Table of Contents
বিজয়কে বিদায় জানাতে যেন উৎসবে মেতেছে গোটা দক্ষিণ ভারত!
থালাপতি বিজয়ের বহু প্রতীক্ষিত ছবি ‘জন নায়গন’ মুক্তি পাওয়ার পর শুধু বক্স অফিসেই নয়, প্রেক্ষাগৃহের বাইরেও তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন উন্মাদনা। সক্রিয় রাজনীতিতে পূর্ণসময়ের জন্য যোগ দেওয়ার আগে এটিই বিজয়ের শেষ ছবি—এই আবেগই মুক্তির দিন দর্শকদের উচ্ছ্বাসকে অন্য মাত্রা দিয়েছে।
ভোর না হতেই তামিলনাড়ুর বিভিন্ন শহরের সিনেমা হলের সামনে জমে যায় ভক্তদের ভিড়। কারও হাতে বিজয়ের বিশাল কাটআউট, কারও হাতে ব্যানার ও পতাকা। কোথাও ঢাক-ঢোল, কোথাও আতশবাজি, আবার কোথাও প্রিয় তারকার কাটআউটে দুধ ঢেলে ‘অভিষেক’।
নাচ, গান আর স্লোগানে বহু প্রেক্ষাগৃহের বাইরের পরিবেশ কার্যত উৎসবের চেহারা নেয়। সেই উন্মাদনার ছবি এবং ভিডিও মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে।
তবে এই উচ্ছ্বাস শুধু তামিলনাড়ুতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। কেরল, কর্নাটক, অন্ধ্রপ্রদেশের পাশাপাশি সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং ইউরোপের একাধিক শহরেও বিজয়-ভক্তদের একই রকম উন্মাদনা দেখা গিয়েছে।
মুক্তির আগেই বক্স অফিসে বড় দৌড়
প্রযোজনা সংস্থার দাবি, অগ্রিম টিকিট বিক্রিতেও একাধিক নজির তৈরি করেছে ‘জন নায়গন’।
মুক্তির আগেই বিপুল সংখ্যক টিকিট বিক্রি হয়ে যায়। প্রথম দিনের অধিকাংশ শো দ্রুত হাউসফুল হয়ে যাওয়ায় দর্শকদের চাহিদা মেটাতে একাধিক প্রেক্ষাগৃহে অতিরিক্ত শো চালু করতে হয়।
ফলে মুক্তির প্রথম দিন থেকেই ছবিটিকে ঘিরে বক্স অফিসে বড়সড় প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
দর্শকের প্রতিক্রিয়ায় উচ্ছ্বাস
ছবির গল্প, অ্যাকশন এবং বিজয়ের পর্দা উপস্থিতি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
সমালোচকদের একাংশের মতে, ‘জন নায়গন’ কেবল একটি বাণিজ্যিক ছবি নয়—এটি বিজয়ের দীর্ঘ অভিনয়জীবনের প্রতি এক ধরনের শ্রদ্ধার্ঘ্যও।
ছবির সংলাপ, রাজনৈতিক ইঙ্গিতপূর্ণ দৃশ্য এবং আবেগঘন মুহূর্ত দর্শকদের সঙ্গে সহজেই সংযোগ তৈরি করেছে বলে মত অনেকের।
শুধু তারকা নন, এখন তিনি রাজনৈতিক মুখও
বিশ্লেষকদের মতে, ‘জন নায়গন’-এর বিপুল আগ্রহের অন্যতম বড় কারণ বিজয়ের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা।
তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম বড় তারকা। অভিনয়ের পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পদক্ষেপ তাঁকে আরও বড় জনপরিচিতি দিয়েছে।
ফলে তাঁর শেষ ছবিকে ঘিরে আগ্রহ ছিল দ্বিমুখী—একদিকে সাধারণ সিনেমাপ্রেমীদের আবেগ, অন্যদিকে তাঁর রাজনৈতিক সমর্থকদের উচ্ছ্বাস।
এই দুই আবেগ একসঙ্গে মিশেই ‘জন নায়গন’-কে একটি বড় ‘ইভেন্ট সিনেমা’-য় পরিণত করেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারেও জোরালো সাড়া
চলচ্চিত্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মতে, দেশীয় বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও ছবিটি ভালো সাড়া পাচ্ছে।
তামিল ভাষাভাষী দর্শকদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ দেখা যাচ্ছে উত্তর আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে। একাধিক জায়গায় দর্শকদের চাহিদা মেটাতে অতিরিক্ত শো যোগ করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
ফলে প্রথম সপ্তাহেই ছবিটি বিশ্বব্যাপী বড় অঙ্কের ব্যবসা করতে পারে বলে আশা করছেন বাণিজ্য বিশ্লেষকরা।
ওটিটির যুগেও বড় পর্দার জাদু অটুট
শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘জন নায়গন’ আরও একবার প্রমাণ করল—বড় তারকাকে ঘিরে তৈরি ‘ইভেন্ট সিনেমা’-র আকর্ষণ এখনও অটুট।
ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জনপ্রিয়তা যতই বাড়ুক, প্রিয় তারকাকে বড় পর্দায় দেখার অভিজ্ঞতার কোনও বিকল্প নেই।
আর সেই ছবি যদি হয় কোনও তারকার বিদায়ী অধ্যায়, তাহলে দর্শকদের আবেগ স্বাভাবিকভাবেই আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
‘এটা শুধু সিনেমা নয়’
অনেক দর্শকের কাছেই ‘জন নায়গন’ শুধুমাত্র একটি নতুন ছবি নয়।
এটি বিজয়ের দীর্ঘ চলচ্চিত্রজীবনের উদ্যাপন।
তাঁর অসংখ্য জনপ্রিয় চরিত্র, সংলাপ এবং তারকাখ্যাতির স্মৃতি যেন এই ছবির সঙ্গে নতুন করে ফিরে এসেছে।
সিনেমা হল থেকে বেরিয়ে অনেক অনুরাগীকেই আবেগপ্রবণ হতে দেখা গিয়েছে। তাঁদের কথায়, “এটা শুধু একটা সিনেমা নয়। বড় পর্দায় আমাদের প্রিয় নায়ককে শেষবার দেখার অভিজ্ঞতা।”
বক্স অফিসের চূড়ান্ত অঙ্ক কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা সময়ই বলবে।
তবে একটি বিষয় ইতিমধ্যেই স্পষ্ট—‘জন নায়গন’ শুধু ব্যবসার গল্প নয়। এটি এক তারকা এবং তাঁর দর্শকদের মধ্যে কয়েক দশকের আবেগের সম্পর্কের উদ্যাপন।
তাই ছবিটির সাফল্য ব্যাখ্যা করতে ‘ব্লকবাস্টার’ শব্দটিও হয়তো যথেষ্ট নয়।
বিজয়ের বিদায়ে ‘জন নায়গন’ সত্যিই যেন বক্স অফিসে এক উৎসব।