দেশ

জেইই অ্যাডভান্সডে তফসিলি প্রার্থীদের সাফল্যে বড় উত্থান, মহিলাদের যোগ্যতা অর্জনের হার ছ’বছরে সর্বোচ্চ

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • জেইই অ্যাডভান্সড ২০২৬-এ যোগ্যতা অর্জনের হারে উল্লেখযোগ্য উন্নতি করলেন তফসিলি জাতি ও তফসিলি জনজাতির প্রার্থীরা।
  • গত বছরের তুলনায় এই দুই শ্রেণির সাফল্যের হার বেড়েছে যথাক্রমে প্রায় ৯.৮ এবং ৮.১ শতাংশ পয়েন্ট।
  • একই সঙ্গে মহিলা প্রার্থীদের যোগ্যতা অর্জনের হার পৌঁছেছে ২৩.৪ শতাংশে, যা প্রকাশিত প্রতিবেদনে আলোচিত ছ’বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

জেইই অ্যাডভান্সড ২০২৬-এ যোগ্যতা অর্জনের হারে উল্লেখযোগ্য উন্নতি করলেন তফসিলি জাতি ও তফসিলি জনজাতির প্রার্থীরা। গত বছরের তুলনায় এই দুই শ্রেণির সাফল্যের হার বেড়েছে যথাক্রমে প্রায় ৯.৮ এবং ৮.১ শতাংশ পয়েন্ট। একই সঙ্গে মহিলা প্রার্থীদের যোগ্যতা অর্জনের হার পৌঁছেছে ২৩.৪ শতাংশে, যা প্রকাশিত প্রতিবেদনে আলোচিত ছ’বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে সাধারণ এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির নন-ক্রিমি লেয়ার বা ওবিসি-এনসিএল প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এই হার কমেছে।

শনিবার আইআইটি রুরকি প্রকাশিত জয়েন্ট ইমপ্লিমেন্টেশন কমিটির বা জেআইসি-র প্রতিবেদনে এই পরিসংখ্যান উঠে এসেছে। সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এবছর মোট ৫৬,৮৮০ জন প্রার্থী জেইই অ্যাডভান্সডে যোগ্যতা অর্জন করেছেন। তাঁদের মধ্যে তফসিলি জাতির প্রার্থী ১৫,৮৫৬ জন এবং তফসিলি জনজাতির প্রার্থী ৬,৩৭৯ জন। দুই শ্রেণি মিলিয়ে সফল প্রার্থীর সংখ্যা ২২,২৩৫, অর্থাৎ মোট যোগ্যতা অর্জনকারীর প্রায় ৩৯.১ শতাংশ।

তফসিলি জাতির প্রার্থীদের যোগ্যতা অর্জনের হার ২০২৫ সালের ৪০.৪১ শতাংশ থেকে বেড়ে এবছর হয়েছে ৫০.১৬ শতাংশ। অর্থাৎ, এই শ্রেণিতে নাম নথিভুক্ত করা প্রতি দু’জন প্রার্থীর মধ্যে প্রায় একজন যোগ্যতা অর্জন করেছেন। গত বছর অনুপাতটি ছিল প্রতি পাঁচজনে প্রায় দু’জন। এক বছরের ব্যবধানে এই পরিবর্তন শুধু শতাংশের হিসাবেই সীমাবদ্ধ নয়; যোগ্যতা অর্জনকারী প্রার্থীর মোট সংখ্যাতেও তার স্পষ্ট প্রতিফলন রয়েছে।

২০২৫ সালে তফসিলি জাতির ১২,৪৯৯ জন প্রার্থী যোগ্যতা অর্জন করেছিলেন। এবছর সংখ্যাটি বেড়েছে ৩,৩৫৭। আগের বছরের তুলনায় সফল প্রার্থীর সংখ্যায় বৃদ্ধি প্রায় ২৬.৯ শতাংশ। এখানে প্রার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধির হার এবং যোগ্যতা অর্জনের হারের বৃদ্ধি আলাদা হিসাব। প্রথমটি সফল প্রার্থীর সংখ্যার পরিবর্তন বোঝায়; দ্বিতীয়টি সংশ্লিষ্ট শ্রেণির নথিভুক্ত প্রার্থীদের মধ্যে কত অংশ সফল হয়েছেন, সেই অনুপাতের পরিবর্তন তুলে ধরে।

তফসিলি জনজাতির ক্ষেত্রেও প্রায় একই ধরনের উত্থান দেখা গিয়েছে। এই শ্রেণির যোগ্যতা অর্জনের হার গত বছরের ৩৩.৯৯ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৪২.১৪ শতাংশ। ফলে গত বছর যেখানে নথিভুক্ত প্রতি তিনজনের মধ্যে প্রায় একজন সফল হয়েছিলেন, এবছর সেখানে প্রতি পাঁচজনের মধ্যে দু’জনেরও বেশি যোগ্যতা অর্জন করেছেন। সফল প্রার্থীর সংখ্যা ৫,০০৮ থেকে বেড়ে ৬,৩৭৯ হয়েছে, অর্থাৎ বৃদ্ধি ১,৩৭১ জন।

দুই তফসিলি শ্রেণি মিলিয়ে গত বছর যোগ্যতা অর্জন করেছিলেন ১৭,৫০৭ জন। এবছর সেই সংখ্যায় যুক্ত হয়েছেন আরও ৪,৭২৮ জন। প্রদত্ত পরিসংখ্যানের হিসাবে, সম্মিলিত বৃদ্ধি প্রায় ২৭ শতাংশ। পৃথকভাবে দুই শ্রেণির যোগ্যতা অর্জনের হার এবং মোট সফল প্রার্থীর সংখ্যা—উভয় সূচকেই উন্নতি হয়েছে। ফলে এবারের ফলাফলে তফসিলি প্রার্থীদের সাফল্য একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে সামনে এসেছে।

অন্যদিকে, সাধারণ শ্রেণির প্রার্থীদের যোগ্যতা অর্জনের হার ৩.২ শতাংশ পয়েন্ট কমে হয়েছে ৩৯.৮ শতাংশ। ওবিসি-এনসিএল প্রার্থীদের ক্ষেত্রে পতন তুলনামূলকভাবে কম, ০.৭ শতাংশ পয়েন্ট; তাঁদের যোগ্যতা অর্জনের হার দাঁড়িয়েছে ১৭.৫ শতাংশে। অর্থাৎ, একই পরীক্ষায় বিভিন্ন সামাজিক শ্রেণির ফলাফলের গতিপথ একরকম হয়নি। তফসিলি জাতি ও জনজাতির হার বাড়লেও অন্য এই দুই শ্রেণির ক্ষেত্রে গত বছরের তুলনায় নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গিয়েছে।

মহিলা প্রার্থীদের ২৩.৪ শতাংশ যোগ্যতা অর্জনের হার এবারের ফলাফলের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক। তবে এই পরিসংখ্যানের অর্থ মোট সফল প্রার্থীর ২৩.৪ শতাংশ মহিলা, এমন নয়; এটি মহিলা প্রার্থীদের নিজেদের মধ্যে যোগ্যতা অর্জনের অনুপাত। আবার ছ’বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বলার ক্ষেত্রেও প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত সময়সীমাটিই প্রযোজ্য। প্রকাশিত তথ্য বিভিন্ন গোষ্ঠীর সাফল্যের পরিবর্তন স্পষ্ট করলেও কেন এই পরিবর্তন ঘটেছে, তার ব্যাখ্যা শুধু এই সংখ্যাগুলি থেকে নিশ্চিতভাবে করা যায় না।

এই ফলাফল উচ্চশিক্ষার প্রবেশিকা পরীক্ষায় সামাজিক শ্রেণি ও লিঙ্গভিত্তিক সাফল্যের চিত্র বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ। তবে সাফল্যের হার, সফল প্রার্থীর সংখ্যা এবং মোট সফলদের মধ্যে কোনও গোষ্ঠীর অংশ—এই তিনটি সূচক পৃথকভাবে এবং সতর্কভাবে বিচার করা প্রয়োজন।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles