নাম কাটার একগুচ্ছ ফর্ম ফেরালেন বিএলও, বললেন ‘নিজের দায়িত্ব পালন করেছি’

যা জানা জরুরি
- হায়দরাবাদে একসঙ্গে জমা দিতে আনা ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার একগুচ্ছ আবেদন ফিরিয়ে দিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন এক বুথস্তরের নির্বাচনী আধিকারিক বা বিএলও।
- তাঁর বক্তব্য, তিনি নিজের দায়িত্বই পালন করেছেন।
- গোশামহল বিধানসভা কেন্দ্রের ১৭৩ নম্বর বুথে ঘটনাটি ঘটে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
হায়দরাবাদে একসঙ্গে জমা দিতে আনা ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার একগুচ্ছ আবেদন ফিরিয়ে দিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন এক বুথস্তরের নির্বাচনী আধিকারিক বা বিএলও। তাঁর বক্তব্য, তিনি নিজের দায়িত্বই পালন করেছেন। গোশামহল বিধানসভা কেন্দ্রের ১৭৩ নম্বর বুথে ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ, বিজেপির এক বুথস্তরের এজেন্ট আগে থেকে ছাপানো ফর্ম ৭ জমা দিতে এসেছিলেন। তেলঙ্গানা প্রদেশ কংগ্রেস ঘটনার ভিডিয়ো প্রকাশ করার পরে তা ছড়িয়ে পড়ে।
ওসমানিয়া মেডিক্যাল কলেজের জুনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে কর্মরত ওই বিএলও সংবাদমাধ্যমকে জানান, ফর্মগুলিতে ভোটার পরিচয়পত্রের নম্বর ছাপা থাকলেও নাম ছিল না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এমন ফর্ম গ্রহণের কোনও নির্দেশও পাননি তিনি। তাই আবেদনগুলি নিতে অস্বীকার করেন। সিদ্ধান্ত নিতে ভয় পেয়েছিলেন কি না, জানতে চাওয়া হলে তাঁর উত্তর, না। নিজের পরিচয় প্রকাশেও রাজি হননি। দায়িত্ব পালনের জন্য প্রচার চান না তিনি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গোশামহলে এমন ১৫টি ফর্ম সামনে এসেছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, মুসলিম ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যে সেগুলি আনা হয়েছিল। দলের সূত্রের দাবি, ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক কর্মী ফর্মগুলি দেখতে চান এবং ছবি ও ভিডিয়ো তুলে রাখেন। ওই সূত্রের আরও অভিযোগ, জমা দিতে আসা বিজেপির এজেন্ট ফর্মে সই করতে ইতস্তত করছিলেন; পরে কাগজগুলি নিয়ে চলে যান। এই বর্ণনা কংগ্রেস সূত্রের দাবি।
এর আগে মুশিরাবাদ ও বাহাদুরপুরাতেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল। মুশিরাবাদে ৩১ জনের নাম বাদ দেওয়ার আবেদন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়; সংশ্লিষ্টদের মধ্যে কংগ্রেসের এক বুথ এজেন্ট ও তাঁর পরিবারের সদস্যেরাও রয়েছেন বলে অভিযোগ। গোশামহলের ঘটনার পরে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এবং হায়দরাবাদের জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে ফের অভিযোগ জানিয়েছে কংগ্রেস। ছাপানো ফর্মগুলির উৎস খুঁজে বার করারও দাবি জানিয়েছে দল।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি এন রামচন্দ্র রাও অবশ্য একযোগে ফর্ম জমা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে কংগ্রেস। অন্যদিকে, রাজ্য বিজেপির মুখ্য মুখপাত্র এন ভি সুভাষের বক্তব্য, ভারতের নাগরিক নন, এমন রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ফর্ম জমা দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগের আওতায় থাকা ভোটারদের নাগরিকত্ব সম্পর্কে তাঁর এই দাবির সমর্থনে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে কোনও প্রমাণ দেওয়া হয়নি।
ফর্ম ৭ মূলত ভোটার তালিকায় কোনও নাম অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা অথবা তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার আবেদনের জন্য ব্যবহৃত হয়। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ভোটার অন্য কারও নাম নিয়ে আপত্তি জানাতে পারেন; তবে তার পক্ষে প্রাসঙ্গিক প্রমাণ দিতে হয়। মৃত, স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে যাওয়া কিংবা একাধিক জায়গায় নাম থাকা ভোটারের ক্ষেত্রে এই ফর্ম ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। ফলে আবেদন জমা পড়া আর নাম বাদ পড়া এক বিষয় নয়।
রবিবারের পরবর্তী প্রশাসনিক বক্তব্যে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক সি সুদর্শন রেড্ডি জানান, মুশিরাবাদ ও গোশামহলের বিতর্কিত আবেদনগুলি অসম্পূর্ণ অথবা যথাযথভাবে পূরণ করা হয়নি বলে বাতিল হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, তাঁর ব্যাখ্যা, সঠিকভাবে পূরণ করা ফর্মে যথার্থ কারণ থাকলেই সেটি বিবেচিত হবে। প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে পরীক্ষা করা হবে; দলীয় এজেন্ট একসঙ্গে ফর্ম জমা দিলেও যাচাইয়ের শর্ত বদলাবে না।
হায়দরাবাদের জেলা নির্বাচনী আধিকারিক আর ভি কর্ণনও জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট বিএলওরাই ত্রুটিপূর্ণ ফর্মগুলি প্রত্যাখ্যান করেছেন। মুশিরাবাদের আবেদনগুলিতে আবেদনকারীর প্রয়োজনীয় বিবরণ ছিল না। গোশামহলের ফর্মগুলিও গ্রহণ করা হয়নি। প্রশাসনের এই বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচিত আবেদনগুলির ভিত্তিতে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া এগোয়নি। কর্ণনের বক্তব্য, কর্নাটকে হাজার হাজার ফর্ম জমার খবরের প্রেক্ষাপটে হায়দরাবাদের ঘটনাগুলি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। তবে এখানে আবেদনের সংখ্যা তুলনায় কম। তবু প্রতিটি ক্ষেত্রে নির্ধারিত তথ্য এবং যাচাইয়ের প্রক্রিয়া মেনেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



