খবর

অগ্নিমিত্রার ধমকের পর পুনর্বাসন, ফুটপাতবাসী সীতার জন্য ঘর ও কাজের ব্যবস্থা

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাংলাস্ফিয়ার: কলকাতার ফুটপাতে দুধ গরম করতে গিয়ে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের ধমক শুনেছিলেন যে গৃহহীন মহিলা, তাঁর পরিবারের জন্য এ বার বাসস্থান…
  • পার্ক স্ট্রিট সংলগ্ন ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের ফুটপাতবাসী ওই মহিলার নাম সীতা মল্লিক।
  • একটি রেস্তরাঁয় পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজও দেওয়া হয়েছে তাঁকে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাংলাস্ফিয়ার: কলকাতার ফুটপাতে দুধ গরম করতে গিয়ে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের ধমক শুনেছিলেন যে গৃহহীন মহিলা, তাঁর পরিবারের জন্য এ বার বাসস্থান ও কাজের ব্যবস্থা করল রাজ্য সরকার। পার্ক স্ট্রিট সংলগ্ন ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের ফুটপাতবাসী ওই মহিলার নাম সীতা মল্লিক। একটি রেস্তরাঁয় পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজও দেওয়া হয়েছে তাঁকে।

শুক্রবার অগ্নিমিত্রা জানান, সীতা ও তাঁর পরিবারের পছন্দের এলাকা বিবেচনা করেই থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কাজের ব্যবস্থা হওয়ায় পরিবারটি নিজেদের উপার্জনে চলতে পারবে এবং আর ফুটপাতে থাকতে হবে না বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ঘটনার সূত্রপাত চলতি মাসের গোড়ায়। পার্ক স্ট্রিট ও ফ্রি স্কুল স্ট্রিট এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযান চলাকালীন সীতাকে উনুনে দুধ গরম করতে দেখেন অগ্নিমিত্রা। সীতা জানিয়েছিলেন, ওই দুধ তাঁর নাতির জন্য গরম করা হচ্ছিল। তা সত্ত্বেও মন্ত্রী তাঁকে তিরস্কার করেন এবং জায়গাটি পরিষ্কার করার জন্য দফতরের আধিকারিক ও পুলিশকে নির্দেশ দেন। সেই ঘটনার ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই মন্ত্রীর আচরণের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

বিতর্কের মধ্যে গত ২৫ আগস্ট মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচিতে সপরিবারে হাজির হন সীতা। বিজেপি সূত্রের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর প্রথমে পরিবারটির তিন দিনের খাবার এবং অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পাশাপাশি, তাদের পছন্দের এলাকায় স্থায়ী বাসস্থানের সন্ধান শুরু হয়। পরে সীতাকে মধ্য কলকাতায় কলকাতা পুরসভার একটি আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়। যদিও অপরিচিতদের সঙ্গে থাকতে আপত্তি জানিয়ে তিনি প্রথমে সেখান থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। পরে পুরকর্মী ও স্থানীয় বিজেপি নেতারা তাঁকে বুঝিয়ে ফের আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যান।

শুভেন্দু জানিয়েছিলেন, সীতা বর্তমান প্রশাসনের উপরে আস্থা রাখেন। ফুটপাত পথচারীদের চলাচলের জায়গা হলেও গৃহহীন মানুষদের পুনর্বাসনের দায়িত্ব প্রশাসনকেই নিতে হবে—এই যুক্তিতেই পুরসভাকে বাসস্থানের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন তিনি।

ঘটনাটি নিয়ে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ অগ্নিমিত্রার সমালোচনা করেন এবং সীতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন। তাঁর বক্তব্য ছিল, একটি শিশুর জন্য মা দুধ গরম করছেন অথচ তাঁর মাথার উপরে ছাদ নেই—প্রশাসনের প্রথম কাজ হওয়া উচিত পরিবারটির থাকার ব্যবস্থা করা। সীতার পরিবার এবং শিশুদের লেখাপড়ার দায়িত্ব নিতেও তিনি প্রস্তুত বলে জানিয়েছিলেন।

সমালোচনার মুখে অগ্নিমিত্রা পরে স্বীকার করেন, তাঁর ওই ভাবে কথা বলা উচিত হয়নি। বিষয়টি আরও শান্ত ভাবে বোঝানো যেত। তবে ফুটপাত পরিচ্ছন্ন ও দখলমুক্ত রাখার অবস্থান থেকে তিনি সরেননি। তাঁর দাবি, উনুনের পাশে ছ’মাসের শিশুকে রাখা বিপজ্জনক ছিল এবং শহর পরিচ্ছন্ন রাখার স্বার্থেই তিনি আধিকারিকদের ব্যবস্থা নিতে বলেছিলেন। শেষ পর্যন্ত তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কই পাঁচ দশক ধরে ফুটপাতে থাকা সীতার পরিবারের জন্য ছাদ ও জীবিকার পথ খুলে দিল।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles