বাংলাস্ফিয়ার: দেশজুড়ে পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক সংঘাতের জেরে সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন টানা চতুর্থ দিন কার্যত অচল রইল। শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধীদের বিক্ষোভের মুখে লোকসভা ও রাজ্যসভা বারবার মুলতবি করতে হয়। সরকার আলোচনায় প্রস্তুত বলে জানালেও বিরোধীরা মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনড় থাকায় অচলাবস্থা কাটেনি।

শুক্রবার অধিবেশন শুরু হতেই বিরোধী সাংসদরা স্লোগান দিতে দিতে ওয়েলে নেমে আসেন। তাঁদের অভিযোগ, সারা দেশে একের পর এক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতির নৈতিক দায় এড়াতে পারেন না কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী। তাই তাঁকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে এবং বিষয়টি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা করতে হবে।

লোকসভার স্পিকার ও রাজ্যসভার চেয়ারম্যান একাধিকবার সদস্যদের নিজ নিজ আসনে ফিরে যাওয়ার আবেদন জানান। কিন্তু বিক্ষোভ অব্যাহত থাকায় নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব ও অন্যান্য আইন প্রণয়নের কাজ এগোয়নি। কয়েক দফা মুলতবির পর দিনের কার্যক্রম কার্যত ভেস্তে যায়।

সরকারের পক্ষ থেকে সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী এবং শাসকদল জানায়, প্রশ্নফাঁস একটি গুরুতর বিষয় এবং সরকার তা নিয়ে আলোচনা এড়াচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইতিমধ্যেই দ্রুত বিচার আদালত গঠন, কঠোর আইন আনা এবং দোষীদের দ্রুত শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন। সরকার সংসদে এ বিষয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত বলেও জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে বিরোধীদের বক্তব্য, শুধুমাত্র আশ্বাসে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে না। দীর্ঘদিন ধরে পরীক্ষা পরিচালনায় গাফিলতি, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তাহীনতা এবং দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। তাই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগই প্রথম পদক্ষেপ হওয়া উচিত।

সংসদের বাইরে বিভিন্ন বিরোধী দলের নেতারা যৌথভাবে দাবি করেন, দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে আপস করা যাবে না। প্রশ্নফাঁসের ঘটনাগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত, ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের ন্যায়বিচার এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের দাবিও তাঁরা তোলেন।

টানা চার দিন ধরে সংসদ অচল থাকায় গুরুত্বপূর্ণ বিল, আর্থিক ও নীতিগত আলোচনা পিছিয়ে যাচ্ছে। সরকার ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে সমঝোতার কোনও ইঙ্গিত এখনও না মেলায় আগামী অধিবেশনেও একই অচলাবস্থা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংসদ সচল করে প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে গঠনমূলক আলোচনা হবে, নাকি রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হবে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।