হাইলাইটস
- গাজা যুদ্ধের মধ্যেই হামাসের নতুন শীর্ষ নেতা হলেন প্রবীণ নেতা খলিল আল-হাইয়া।
- দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন তিনি।
- যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি-মুক্তি আলোচনায় হামাসের অন্যতম প্রধান আলোচক ছিলেন আল-হাইয়া।
- নেতৃত্ব বদলালেও হামাসের কৌশলে তাৎক্ষণিক বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম।
- সংগঠনের ঐক্য ও যুদ্ধ-পরবর্তী ভবিষ্যৎই এখন তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
গাজায় যুদ্ধ চলছে, আর সেই যুদ্ধের মধ্যেই নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন আনল হামাস। সংগঠনের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনের পর প্রবীণ নেতা খলিল আল-হাইয়াকে নতুন শীর্ষ নেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।
হামাসের রাজনৈতিক নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন আল-হাইয়া। গাজার ইসলামিক ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও পরে তিনি সংগঠনের শীর্ষ সারির নেতায় পরিণত হন।
যুদ্ধ শুরুর পর আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও তাঁর গুরুত্ব বেড়েছে। কাতার, মিশর-সহ বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি-মুক্তি নিয়ে আলোচনায় হামাসের অন্যতম প্রধান প্রতিনিধি ছিলেন তিনি। সংগঠনের অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরার ক্ষেত্রেও তাঁকে নিয়মিত দেখা গেছে।
তাঁর নেতৃত্বে আসার সময় হামাস একাধিক চাপের মুখে। গাজায় দীর্ঘ যুদ্ধ, ব্যাপক ধ্বংস ও মানবিক সংকটের পাশাপাশি ইজরায়েলি অভিযানে সংগঠনের একাধিক শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন। ফলে নতুন নেতৃত্বের সামনে প্রথম চ্যালেঞ্জই হবে সংগঠনের ঐক্য ধরে রাখা।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং বিভিন্ন গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগই আল-হাইয়ার বড় শক্তি। রাজনৈতিক শাখার পাশাপাশি সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গেও তাঁর দীর্ঘদিনের যোগাযোগ রয়েছে। তাই নেতৃত্ব বদলালেও হামাসের মূল নীতি ও কৌশলে তাৎক্ষণিক বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম।
তবে চ্যালেঞ্জের তালিকাও দীর্ঘ। যুদ্ধবিরতি, জিম্মিদের ভবিষ্যৎ, গাজার যুদ্ধ-পরবর্তী প্রশাসন এবং আন্তর্জাতিক চাপ—সবকিছুর মধ্যেই তাঁকে সংগঠনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে কাতার ও মিশরের মতো মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগও বজায় রাখতে হবে।
এখন বড় প্রশ্ন, নতুন নেতৃত্ব কি হামাসের অবস্থানে কোনও পরিবর্তন আনবে? নাকি যুদ্ধ, কূটনীতি ও চাপের এই কঠিন সময়ে খলিল আল-হাইয়া মূলত ধারাবাহিকতার পথেই হাঁটবেন? গাজা যুদ্ধের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করতে পারে সেই উত্তরের ওপর।