Home খবর লেবারের সমর্থনে প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম

লেবারের সমর্থনে প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
94 views 3 minutes read
A+A-
Reset

হাইলাইটস:

  • ৩৪৯ জন লেবার এমপির সমর্থন পেয়ে নেতৃত্বের দৌড়ে কার্যত অপ্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম।
  • বর্তমান মন্ত্রিসভার যোগ্য সব সদস্যই তাঁর পক্ষে মনোনয়ন দিয়েছেন।
  • শুক্রবার লেবার নেতা এবং আগামী সোমবার ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার কথা তাঁর।
  • “ব্রড চার্চ” মন্ত্রিসভা গঠন ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি।

নিজস্ব প্রতিবেদন: লেবার পার্টির বিপুল সমর্থন নিয়ে ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে কার্যত নিশ্চিত অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। দলের ৩৪৯ জন সাংসদের সমর্থন পাওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে আর কোনও সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রয়োজনীয় মনোনয়ন জোগাড় করার সুযোগ নেই।

সোমবার আরও ২৭ জন এমপি বার্নহ্যামের পক্ষে সমর্থন জানানোয় তাঁর মোট মনোনয়ন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪৯। গত সপ্তাহে এই সংখ্যা ছিল ৩২২।

এখনও মাত্র ৫৪ জন লেবার সাংসদ কোনও প্রার্থীকে সমর্থন জানাননি। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মার এবং দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির (এনইসি) চেয়ার শাবানা মাহমুদ। দলীয় রীতি অনুযায়ী তাঁরা নেতৃত্ব নির্বাচনে কোনও প্রার্থীকে মনোনয়ন দেন না। ফলে অন্য কোনও প্রার্থীর পক্ষে প্রয়োজনীয় ৮১টি সমর্থন জোগাড় করা আর সম্ভব নয়।

সবকিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে শুক্রবার বার্নহ্যাম আনুষ্ঠানিকভাবে লেবার পার্টির নেতা নির্বাচিত হবেন। এরপর সোমবার ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে প্রবেশ করে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেবেন।

সোমবার রাতে লেবার পার্লামেন্টারি পার্টির (পিএলপি) ভার্চুয়াল বৈঠকে বার্নহ্যাম জানান, তিনি এমন একটি “ব্রড চার্চ” মন্ত্রিসভা গড়বেন, যেখানে দলের সব মতাদর্শ ও গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব থাকবে।

তাঁর কথায়, মন্ত্রিসভা গঠনে তিনটি বিষয়কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে—অবদান, অভিজ্ঞতা এবং দলের প্রতি অঙ্গীকার।

দলীয় ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে বার্নহ্যাম বলেন, তিনি এমন নেতৃত্ব দিতে চান যেখানে প্রতিটি সাংসদ নিজেদের মতামত প্রকাশের সুযোগ পাবেন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করবেন। তিনি নিজেকে “জবাবদিহিমূলক, দৃশ্যমান এবং সহজে নাগালের মধ্যে থাকা” নেতা হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও দেন।

নতুন সরকারের অগ্রাধিকার সম্পর্কে তিনি জানান, দেশের প্রতিটি অঞ্চলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা, স্থানীয় প্রশাসনের হাতে আরও ক্ষমতা তুলে দেওয়া এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোই হবে তাঁর সরকারের মূল লক্ষ্য।

তবে উত্তর ইংল্যান্ডকেন্দ্রিক রাজনীতি এবং ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ নিয়ে তাঁর অবস্থান লেবারের একাংশের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগও তৈরি করেছে। তাঁদের আশঙ্কা, নতুন নেতৃত্বে উত্তর ইংল্যান্ডের সাংসদ বা তথাকথিত “ব্লু লেবার” ঘনিষ্ঠ নেতারাই বেশি প্রভাবশালী হয়ে উঠতে পারেন।

বৈঠকের শুরুতে বার্নহ্যাম সদ্যপ্রয়াত ব্রিটিশ রাজনীতিক অ্যান উইডিকম্বের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, মৃত্যুর তদন্তে পুলিশের হাতে পর্যাপ্ত সম্পদ ও পূর্ণ স্বাধীনতা থাকা উচিত।

বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মারের ভূয়সী প্রশংসাও করেন বার্নহ্যাম। বিশেষ করে ১৯৮৯ সালের হিলসবোরো ট্র্যাজেডির ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করে হিলসবোরো আইন কার্যকর করার জন্য তিনি স্টার্মারকে কৃতিত্ব দেন।

এদিকে স্টার্মারের পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক সময়সূচিতে সামান্য পরিবর্তনের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। আগে সোমবার সকালে রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে বাকিংহাম প্রাসাদে তাঁর সাক্ষাতের কথা ছিল। তবে ইংল্যান্ড ফুটবল দল বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠলে তিনি নিউ জার্সিতে ফাইনাল দেখতে যেতে পারেন। সেই সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখেই রাজপ্রাসাদে সাক্ষাতের সময় পিছিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

সোমবার বার্নহ্যামের পক্ষে নতুন করে সমর্থন জানান জুনিয়র মন্ত্রী ক্রিস ব্রায়ান্ট, মাইক ট্যাপ, প্রাক্তন মন্ত্রী জেস ফিলিপস, লেবারের সোশ্যালিস্ট ক্যাম্পেইন গ্রুপের সচিব রিচার্ড বার্গন এবং কমিউনিটিজ সেক্রেটারি স্টিভ রিড।

স্টিভ রিডই ছিলেন বর্তমান মন্ত্রিসভার শেষ সদস্য, যিনি এতদিন বার্নহ্যামকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানাননি। তাঁর সমর্থনও মেলায় এখন কার্যত পুরো মন্ত্রিসভার সমর্থনই বার্নহ্যামের ঝুলিতে। ফলে লেবারের নেতৃত্ব এবং ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রিত্ব—দুই পথই তাঁর জন্য প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেছে।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles