হাইলাইটস:

  • সরকারি কর্মীদের উপস্থিতি ও কাজের মান নিয়ে প্রশ্নের প্রেক্ষিতে কড়া বার্তা।
  • বায়োমেট্রিক উপস্থিতি ব্যবস্থা চালুর পক্ষে সওয়াল।
  • নাগরিক পরিষেবাকে আরও জবাবদিহিমূলক করার ওপর জোর।
  • প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসনই ভবিষ্যতের পথ বলে মত।

বাংলাস্ফিয়ার: সরকারি অফিসে কর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং নাগরিক পরিষেবাকে আরও জবাবদিহিমূলক করে তুলতে বায়োমেট্রিক উপস্থিতি ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন পল। তাঁর বক্তব্য, সরকারি কর্মচারীরা জনগণের করের টাকায় বেতন পান, ফলে তাঁদের কর্মক্ষেত্রে উপস্থিতি এবং দায়িত্ব পালনের বিষয়টি কেবল প্রশাসনিক প্রশ্ন নয়, এটি জনস্বার্থের বিষয়ও।

সম্প্রতি এক আলোচনায় পল বলেন, সরকারি দপ্তরগুলিতে এখনও এমন বহু অভিযোগ আসে যেখানে কর্মীরা সময়মতো অফিসে পৌঁছন না, আবার অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের আগেই কর্মস্থল ত্যাগ করেন। এর ফলে সাধারণ মানুষের নানা পরিষেবা পেতে দেরি হয় এবং প্রশাসনের প্রতি আস্থা কমে যায়। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতি বদলাতে প্রযুক্তির ব্যবহারই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

পলের বক্তব্য অনুযায়ী, বায়োমেট্রিক হাজিরা ব্যবস্থা চালু হলে কর্মীদের উপস্থিতি সম্পর্কে নির্ভুল তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে। আঙুলের ছাপ, মুখের পরিচিতি বা অন্য কোনও ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে হাজিরা নথিভুক্ত হলে প্রকৃত কর্মঘণ্টা সম্পর্কে প্রশাসনের কাছে পরিষ্কার ধারণা থাকবে। এর ফলে অনুপস্থিতি, দেরিতে আসা কিংবা আগেভাগে চলে যাওয়ার মতো প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।

তিনি আরও বলেন, আধুনিক প্রশাসনে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনও কর্মী নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন কি না, কোন দপ্তরে কর্মীদের উপস্থিতির হার কম, কোথায় পরিষেবা প্রদানে সমস্যা হচ্ছে—এসব বিষয়ে সঠিক তথ্য পাওয়ার জন্য বায়োমেট্রিক ব্যবস্থা কার্যকর হাতিয়ার হতে পারে। এতে কেবল নজরদারিই নয়, কর্মক্ষমতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে।

পলের মতে, সরকারি পরিষেবা ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলির একটি হল জবাবদিহির অভাব। সাধারণ মানুষ যখন কোনও শংসাপত্র, লাইসেন্স, জমির নথি বা অন্য কোনও সরকারি পরিষেবার জন্য অফিসে যান, তখন অনেক সময় সংশ্লিষ্ট কর্মীকে খুঁজে পাওয়া যায় না। এই ধরনের অভিজ্ঞতা নাগরিকদের মধ্যে হতাশা তৈরি করে। বায়োমেট্রিক উপস্থিতি চালু হলে অন্তত কর্মীদের উপস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা কমবে এবং পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে একটি ন্যূনতম শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হবে।

তবে তিনি এটাও স্পষ্ট করেন যে বায়োমেট্রিক ব্যবস্থা কোনও জাদুকাঠি নয়। শুধু হাজিরা নথিভুক্ত করলেই প্রশাসনের সমস্ত সমস্যা দূর হবে না। এর সঙ্গে কাজের মান, দায়িত্ববোধ এবং ফলাফলভিত্তিক মূল্যায়ন ব্যবস্থাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু উপস্থিতি নিশ্চিত করা হল সেই বৃহত্তর সংস্কারের প্রথম ধাপ।

প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, বিশ্বের বহু দেশেই সরকারি এবং বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রেই বায়োমেট্রিক উপস্থিতি ব্যবস্থা এখন স্বাভাবিক বিষয় হয়ে উঠেছে। ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রসারের ফলে এটি বাস্তবায়ন করাও আগের তুলনায় অনেক সহজ। ফলে সরকারি দপ্তরগুলিতেও এই ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃতভাবে প্রয়োগ করার দাবি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।

পলের বক্তব্যে মূল সুর ছিল একটাই—জনগণের জন্য কাজ করা সরকারি ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক করে তুলতে হবে। আর সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে বায়োমেট্রিক উপস্থিতি ব্যবস্থা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। তাঁর কথায়, “যে কোনও প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহির শুরু হয় উপস্থিতি থেকে। কর্মী অফিসে আছেন কি না, সেটাই যদি নিশ্চিত না করা যায়, তবে উন্নত পরিষেবার কথা বলা কঠিন।”

প্রশাসনিক সংস্কার নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে পলের এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর শাসনব্যবস্থা এবং কর্মক্ষেত্রে জবাবদিহির প্রশ্নে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট—সরকারি অফিসে বায়োমেট্রিক হাজিরা আর বিলাসিতা নয়, সময়ের দাবি।