খবর

খনিজ সম্পদে রাজ্যের অধিকার খর্বের অভিযোগ, বিধানসভা ব্যর্থ হলে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারি বিজেডির

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • ভুবনেশ্বর: খনি ও খনিজ (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন বা এমএমডিআর আইনের সাম্প্রতিক সংশোধনের বিরুদ্ধে ওড়িশা বিধানসভা কার্যকর অবস্থান না নিলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে…
  • দলের প্রবীণ নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী প্রতাপ জেনা জানিয়েছেন, সংশোধিত আইনটির বিরুদ্ধে বিধানসভায় প্রস্তাব গ্রহণ করানোর চেষ্টা চালাবে বিজেডি।
  • সেই উদ্যোগ ব্যর্থ হলে রাজ্যের স্বার্থরক্ষায় আইনি লড়াই শুরু করা হতে পারে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

ভুবনেশ্বর: খনি ও খনিজ (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন বা এমএমডিআর আইনের সাম্প্রতিক সংশোধনের বিরুদ্ধে ওড়িশা বিধানসভা কার্যকর অবস্থান না নিলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে পারে বিজু জনতা দল। দলের প্রবীণ নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী প্রতাপ জেনা জানিয়েছেন, সংশোধিত আইনটির বিরুদ্ধে বিধানসভায় প্রস্তাব গ্রহণ করানোর চেষ্টা চালাবে বিজেডি। সেই উদ্যোগ ব্যর্থ হলে রাজ্যের স্বার্থরক্ষায় আইনি লড়াই শুরু করা হতে পারে।

সংসদে ১৩ আগস্ট পাশ হওয়া খনি ও খনিজ (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) সংশোধনী আইন, ২০২৬-এ খনিজ সম্পদের অধিকার এবং খনিজসমৃদ্ধ জমির উপর কর আরোপের ক্ষেত্রে রাজ্যগুলির ক্ষমতায় বিধিনিষেধ আনা হয়েছে। কেন্দ্রের যুক্তি, বিভিন্ন রাজ্য আলাদা আলাদা হারে কর ও অন্যান্য শুল্ক বসানোয় খনি ক্ষেত্রের পরিচালনা এবং বিনিয়োগে অসামঞ্জস্য দেখা দিচ্ছিল। সেই কারণে একটি অভিন্ন নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা প্রয়োজন।

বিজেডির অভিযোগ, এই সংশোধনের মাধ্যমে খনিজসমৃদ্ধ রাজ্যগুলির সাংবিধানিক ও আর্থিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে ওড়িশা। দেশের মোট ধাতব ও অধাতব খনিজ উৎপাদনের মূল্যের প্রায় ৪৩.৭ শতাংশই আসে এই রাজ্য থেকে। ওড়িশা সরকারের মোট রাজস্বের আনুমানিক ২১ শতাংশ খনি ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত। ফলে খনিজ ও খনিজসমৃদ্ধ জমির উপর নিজস্ব কর বসানোর ক্ষমতা সীমিত হলে রাজ্যের উন্নয়নমূলক ব্যয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে বিরোধীদের আশঙ্কা।

প্রতাপ জেনা বলেন, বিষয়টি কেবল বিজেপি ও বিজেডির রাজনৈতিক বিরোধ নয়; এর সঙ্গে ওড়িশার সামগ্রিক স্বার্থ জড়িত। তাঁর কথায়, “আমরা বিধানসভার ভিতরে লড়ব, সংসদেও আমাদের যতটুকু শক্তি রয়েছে তা নিয়ে প্রতিবাদ করব। প্রয়োজনে ঝাড়খণ্ড ও ছত্তীসগঢ়ের মতো অন্য খনিজসমৃদ্ধ রাজ্যের সঙ্গেও কথা বলব। কোনও পথ খোলা না থাকলে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার কথাও ভাবা হবে।”

বিজেডি অবিলম্বে ওড়িশা বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন ডেকে সংশোধিত আইনের বিরুদ্ধে সর্বসম্মত প্রস্তাব গ্রহণের দাবি তুলেছে। কংগ্রেসও বিশেষ অধিবেশনের দাবিকে সমর্থন করেছে। বিজেডি সভাপতি তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক সংশোধনটিকে ‘ওড়িশাবিরোধী’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, একটিমাত্র আইন সংশোধনের মাধ্যমে রাজ্যের নিজস্ব খনিজ এবং খনিজসমৃদ্ধ জমির উপর নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি রাজ্যের বিজেপি সাংসদদেরও দলীয় অবস্থানের ঊর্ধ্বে উঠে সংশোধন প্রত্যাহারের জন্য কেন্দ্রের উপর চাপ সৃষ্টি করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের ২০২৪ সালের একটি ঐতিহাসিক রায়। নয় বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ জানিয়েছিল, খনিজের উপর প্রদেয় রয়্যালটি কর নয় এবং খনিজের অধিকার ও খনিজসমৃদ্ধ জমির উপর পৃথক কর আরোপের ক্ষমতা রাজ্যগুলির রয়েছে। খনিজ উৎপাদনের পরিমাণ অথবা প্রদেয় রয়্যালটির ভিত্তিতেও রাজ্য আইনসভা ওই কর নির্ধারণ করতে পারে।

বিজেডির মতে, সংসদে পাশ হওয়া নতুন সংশোধন সেই সাংবিধানিক বেঞ্চের রায়ের মূল বক্তব্যকেই কার্যত নিষ্ক্রিয় করে দিচ্ছে। দলের প্রবীণ নেতা দেবীপ্রসাদ মিশ্র জানিয়েছেন, রাজনৈতিক আন্দোলনের পাশাপাশি বিচারবিভাগীয় পথও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংসদে আইন পাশ হয়ে গেলেও তার সাংবিধানিক বৈধতা আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যায়।

ওড়িশার সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির অঙ্কও রাজনৈতিক সংঘাতকে তীব্র করেছে। শিল্পমহল ও রাজ্যের বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, কর আরোপের সুযোগ সীমিত হলে বছরে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারাতে পারে ওড়িশা। অতীতের বকেয়া ধরলে দাবির পরিমাণ এক লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

অন্যদিকে, বিজেপির দাবি, সংশোধনের ফলে ওড়িশা এক টাকাও হারাবে না। কেন্দ্র কোনও রাজ্যের অধিকার কেড়ে নেয়নি; বরং খনি ক্ষেত্রে করের অসামঞ্জস্য দূর করে স্বচ্ছ ও স্থিতিশীল ব্যবস্থা তৈরির চেষ্টা করেছে। তবে বিজেডি এই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ। আসন্ন বিধানসভা অধিবেশনে বিষয়টি নিয়ে প্রবল সংঘাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বিধানসভা যদি সংশোধনের বিরুদ্ধে প্রস্তাব গ্রহণ না করে, তা হলে ওড়িশার খনিজ সম্পদের অধিকার নিয়ে রাজনৈতিক লড়াই শেষ পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ আদালতে পৌঁছতে পারে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles