ভোটার তালিকায় নাম তোলার ফর্ম ৬ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণের পর কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে নতুন সংঘাত শুরু হল। সোমবার লোকসভার বিরোধী দলনেতা অভিযোগ করেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বেআইনি ও একতরফাভাবে ফর্ম ৬ বদলেছেন। পাল্টা কমিশন ‘ফ্যাক্ট চেক’ প্রকাশ করে তাঁর বক্তব্যকে বিভ্রান্তিকর বলেছে। বিহারে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর সংক্রান্ত পুরনো নির্দেশ এবং সুপ্রিম কোর্টের রায়ের উল্লেখ করেছে কমিশন।

বিতর্কের সূত্র এদিনের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের মন্তব্য। তিনি স্পষ্ট করেন, ফর্ম ৬-এর কোনও পরিবর্তিত সংস্করণ সুপ্রিম কোর্ট অনুমোদন করেনি। নথি পেশ হলে কে পরিবর্তন করেছেন, তা আদালত দেখতে চাইবে। প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনা। কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে দায়ের হওয়া মামলার শুনানিতে এই পর্যবেক্ষণ উঠে আসে। সোমবার সংশ্লিষ্ট আবেদনে আদালত নোটিস জারি করেছে এবং একই ধরনের আর একটি মামলার সঙ্গে সেটিকে যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে।

এরপর এক্সে রাহুল দাবি করেন, জ্ঞানেশ কুমার যে বেআইনি ও একতরফাভাবে ফর্ম বদলেছেন, তা এখন সন্দেহাতীতভাবে প্রতিষ্ঠিত। তাঁর অভিযোগ, বিজেপিকে সাহায্য করতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিজের পদের অপব্যবহার করছেন; এই ঘটনা তার আরও একটি প্রমাণ। গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে এই কথিত অপরাধমূলক আক্রমণে জড়িত প্রত্যেককে জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাহুলের পোস্টের জবাবে কমিশন জানায়, ২০২৫ সালের ২৪ জুন বিহারে এসআইআরের নির্দেশ কমিশনের সর্বসম্মত অনুমোদনেই জারি হয়েছিল। কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৭ মে সুপ্রিম কোর্ট সেই নির্দেশ বহাল রেখেছে। পাশাপাশি ২৬ সেপ্টেম্বরের ১২০ নম্বর প্রেস নোটের উল্লেখ করে কমিশন ফের দাবি করেছে, এসআইআরের জন্য ফর্ম ৬-এর সঙ্গে যুক্ত ঘোষণাপত্র সর্বোচ্চ আদালত বহাল রেখেছে।

কমিশনের আধিকারিকদের ব্যাখ্যা, মূল ফর্ম ৬ বদলানো হয়নি; বিহারের এসআইআর নির্দেশের মাধ্যমে তার সঙ্গে একটি ঘোষণাপত্র যুক্ত করা হয়েছিল। অন্যদিকে অভিযোগকারীদের আপত্তির কেন্দ্রে রয়েছে অনলাইন আবেদনের সঙ্গে যুক্ত নতুন ঘোষণার বিষয়বস্তু এবং তা চালুর অনুমোদন। ফলে মূল ফর্ম অপরিবর্তিত থাকার দাবি দিয়েই অতিরিক্ত ঘোষণার বৈধতা নিয়ে প্রশ্নটির নিষ্পত্তি হচ্ছে না।

ফর্ম ৬ ব্যবহার করে যোগ্য নাগরিকেরা ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করেন। বিতর্কিত নতুন ঘোষণায় আবেদনকারী অথবা তাঁর বাবা-মায়ের নাম আগের এসআইআরের তালিকার সঙ্গে মেলানো হয়েছে কি না, তা জানাতে বলা হচ্ছে। দুই নির্বাচন কমিশনার এই পরিবর্তনে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁদের যুক্তি ছিল, ১৯৬০ সালের ভোটার নিবন্ধন বিধিতে কেন্দ্রীয় সরকারের সংশোধন ছাড়া এমন পরিবর্তন করা যায় না।

এখানেই সময়ের ব্যবধানটি গুরুত্বপূর্ণ। বিতর্কিত নতুন ঘোষণাটি বিহারের এসআইআর নিয়ে মে মাসের রায়ের পরে চালু হয়েছে। ফলে আগের নির্দেশ বহাল রাখার রায় পরবর্তী নতুন ঘোষণাটিকেও অনুমোদন দিয়েছে কি না, সেটাই অন্যতম প্রশ্ন। আদালতের এদিনের মন্তব্য সেই পার্থক্যকে সামনে এনেছে। বিষয়টি পরীক্ষা করতে সংশ্লিষ্ট নথি দেখতে চেয়েছে বেঞ্চ।

আলাদাভাবে কমিশন অস্বীকার করেছে যে ২৬ সেপ্টেম্বরের প্রেস নোট তাদের ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেটি এখনও পাওয়া যাচ্ছে জানিয়ে কমিশন লিঙ্কও দিয়েছে। এসআইআর হচ্ছে না, এমন রাজ্যগুলির অনলাইন আবেদন থেকে অতিরিক্ত ঘোষণাটি সরানোর কথাও পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

তবে আদালত পরিবর্তিত ফর্ম অনুমোদন করেনি বলা এবং জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বেআইনি কাজের অভিযোগ বিচারিকভাবে প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। সোমবারের পর্যবেক্ষণকে চূড়ান্ত রায় বলা যাবে না। রাহুলের বক্তব্য রাজনৈতিক অভিযোগ; কমিশন তা অস্বীকার করছে। এখন গুরুত্বপূর্ণ হবে আদালতে পেশ করা নথি, পরিবর্তনের প্রকৃত বিষয়বস্তু এবং কমিশনের অভ্যন্তরে সিদ্ধান্ত অনুমোদনের প্রক্রিয়া।