Home খবর অপারেশন চেকমেট’-এ ধরা পড়লেন ৩০ ভারতীয়: আমেরিকায় বেআইনি ট্রাকচালকদের বিরুদ্ধে বড় অভিযান

অপারেশন চেকমেট’-এ ধরা পড়লেন ৩০ ভারতীয়: আমেরিকায় বেআইনি ট্রাকচালকদের বিরুদ্ধে বড় অভিযান

by বাংলাস্ফিয়ার
0 comments 6 views 3 minutes read
A+A-
Reset

হাইলাইটস:

  • মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ‘অপারেশন চেকমেট’ নামে বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ৫২ জন।
  • তাঁদের মধ্যে প্রায় ৩০ জন ভারতীয় নাগরিক।
  • অধিকাংশের বিরুদ্ধে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বাণিজ্যিক ট্রাক চালানোর অভিযোগ।
  • অ্যারিজোনার ইউমা সীমান্ত অঞ্চলে ১১ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত চলে অভিযান।
  • গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে নির্বাসন বা বহিষ্কারের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বেআইনি অভিবাসন রোধে আরও কঠোর অবস্থান নিল ফেডারেল প্রশাসন। ‘অপারেশন চেকমেট’ নামে একটি বিশেষ অভিযানে প্রায় ৩০ জন ভারতীয় নাগরিক-সহ মোট ৫২ জনকে গ্রেফতার করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ, তাঁরা বৈধ কর্মসংস্থান ও অভিবাসন নথি ছাড়াই বাণিজ্যিক ট্রাকচালক হিসেবে কাজ করছিলেন।

অভিযানটি পরিচালিত হয় ১১ মে থেকে ১৫ মে পর্যন্ত অ্যারিজোনার ইউমা সেক্টরে। মার্কিন সীমান্তরক্ষী বাহিনী, অভিবাসন ও শুল্ক দফতর এবং অন্যান্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার যৌথ উদ্যোগে এই অভিযান চালানো হয়। প্রশাসনের দাবি, দেশের সড়ক নিরাপত্তা এবং অভিবাসন আইন কার্যকর করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

মার্কিন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের অধিকাংশই ভারী বাণিজ্যিক ট্রাক বা সেমি-ট্রেলার চালাচ্ছিলেন। কিন্তু তাঁদের অনেকেরই প্রয়োজনীয় লাইসেন্স, বৈধ কর্মসংস্থানের অনুমতি কিংবা অভিবাসন সংক্রান্ত নথিপত্র ছিল না। ফলে শুধু অভিবাসন আইন নয়, পরিবহণ সংক্রান্ত নিরাপত্তা বিধিও লঙ্ঘিত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকার ট্রাক পরিবহণ শিল্পে দীর্ঘদিন ধরেই শ্রমিকের ঘাটতি রয়েছে। এই সুযোগে অনেক অসাধু নিয়োগকারী সংস্থা বা ঠিকাদার বেআইনি অভিবাসীদের কাজে লাগায়। কম মজুরিতে দীর্ঘ সময় কাজ করানোর জন্য এ ধরনের শ্রমিকদের ব্যবহার করা হয়। ফলে একদিকে শ্রমবাজারে অসাম্য তৈরি হয়, অন্যদিকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারতীয় নাগরিকদের মধ্যে মার্কিন সীমান্ত অবৈধভাবে অতিক্রম করার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষত মেক্সিকো সীমান্ত হয়ে আমেরিকায় প্রবেশের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় ওয়াশিংটন প্রশাসন বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। সীমান্তরক্ষী সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে দক্ষিণ সীমান্তে আটক ভারতীয় নাগরিকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে ‘অপারেশন চেকমেট’ শুধু একটি আইনপ্রয়োগকারী অভিযান নয়, বরং একটি রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে। প্রেসিডেন্ট প্রশাসন স্পষ্ট করতে চাইছে যে, অবৈধ অভিবাসন এবং অননুমোদিত কর্মসংস্থানের বিরুদ্ধে তারা আপসহীন অবস্থান গ্রহণ করেছে। বিশেষত পরিবহণ, নির্মাণ এবং কৃষিক্ষেত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে বেআইনি শ্রমিক নিয়োগের বিষয়টি এখন নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে।

গ্রেফতার হওয়া ভারতীয়দের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিবাসন আদালতে মামলা চলতে পারে। যদি বৈধ নথি বা বসবাসের অনুমতি না থাকে, তাহলে তাঁদের নির্বাসনের মুখোমুখি হতে হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের সুযোগ থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বহিষ্কারের সম্ভাবনা প্রবল বলে মনে করছেন অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞরা।

ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এখনও এই ঘটনার বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়নি। তবে অতীতে এ ধরনের ঘটনায় ভারতীয় দূতাবাস সংশ্লিষ্ট নাগরিকদের কনস্যুলার সহায়তা প্রদান করেছে। এবারও প্রয়োজনে সেই ধরনের সহায়তা দেওয়া হতে পারে।

এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল, বিদেশে উন্নত জীবনের আশায় অবৈধ পথে পাড়ি দেওয়ার ঝুঁকি কতটা বড় হতে পারে। মানবপাচারকারী চক্রের প্রলোভনে পড়ে বা ভুয়ো প্রতিশ্রুতির ফাঁদে আটকে অনেকেই বিপজ্জনক পথ বেছে নিচ্ছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁদের অনেকেরই পরিণতি হচ্ছে গ্রেফতার, আইনি জটিলতা এবং সম্ভাব্য বহিষ্কার।

মার্কিন প্রশাসনের এই অভিযান থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট— অভিবাসন আইন লঙ্ঘন করে কর্মসংস্থান পাওয়ার সুযোগ ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে। বিশেষ করে জননিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত পেশাগুলিতে নজরদারি আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। আর সেই কারণেই ‘অপারেশন চেকমেট’ ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর আকারে পরিচালিত হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।

Author

You may also like

Leave a Comment

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles