International

ট্রাম্পের এআই-দাবাড়ু কে?

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিল্পের শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক, স্বেচ্ছায় নিরাপত্তাবিধি মেনে চলার চুক্তি—তার পরেই আমেরিকার নতুন এআই-প্রধান হিসেবে উঠে এল জে ক্লেটনের নাম।
  • আর এই নিয়োগ ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন, কে এই ক্লেটন?
  • কেনই বা তাঁকে এত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বেছে নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন?

বিস্তারিত প্রতিবেদন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিল্পের শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক, স্বেচ্ছায় নিরাপত্তাবিধি মেনে চলার চুক্তি—তার পরেই আমেরিকার নতুন এআই-প্রধান হিসেবে উঠে এল জে ক্লেটনের নাম। আর এই নিয়োগ ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন, কে এই ক্লেটন? কেনই বা তাঁকে এত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বেছে নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন?

ক্লেটন ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বিনিয়োগকারী ডেভিড স্যাক্সের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। চলতি বছরের মার্চে ট্রাম্প প্রশাসনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ক্রিপ্টোকারেন্সি সংক্রান্ত প্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দেন স্যাক্স। ‘অল-ইন’ পডকাস্টের সহ-সঞ্চালক স্যাক্স বর্তমানে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদের সহ-সভাপতি। প্রযুক্তি, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও উদ্ভাবন নীতি নিয়ে প্রশাসনকে পরামর্শ দেওয়ার জন্য বাইরের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে এই পরিষদ গঠিত।

এআই নিয়ে চাপ বাড়ছে

গত সপ্তাহেই হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন এআই শিল্পের শীর্ষকর্তারা। সেখানে তাঁরা স্বেচ্ছায় কিছু নিরাপত্তা মানদণ্ড মেনে চলার চুক্তিতে সই করেন। ট্রাম্প সেই চুক্তিকে ‘নৈতিক ভাবে বাধ্যতামূলক’ বলে বর্ণনা করেন। তার কিছু পরেই সামনে আসে ক্লেটনের নতুন দায়িত্ব পাওয়ার খবর।

এআই শিল্প যখন দ্রুত এগোচ্ছে, তখনই এই নিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে এমন এআই এজেন্টকে ঘিরে একের পর এক হ্যাকিংয়ের ঘটনা এবং এআই গবেষকদের বিপর্যয়ের আশঙ্কা—সব মিলিয়ে প্রযুক্তিটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই এবং ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানের মতো শিল্পনেতারা সবচেয়ে উন্নত এআই মডেলগুলির জন্য কেন্দ্রীয় স্তরে নিরাপত্তাবিধি তৈরির পক্ষে সওয়াল করেছেন। অন্য দিকে, ট্রাম্প এখনও পর্যন্ত কড়া নিয়ন্ত্রণমূলক বিধিব্যবস্থার বিরোধিতা করে এসেছেন।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে ক্লেটন বলেছেন, প্রেসিডেন্ট এমন একটি দল গড়তে বলেছেন, যারা নিশ্চিত করবে—অতিবুদ্ধিমান এআইয়ের দৌড়ে আমেরিকা যেন নেতৃত্ব ধরে রাখতে পারে এবং দেশের মানুষের স্বার্থই যেন সবার আগে থাকে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় এখনও স্পষ্ট নয়। মার্কিন সরকারের নতুন এআই-প্রধান হিসেবে ক্লেটনের নিয়োগের কথা ট্রাম্প এখনও প্রকাশ্যে ঘোষণা করেননি।

সেপ্টেম্বরে ট্রুথ সোশ্যালে এআই-প্রধান নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে ট্রাম্প লিখেছিলেন, “এই অসাধারণ শিল্পের বিকাশে আমরা কোনও ভাবেই বাধা দেব না বা তাকে দমিয়ে রাখব না। বরং আমরা তাকে যত্ন করব, সাহায্য করব এবং তার বেড়ে ওঠার সময়ে নজর রাখব! কেবল উচ্চ আইকিউ-সম্পন্ন ব্যক্তিরাই আবেদন করুন!”

আইন থেকে ওয়াল স্ট্রিট

ওয়াল্টার ‘জে’ ক্লেটনের বেড়ে ওঠা পেনসিলভেনিয়ায়। পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ও আইনে ডিগ্রি নেওয়ার পাশাপাশি লন্ডনের কিংস কলেজ থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর করেন তিনি।

কর্মজীবনের শুরু আইনজীবী হিসেবে। সংস্থার সংযুক্তিকরণ ও অধিগ্রহণ এবং পুঁজি সংগ্রহের মতো বড় আর্থিক লেনদেনে বিশেষজ্ঞ ছিলেন তিনি।

১৯৯২ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আইন সংস্থা সুলিভান অ্যান্ড ক্রমওয়েলে কাজ করেন ক্লেটন। পরে সংস্থার অংশীদারও হন। ২০০৮ সালের আর্থিক সঙ্কটের সময়ও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি লেনদেনে তাঁর ভূমিকা ছিল।

২০০৭ সালে বিপর্যস্ত বিনিয়োগ ব্যাঙ্ক বেয়ার স্টার্নসের ব্যবসায়িক সম্পদ জেপিমরগ্যান চেজের কাছে বিক্রির প্রক্রিয়া তদারক করেন তিনি। লেম্যান ব্রাদার্স দেউলিয়া হওয়ার পর তার সম্পদ অধিগ্রহণে বার্কলেজকে সাহায্য করেন। একই সময়ে ওয়ারেন বাফেটের সংস্থা বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের ৫০০ কোটি ডলারের বিনিয়োগের লেনদেন চূড়ান্ত করতেও গোল্ডম্যান স্যাক্সকে সহায়তা করেন ক্লেটন।

ট্রাম্পের সঙ্গে বন্ধুত্ব

২০১৬ সালে মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন বা এসইসি-র চেয়ারম্যান পদের জন্য ক্লেটনের নাম ট্রাম্পের জামাই জ্যারেড কুশনারের কাছে সুপারিশ করেন সুলিভান অ্যান্ড ক্রমওয়েলের তৎকালীন সিনিয়র চেয়ারম্যান জোসেফ শেঙ্কার। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কুশনারের সঙ্গে ওই আইন সংস্থার আগে থেকেই ঘনিষ্ঠ পেশাগত সম্পর্ক ছিল। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর পারিবারিক ব্যবসার আইনি প্রতিনিধিত্বও করেছে সংস্থাটি।

এর পর ২০১৭ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত এসইসি-র চেয়ারম্যান ছিলেন ক্লেটন।

ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কও কম আলোচিত নয়। সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, দু’জনের গল্‌ফ খেলার বন্ধুত্ব রয়েছে। ২০২০ সালে ট্রাম্পের সঙ্গে গল্‌ফ খেলতে গিয়ে নিউ ইয়র্কের সাদার্ন ডিস্ট্রিক্ট বা এসডিএনওয়াইয়ের প্রধান ফেডারেল কৌঁসুলি হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন ক্লেটন।

এফবিআই নয়, গোটা গোয়েন্দা দুনিয়া

মার্কিন সেনেটের অনুমোদনের পর ক্লেটন এসডিএনওয়াইয়ের শীর্ষ পদে যোগ দেন এবং প্রায় এক বছর সেই দায়িত্ব সামলান। ট্রাম্পের মনোনীত ব্যক্তি হিসেবে তাঁর নিয়োগ সে সময় যথেষ্ট আলোচনার জন্ম দেয়। কারণ, এসডিএনওয়াই দীর্ঘদিন ধরেই প্রেসিডেন্টের সরাসরি হস্তক্ষেপ থেকে দূরে থাকার ঐতিহ্য ধরে রেখেছিল।

এর পরেও থামেনি ক্লেটনের উত্থান। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে মার্কিন সেনেট তাঁকে দেশের নতুন জাতীয় গোয়েন্দা অধিকর্তা হিসেবে অনুমোদন দেয়। এই পদের দায়িত্ব আমেরিকার ১৮টি পৃথক গোয়েন্দা সংস্থার কাজকর্মের সমন্বয় ও তদারক করা।

আর এখন সেই ক্লেটনের নামই উঠে এসেছে আমেরিকার এআই নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে।

আইনজীবী থেকে ওয়াল স্ট্রিট, সেখান থেকে এসইসি, ফেডারেল কৌঁসুলির দফতর এবং গোটা মার্কিন গোয়েন্দা ব্যবস্থার শীর্ষ পদ—ক্লেটনের কর্মজীবনের তালিকা এমনিতেই দীর্ঘ। এ বার তার সঙ্গে যোগ হতে চলেছে এআই। ট্রাম্পের ‘এআই-দাবাড়ু’ হিসেবে তিনি শেষ পর্যন্ত কতটা সফল হন, নজর থাকবে সেদিকেই।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles