রাজ্যসভায় এবার বিজেপির প্রার্থী কোয়েল, ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বলছে মমতা শিবির

যা জানা জরুরি
- রাজ্যসভার উপনির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ থেকে অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিককে প্রার্থী করল বিজেপি।
- রবিবার, ৪ অক্টোবর দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি তাঁর নাম ঘোষণা করেছে।
- জুলাইয়ে তৃণমূলের সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন কোয়েল।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
রাজ্যসভার উপনির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ থেকে অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিককে প্রার্থী করল বিজেপি। রবিবার, ৪ অক্টোবর দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি তাঁর নাম ঘোষণা করেছে। জুলাইয়ে তৃণমূলের সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন কোয়েল। তাঁর ছেড়ে যাওয়া আসনেই এবার তাঁকে সংসদের উচ্চকক্ষে ফেরাতে চাইছে বিজেপি। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী তৃণমূল শিবির অভিনেত্রীর অবস্থান পরিবর্তনকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে আক্রমণ করেছে।
আগামী ১৬ অক্টোবর এই আসনে উপনির্বাচন হওয়ার কথা। বিজেপির প্রার্থী ঘোষণায় কোয়েলের আনুষ্ঠানিক নাম রুক্মিণী মল্লিক ব্যবহার করা হয়েছে। গত ১৬ জুলাই তিনি রাজ্যসভার সদস্যপদ ছাড়েন। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিজেপির স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তাঁর জয়ের সম্ভাবনা প্রবল। ফলে কয়েক মাসের ব্যবধানে একই আসন থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ে সংসদে ফেরার পথ খুলছে অভিনেত্রীর সামনে। তবে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এখনও বাকি রয়েছে।
মমতা শিবিরের বিধায়ক কুণাল ঘোষের অভিযোগ, মমতা মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন কোয়েলের তৃণমূলকে ভাল লাগত; রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল হতেই তিনি বিজেপির দিকে ঝুঁকেছেন। কুণাল মনে করিয়ে দেন, পরিচিত অভিনেত্রী হিসেবে কোয়েলকে রাজ্যসভায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মমতাই। সেই সুযোগ পাওয়ার পরে দলের সংকটের সময়ে প্রতিপক্ষের প্রার্থী হওয়াকে তিনি রাজনৈতিক আনুগত্যের পরিপন্থী বলে তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্যে ব্যক্তিগত ক্ষোভের পাশাপাশি মমতার প্রার্থী নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠে এসেছে।
কুণালের ব্যাখ্যা, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষকে নির্বাচিত প্রতিনিধি হওয়ার সুযোগ দিতে চেয়েছিলেন মমতা। সেই ভাবনা থেকেই চিকিৎসক, ক্রীড়াবিদ, গায়ক এবং চলচ্চিত্রজগতের ব্যক্তিত্বদের প্রার্থী করেছিল তৃণমূল। কিন্তু তাঁদের একাংশের পরবর্তী আচরণ সেই আস্থাকে আঘাত করেছে বলে তাঁর অভিযোগ। কোয়েলের মনোনয়নকে কেন্দ্র করে তাই তারকাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তও মমতা শিবিরের সমালোচনার আলোচনায় ফিরে এসেছে।
কোয়েলের আগে সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পরে তাঁরা বিজেপির প্রার্থী হিসেবে ফের নির্বাচিত হন। কোয়েলের ক্ষেত্রেও একই ধারার পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে। জুলাইয়ে পদত্যাগের পরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বাংলায় বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছিল। তখন থেকেই তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়। চলতি বছরের মার্চেই তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে রাজ্যসভায় নির্বাচিত হয়েছিলেন কোয়েল। সেই হিসাবে তাঁর প্রথম সংসদীয় পর্ব স্থায়ী হয়েছিল মাত্র কয়েক মাস। রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের পরে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের আবহেই ঘটেছিল এই পদত্যাগ। )
এই ধারাবাহিক দলবদল নিয়ে বিজেপিকেও কটাক্ষ করেছে সিপিএম। দলের নেতা সুজন চক্রবর্তীর বক্তব্য, তৃণমূলের নেতানেত্রী ও সাংসদদের বিজেপিতে যোগ দিয়ে আবার নির্বাচিত হওয়ার প্রবণতা বাংলায় বিজেপির ‘তৃণমূলীকরণ’ দেখাচ্ছে। অর্থাৎ, মমতা শিবির যেখানে আনুগত্যভঙ্গের অভিযোগ তুলছে, সেখানে বামেদের সমালোচনার কেন্দ্রে রয়েছে বিজেপির প্রার্থী বাছাইয়ের ধরন। তৃণমূল থেকে আসা মুখগুলিকেই সংসদে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলছে তারা।
অন্যদিকে, কোয়েলের মনোনয়নে আনন্দ প্রকাশ করেছেন তাঁর বাবা, প্রবীণ অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিক। রাজ্য সরকারের উত্তমকুমার জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠানে তিনি যে সম্মান পেয়েছেন, তার কথাও উল্লেখ করেছেন। মা দীপা মল্লিকও মেয়ের এই সুযোগে সন্তোষ জানিয়েছেন। তবে মনোনয়ন এবং বিরোধীদের অভিযোগ নিয়ে কোয়েলের নিজের বক্তব্য সংশ্লিষ্ট সংবাদপ্রতিবেদন প্রকাশের সময় পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের ব্যাখ্যা এখনও স্পষ্ট হয়নি।
একই দিনে উত্তরাখণ্ডের রাজ্যসভা নির্বাচনের জন্য দীনেশ আর্যর নামও ঘোষণা করেছে বিজেপি। ১৬ অক্টোবর উত্তরপ্রদেশের দশটি এবং উত্তরাখণ্ডের একটি আসনের নিয়মিত নির্বাচনের সঙ্গে বাংলার এই উপনির্বাচন হওয়ার কথা। বাংলার ক্ষেত্রে অবশ্য আলোচনার কেন্দ্রে কোয়েলের প্রত্যাবর্তন। তৃণমূলের হয়ে সংসদে যাওয়া, সদস্যপদ ত্যাগ এবং বিজেপির মনোনয়ন পাওয়ার এই ঘটনাক্রম রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পরে রাজনৈতিক আনুগত্য বদলের বিতর্ককে আবার সামনে এনেছে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



