Home খবর রামের তহবিলে চুরি, পুলিশ সক্রিয়

রামের তহবিলে চুরি, পুলিশ সক্রিয়

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
19 views 2 minutes read
A+A-
Reset

হাইলাইটস

  • রামমন্দিরের অনুদান আত্মসাৎ মামলায় গ্রেপ্তার ৮ জনের বাড়িতে একযোগে তল্লাশি।
  • অভিযুক্তদের সম্পত্তি, ব্যাঙ্ক লেনদেন ও গত কয়েক বছরের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
  • পরিবার ও প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ‘হঠাৎ সম্পদ বৃদ্ধির’ তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
  • তদন্তকারীদের দাবি, উদ্ধার হওয়া অর্থের পাশাপাশি আরও বড় আর্থিক জালিয়াতির সূত্র মিলতে পারে।
  • আদালতে হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন জানাতে পারে পুলিশ।

অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের অনুদান আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার আট অভিযুক্তকে ঘিরে তদন্ত আরও জোরদার করেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। রবিবার সকালে অভিযুক্তদের প্রত্যেকের বাড়িতে একযোগে তল্লাশি চালানো হয়। পুলিশের একাধিক দল, স্থানীয় ম্যাজিস্ট্রেট এবং রাজস্ব বিভাগের প্রতিনিধিরা এই অভিযানে অংশ নেন। তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য, অনুদানের অর্থ কোথায় গিয়েছে, সেই অর্থ দিয়ে কী কী সম্পত্তি কেনা হয়েছে এবং এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত কি না, তা খুঁজে বের করা।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া আটজনই রামমন্দিরের দানবাক্স থেকে সংগৃহীত নগদ অর্থ গণনার কাজে যুক্ত ছিলেন। অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে তাঁরা অনুদানের অর্থের একটি অংশ আত্মসাৎ করতেন। সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রাথমিক তদন্তে সেই অভিযোগের সমর্থনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার পর তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয় এবং গ্রেপ্তার করা হয়। ইতিমধ্যেই প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।  তল্লাশির সময় পুলিশ শুধু বাড়িঘরই নয়, জমি, বাড়ি, গাড়ি, ব্যাঙ্ক হিসাব, বিনিয়োগ এবং সাম্প্রতিক আর্থিক লেনদেনের তথ্যও সংগ্রহ করছে। অভিযুক্তদের পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিবেশীদের কাছ থেকেও জানা হচ্ছে, গত কয়েক বছরে তাঁদের জীবনযাত্রায় কোনও অস্বাভাবিক পরিবর্তন এসেছিল কি না। তদন্তকারীদের ধারণা, বৈধ আয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য না থাকলে তা মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হয়ে উঠতে পারে।

তদন্তে উঠে এসেছে, অন্তত একজন অভিযুক্তের আর্থিক অবস্থায় হঠাৎ উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছিল। আগে সাধারণ জীবনযাপন করলেও পরে দামি বাড়ি, গাড়ি ও অন্যান্য সম্পদ কেনার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই সম্পদের উৎস নির্ধারণের জন্য নথিপত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে আর্থিক বিশেষজ্ঞদেরও যুক্ত করা হতে পারে।  পুলিশের সন্দেহ, এটি বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়। অনুদান সংগ্রহ, গণনা, সংরক্ষণ এবং ব্যাঙ্কে জমা দেওয়ার পুরো ব্যবস্থার মধ্যেই কোথাও বড় ধরনের দুর্বলতা ছিল কি না, তা তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। সেই কারণে ব্যাঙ্কের কয়েকজন কর্মকর্তার ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা অর্থের গতিপথ বা ‘মানি ট্রেল’ অনুসরণ করে সম্ভাব্য সহযোগীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছেন।

আদালতে হাজির করার পর অভিযুক্তদের পুলিশি হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন জানানো হতে পারে। তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য, জিজ্ঞাসাবাদে এখনও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া বাকি রয়েছে। বিশেষ করে অনুদানের মোট কত টাকা আত্মসাৎ হয়েছে, সেই অর্থ কার কার কাছে পৌঁছেছে এবং কোনও বৃহত্তর চক্র এর সঙ্গে জড়িত কি না, তা জানতে আরও সময় প্রয়োজন।  এই ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে, কারণ রামমন্দিরে ভক্তদের দেওয়া অনুদান ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। সেই কারণে তদন্ত দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আরও গ্রেপ্তার বা নতুন তথ্য সামনে আসার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles