হাইলাইটস
- হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের জন্য বাধ্যতামূলক বিমা ব্যবস্থার কথা ঘোষণা করেছে ইরান।
- আপাতত ৬০ দিনের জন্য এই বিমা বিনামূল্যে থাকলেও পরে ‘ইনস্যুরেন্স ফি’ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান।
- নতুন নিয়মে জাহাজকে ইরানের নির্ধারিত রুট ব্যবহার করতে হবে এবং আগাম অনুমতি নিতে হবে।
- আন্তর্জাতিক শিপিং শিল্প এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক জলপথের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে।
- বিশ্বের প্রায় ২০% তেল পরিবহণ এই প্রণালী দিয়েই হয়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও অন্তর্বর্তী সমঝোতার পর হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজেদের কর্তৃত্ব আরও স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠার পথে হাঁটছে ইরান। তেহরান এখন ইঙ্গিত দিয়েছে যে, ভবিষ্যতে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলির কাছ থেকে “ইনস্যুরেন্স ফি” বা বিমা-সংক্রান্ত পরিষেবা বাবদ অর্থ নেওয়া হতে পারে।
ইরানের নবগঠিত পার্সিয়ান গাল্ফ স্ট্রেট অথরিটি (পিজিএসএ) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী অতিক্রমকারী সমস্ত জাহাজকে বাধ্যতামূলক বিমা নীতি গ্রহণ করতে হবে। আপাতত ৬০ দিনের আলোচনাকালীন এই সুবিধা বিনামূল্যে দেওয়া হবে। তবে পরে এর জন্য অর্থ নেওয়া হতে পারে বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
শুধু বিমা নয়, জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রেও নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করছে ইরান। তাদের নির্দেশ অনুযায়ী, জাহাজকে নির্দিষ্ট রুট ব্যবহার করতে হবে এবং অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে যাত্রার তথ্য জমা দিতে হবে। তেহরানের দাবি, নিরাপত্তা, মাইন অপসারণ এবং নৌ-চলাচলের ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য এই ব্যবস্থা প্রয়োজন।
তবে আন্তর্জাতিক শিপিং সংস্থাগুলি এবং পশ্চিমা দেশগুলি বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখছে। তাদের মতে, হরমুজ একটি আন্তর্জাতিক জলপথ এবং কোনও একক দেশের সেখানে যাতায়াতের ওপর কর, টোল বা বাধ্যতামূলক ফি চাপানোর অধিকার নেই। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, ইরান সরাসরি “টোল” শব্দটি ব্যবহার না করলেও “বিমা ফি” বা “নিরাপত্তা পরিষেবা ফি”-র মাধ্যমে কার্যত একই কাজ করতে চাইছে।
এই বিতর্কের গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যায়। যুদ্ধের সময় মাইন পাতা, জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং বীমা খরচ কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ার ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কা লেগেছিল। এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসেনি।
যুদ্ধবিরতির পরে তেলবাহী জাহাজ চলাচল কিছুটা বাড়লেও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। ইরান ভবিষ্যতে ফি আরোপের অধিকার সংরক্ষণ করছে, অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা হরমুজকে আন্তর্জাতিক জলপথ হিসেবেই দেখতে চায়। ফলে আগামী কয়েক মাসে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও বাড়তে পারে।