
আবহাওয়া দফতর পর্যটকদেরও সতর্ক করেছে। পাহাড়ি এলাকায় বেড়াতে গেলে আবহাওয়ার সর্বশেষ পূর্বাভাস জেনে তবেই যাত্রা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভারী বৃষ্টির সময় অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ, ট্রেকিং বা নদীর ধারে অবস্থান এড়াতে বলা হয়েছে। ভূমিধসপ্রবণ এলাকায় রাতের যাত্রাও নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন রাজ্যে দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য বন্যা ও ধসের এলাকায় উদ্ধারকারী দল, নৌকা, খাদ্যসামগ্রী ও চিকিৎসা পরিষেবা প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনকে নদীর বাঁধ, সেতু ও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কৃষিক্ষেত্রেও এই অতিবৃষ্টি মিশ্র প্রভাব ফেলতে পারে। একদিকে বর্ষার জল চাষের জন্য উপকারী হলেও, দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা ধান, শাকসবজি ও অন্যান্য ফসলের ক্ষতি করতে পারে। পাহাড়ি অঞ্চলে চা-বাগানেও ভূমিধস ও অতিবৃষ্টির প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।আবহাওয়া দফতরের পরামর্শ, ভারী বৃষ্টির সময় নদী, খাল বা জলপ্রবাহ অতিক্রমের চেষ্টা করা উচিত নয়। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা মাথায় রেখে প্রয়োজনীয় ওষুধ, পানীয় জল, শুকনো খাবার ও জরুরি সামগ্রী মজুত রাখতে বলা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় অবস্থান বজায় থাকায় উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল, উত্তর-পূর্ব ভারত এবং উপ-হিমালয় অঞ্চলে আপাতত বৃষ্টির বিরতির সম্ভাবনা খুবই কম। ফলে আগামী কয়েক দিন আবহাওয়ার প্রতিটি বুলেটিনের দিকে নজর রাখা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলাই হবে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।