হাইলাইটস
- বিজেপি ও আরএসএস নেতৃত্ব নতুন জাতীয় সভাপতির টিম নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে।
- ১১ জন জাতীয় সহ-সভাপতি ও ৬ জন সাধারণ সম্পাদকের নাম চূড়ান্ত।
- বিভিন্ন রাজ্য ও সামাজিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বে জোর।
- সংগঠনে নতুন ও অভিজ্ঞ নেতৃত্বের মিশ্রণ রাখার চেষ্টা।
- শীঘ্রই কয়েকটি রাজ্যে রাজ্যপাল বদলের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
নতুন জাতীয় সভাপতির নেতৃত্বে বিজেপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক কাঠামো প্রায় চূড়ান্ত। দলীয় সূত্রের দাবি, বিজেপি এবং আরএসএসের শীর্ষ নেতৃত্বের একাধিক দফার আলোচনার পর নতুন টিমের রূপরেখা তৈরি হয়েছে এবং যে কোনও মুহূর্তে তা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে। রাজনৈতিক মহলে জল্পনা, এই সাংগঠনিক পুনর্গঠন আগামী কয়েক বছরের নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
সূত্রের খবর, নতুন টিমে ১১ জন জাতীয় সহ-সভাপতি এবং ৬ জন সাধারণ সম্পাদক থাকবেন। এছাড়া জাতীয় সম্পাদক, মুখপাত্র এবং বিভিন্ন সাংগঠনিক বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্তদের নামও একসঙ্গে ঘোষণা করা হতে পারে। বিজেপি নেতৃত্ব চাইছে এমন একটি টিম গড়ে তুলতে, যা একদিকে যেমন অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার বহন করবে, অন্যদিকে তেমনি নতুন প্রজন্মের নেতাদেরও সামনে নিয়ে আসবে।
দলের ভেতরে আলোচনা হয়েছে বিভিন্ন রাজ্যের রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়েও। উত্তর ভারত, দক্ষিণ ভারত, পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি তফসিলি জাতি, তফসিলি উপজাতি, ওবিসি, মহিলা এবং যুব নেতৃত্বের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর দিকেও নজর রাখা হয়েছে।
বিজেপির কাছে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল একাধিক রাজ্যে সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা এবং আগামী লোকসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করা। সেই লক্ষ্যেই নতুন সভাপতির টিমকে শুধু প্রশাসনিক নয়, রাজনৈতিকভাবেও কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আরএসএসের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে সাংগঠনিক পদে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও সূত্রের দাবি।
রাজনৈতিক মহলে আরও একটি জল্পনা ঘুরছে। কেন্দ্রীয় সরকার নাকি শীঘ্রই কয়েকটি রাজ্যে রাজ্যপালদের রদবদল করতে পারে। দলীয় ও সাংবিধানিক দায়িত্বের মধ্যে সমন্বয় রেখে এই পরিবর্তন আনা হতে পারে বলে আলোচনা চলছে। যদিও এ বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।
বিজেপির অভ্যন্তরে এই পুনর্গঠনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন, বিভিন্ন রাজ্যে নতুন সমীকরণ এবং ভবিষ্যতের নির্বাচনী লড়াইকে সামনে রেখে দল নিজেদের সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করতে চাইছে। নতুন সভাপতির নেতৃত্বে ঘোষিত টিম সেই লক্ষ্য পূরণে কতটা সফল হয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।