এসআইআর: নোটবন্দির সেই চেনা ছায়া

যা জানা জরুরি
- সমাজ কীভাবে চলে এবং সমৃদ্ধ হয়, তা আমাদের বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি করে যে পাঠ্যবইগুলি, তাদের আদর্শ জগতে প্রতিষ্ঠান এবং আইনের শাসনের মূল্য অপরিসীম।
- বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি অর্থনীতি পড়েছি, এখনও বিষয়টির চর্চা করি।
- সেই অর্থনীতিও এমনই একটি তত্ত্বকে তার সর্বোচ্চ সম্মান দিয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
সমাজ কীভাবে চলে এবং সমৃদ্ধ হয়, তা আমাদের বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি করে যে পাঠ্যবইগুলি, তাদের আদর্শ জগতে প্রতিষ্ঠান এবং আইনের শাসনের মূল্য অপরিসীম। বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি অর্থনীতি পড়েছি, এখনও বিষয়টির চর্চা করি। সেই অর্থনীতিও এমনই একটি তত্ত্বকে তার সর্বোচ্চ সম্মান দিয়েছে। কিন্তু বাস্তব দুনিয়ার দিকে যাঁরা নজর রাখেন, তাঁদের বোঝা উচিত, বিষয়টি এত সরল নয়। চিন তো সামনেই রয়েছে—অস্বস্তিকর সেই বিরাট উদাহরণ, যাকে আলোচনায় প্রায়ই এড়িয়ে যাওয়া হয়। কিছু অর্থনীতিবিদ অবশ্য তা বোঝেন। এই প্রসঙ্গে অর্থনীতিবিদ ইউয়েন ইউয়েন আংয়ের সাক্ষাৎকারটি চমৎকার। দুর্বোধ্য পরিভাষার বেড়াজাল ছাড়াই বিষয়টি বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি।
পাঠকের নিশ্চয়ই মনে হচ্ছে, প্রতিষ্ঠান আর অর্থনৈতিক বৃদ্ধির সঙ্গে এই লেখার শিরোনামে থাকা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরের সম্পর্ক কী? একটু ধৈর্য ধরুন।
একটি অনুসন্ধান এবং তার পরে ধারাবাহিক প্রতিবেদন সন্দেহাতীতভাবে প্রতিষ্ঠা করেছে যে, যেভাবে এসআইআর চালানো হয়েছে, তাতে গুরুতর প্রাতিষ্ঠানিক অনাচারের ছাপ স্পষ্ট—এমনকি প্রতিষ্ঠানকে ভিতর থেকে বিপর্যস্ত করার অভিযোগও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এখানে কোনও সাংবিধানিক আইনের তাত্ত্বিক বিতর্ক চলছে না। আমরা বাস্তবের মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে কথা বলছি। সেই কারণেই এসআইআরে অন্যায়ভাবে নাম বাদ দেওয়া সর্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা গণতন্ত্রের একেবারে মর্মমূলে আঘাত করে। কাউকে অন্যায়ভাবে সরকারি জনকল্যাণমূলক সুবিধা, সম্পত্তি কিংবা জীবিকা থেকে বঞ্চিত করলে তিনি নির্বাচনে তার রাজনৈতিক প্রতিশোধ নিতে পারেন। কিন্তু ভোট দেওয়ার অধিকারটাই কেড়ে নিলে তাঁর হাতে আর কী থাকে?
যে প্রতিষ্ঠান ভারতের নির্বাচন কমিশনকে এসব করেও পার পেয়ে যেতে দিয়েছে, সেটি সুপ্রিম কোর্ট। কার্যত সর্বোচ্চ আদালত এই যুক্তিকেই অনুমোদন দিয়েছে: কাজের চাপে জর্জরিত আদালত থেকে ছাড়পত্র না পাওয়া পর্যন্ত আপনি ভোটাধিকারহীন।
এবার কী? বিরোধীরা সমাবেশের পরিকল্পনা করছে, সুপ্রিম কোর্ট নতুন আবেদন শোনার প্রস্তুতি নিচ্ছে, আর নির্বাচন কমিশন তার কিছু চরম অযৌক্তিক নিয়ম বদলেছে—যে নিয়মগুলি ভোটার তালিকায় নাম ফেরানো অত্যন্ত কঠিন করে তুলেছিল। যাঁদের ভোটাধিকার হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, অর্থাৎ যাঁদের নোটিস দেওয়া হয়েছে, অন্তত কিছু জায়গায় তাঁদের আর ছোটাছুটি করতে হবে না। এবার তাঁরা আশা করতে পারেন, বুথ লেভেল অফিসার তাঁদের বাড়িতে যাবেন। স্বল্প বেতনের, অতিরিক্ত কাজের ভারে ন্যুব্জ সরকারি কর্মীকে ‘অফিসার’ বলার মধ্যে যে পরিহাস রয়েছে, তা আমার বেশ লাগে।
রাজনীতি যতটুকু বুঝি, তাতে এসবের কোনওটিই এসআইআরকে বাতিল করবে না, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের চাকরি যাবে না, এমনকি পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে সম্ভবত বিপুলসংখ্যক অন্যায়ভাবে বাদ পড়া মানুষের চলতি এসআইআর-সংক্রান্ত শুনানির গতিও বাড়াবে না। অন্যদিকে, সংসদীয় বিরোধীরা এবং সংসদের বাইরে গড়ে ওঠা নতুন বিরোধী শক্তি কাগজের ব্যালটে ফিরে যাওয়া কিংবা নির্বাচন বয়কট করার মতো সম্পূর্ণ হাস্যকর দাবি তুলছে। একদিকে সরকার বলছে, এসআইআরের মাধ্যমে ভারতে থাকা অবৈধ বাংলাদেশিদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে; অন্যদিকে বিরোধীরা কাগজের ব্যালট চাইছে। সব মিলিয়ে এক পূর্ণাঙ্গ উদ্ভট নাট্যমঞ্চ।
এসআইআরকে ঘিরে বৃহত্তর ছবিটা কি একটু স্পষ্ট করে বোঝা সম্ভব? তথ্যবিশ্লেষণের ভিত্তিতে আমার উপলব্ধিটা বলি।
আগস্টের শেষ পর্যন্ত—জাতীয় স্তরে সর্বশেষ বিশ্লেষণ ওই সময় পর্যন্তই হয়েছে, এখন পরিস্থিতি খুব আলাদা হওয়ার কথা নয়—এসআইআরের আগের ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১১ কোটি ৮০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ গিয়েছিল। সংখ্যাটি ভারতের আনুমানিক প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার ১১.৬ শতাংশ। এই সংখ্যাটিকে আলাদা করে দেখলে মাত্র দু’টি ব্যাখ্যা সম্ভব। হয় গণহারে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে, নয়তো ভারতের জনসংখ্যার পূর্বাভাস বাস্তবের তুলনায় বিপুলভাবে বাড়িয়ে ধরা হয়েছে। তবে এই দুই সম্ভাবনার ছকটি যান্ত্রিকভাবে প্রয়োগ করা ঠিক হবে না। তথ্যও সেটাই দেখাচ্ছে।
এসআইআর ভোটার তালিকা থেকে মানুষের নাম ছেঁটে ফেলে, অনেকের নামই অন্যায়ভাবে বাদ যায়। কিন্তু তার পরে তালিকাটি চিরকালের জন্য অপরিবর্তনীয় হয়ে যায় না। বরং এসআইআরের খসড়া তালিকা প্রকাশের পরবর্তী প্রতিটি ধাপে ভোটারের সংখ্যা আবার বাড়তে দেখা যাচ্ছে।
এসআইআর প্রক্রিয়া এখন তিনটি পর্যায়ে রয়েছে। প্রথম শ্রেণিতে রয়েছে ১৭টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল, যেখানে এসআইআরের খসড়া তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, কিন্তু চূড়ান্ত তালিকা এখনও প্রকাশিত হয়নি। দ্বিতীয় শ্রেণিতে রয়েছে আটটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল, যেখানে এসআইআর-পরবর্তী চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, কিন্তু এখনও নির্বাচন হয়নি। তৃতীয় শ্রেণিতে রয়েছে পাঁচটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল, যেখানে এসআইআরের পরে একটি নির্বাচনও হয়ে গিয়েছে। এই তালিকায় অসম নেই। সেখানে এসআইআরের বদলে বিশেষ সংশোধন হয়েছিল।
প্রথম দফায়, অর্থাৎ এসআইআরের আগের তালিকা থেকে এসআইআর-পরবর্তী খসড়া তালিকা তৈরি হওয়ার মধ্যে, এই তিন শ্রেণির অঞ্চলে ভোটারের সংখ্যা কমেছিল যথাক্রমে ১৭ শতাংশ, ১৪ শতাংশ এবং ৯.৯ শতাংশ। দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির অঞ্চলে এসআইআরের আগের তালিকার তুলনায় চূড়ান্ত তালিকায় ভোটার কমেছিল যথাক্রমে ১০.৭ শতাংশ এবং ৮.৯ শতাংশ। আর তৃতীয় শ্রেণির অঞ্চলে এসআইআর এবং তার পরের নির্বাচন—দুই পর্ব পেরোনোর পরে দেখা গিয়েছে, এসআইআরের আগের তুলনায় ভোটার কমেছে ৮.১ শতাংশ।
অবশ্যই রাজ্যভেদে পার্থক্য রয়েছে। এটাও মনে রাখা দরকার, আমি এখানে সামগ্রিক সংখ্যা নিয়ে কথা বলছি। ভোটার তালিকায় নাম ফেরাতে গিয়ে কোনও ব্যক্তিকে যে দুর্ভোগ ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, তাকে এতটুকু ছোট করে দেখানোর উদ্দেশ্য আমার নেই। কেউ কেউ, বিশেষত গরিব মানুষ, সমস্ত চেষ্টা করেও হয়তো নাম ফেরাতে পারবেন না। পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, রাজ্যটি সম্ভবত অসমের সেই কুখ্যাত সারিতে যোগ দিতে চলেছে, যেখানে নাগরিকত্ব নিয়ে কয়েক দশক ধরে মানুষকে নিপীড়ন করা হচ্ছে।
এই উদ্বেগগুলি সত্ত্বেও আমার মনে হয় না, এসআইআর-পরবর্তী ভারতে শেষ পর্যন্ত বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ থেকে যাবে। আর সুবিধাভোগী শ্রেণির মানুষেরা বাদ থেকে যাবেন, এমনটা তো একেবারেই মনে হয় না। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ এতটাই সুবিধাপ্রাপ্ত যে, এসআইআরের নোটিস পাওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে মতামতধর্মী নিবন্ধও লিখতে পেরেছেন।
তাহলে এসব থেকে কী বোঝা যায়? আমার ধারণা এই রকম।
প্রথমত, ক্ষমতাসীনদের সামনে ভারতের প্রতিষ্ঠানগুলির দাসসুলভ আনুগত্য কিংবা তাদের অন্যায়ে যোগসাজশের ইতিহাসে এসআইআর একটি অত্যন্ত নিন্দনীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। এই প্রক্রিয়া সাংবিধানিক নৈতিকতা, এমনকি মৌলিক অধিকারের ধারণাকেও লঙ্ঘন করেছে। তবে এটিই যে সবচেয়ে খারাপ দৃষ্টান্ত, তা অবশ্য নয়। সংবিধান অনুযায়ী মৌলিক অধিকারের রক্ষাকর্তা যে সর্বোচ্চ আদালত, সেই আদালতই জরুরি অবস্থার সময়ে বন্দিপ্রত্যক্ষীকরণের প্রতিকার স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছিল।
ভারতের অভিজাতদের, বিশেষত প্রতিষ্ঠানগুলি রক্ষার দায়িত্ব যাঁদের হাতে, তাঁদের মেরুদণ্ডের দৃঢ়তা রাজনৈতিক চক্রের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ওঠানামা করে। রাজনৈতিক শাসকের শক্তি যত বাড়ে, তাঁদের মেরুদণ্ড তত দুর্বল হয়। শক্তিশালী শাসকের আমলে আমাদের প্রাপ্তি বলতে থাকে বিলম্বিত কিছু সংশোধন। তত দিনে শাসক তার রাজনৈতিক সময়চক্রের প্রয়োজন মিটিয়ে ফেলেছে, আর তার পরে সেই সংশোধনগুলি ন্যায়বিচারের দাবি নিয়ে হাজির হয়।
দ্বিতীয়ত, এসআইআর নিশ্চিতভাবেই যা করেছে, তা হল সাম্প্রদায়িক বিভাজনের পথে বিতর্ককে বিষিয়ে দিয়ে সংবিধানের মৌলিক নীতিগুলিকে দুর্বল করার সুযোগ তৈরি করা। পশ্চিমবঙ্গে এই প্রবণতা চূড়ায় উঠেছিল। সেখানে এসআইআরকে নির্লজ্জভাবে সাম্প্রদায়িক ইঙ্গিত ছড়ানোর কাজে ব্যবহার করা হয়েছে, একই সঙ্গে লঙ্ঘিত হয়েছে সংবিধানের মৌলিক নীতিগুলি। এসআইআর ইতিমধ্যেই তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণ করেছে। ভুল বুঝবেন না, আমি বলতে চাইছি না যে এসআইআর ছাড়া বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে জিততে পারত না।
তৃতীয়ত, এবং আমার মতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, এসআইআর বিজেপির হাতে মূল প্রশ্ন থেকে নজর ঘুরিয়ে দেওয়ার এক নিখুঁত কৌশল হয়ে উঠেছে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পরে যে বিরোধীরা তাদের বিরুদ্ধে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলছিল, তাদের সামনে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে বিজেপি। নির্বাচন কমিশনের গুরুতর অন্যায় কাজের কথা স্বীকার করেও বলতে হয়, বিষয়টি এখন সত্যিই উদ্ভট দেখাচ্ছে: এসআইআরের আগে যে বিরোধী দলনেতা সাংবাদিক বৈঠক করে ভোটার তালিকায় ভুয়ো ভোটার থাকার প্রশ্ন তুলছিলেন, তিনিই এখন এসআইআরে বাদ যাওয়া সমস্ত নাম ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি করছেন।
এসব কারণেই গোটা এসআইআর প্রক্রিয়াটি প্রবলভাবে নোটবন্দির কথা মনে করিয়ে দেয়। প্রথম মোদী সরকার নোটবন্দি করেছিল দু’টি বড় বিধানসভা নির্বাচনে হারের পরে—২০১৫ সালের দিল্লি ও বিহার। জমিয়ে রাখা কালো টাকা, এমনকি জাল নোটও নির্মূল করার চূড়ান্ত পদক্ষেপ হিসেবে নোটবন্দিকে তুলে ধরা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সেটি হয়ে দাঁড়িয়েছিল নিয়মকানুন ও প্রক্রিয়ার এক দুঃস্বপ্ন, অথচ দীর্ঘমেয়াদি ফলাফলে কোনও পরিবর্তন আসেনি। অধিকাংশ টাকাই ব্যবস্থার মধ্যে ফিরে এসেছিল। এই অভিযানের যন্ত্রণা তুলনায় অনেক বেশি বহন করেছিলেন অর্থনীতির সুবিধাবঞ্চিত মানুষেরা। প্রাতিষ্ঠানিক ও বিচারবিভাগীয় প্রশ্নগুলির নিষ্পত্তি হয়েছিল অনেক পরে, যখন সেগুলি কার্যত প্রাসঙ্গিকতাই হারিয়ে ফেলেছে। এসআইআরের সঙ্গে এই মিলগুলি চোখ এড়ানো কঠিন।
প্রতিপক্ষের দুর্দশা থেকে কৌশলগত আনন্দ ও সুবিধা আদায় করা রাজনীতিতে প্রায়ই কার্যকর চাল। সামগ্রিক রাজনৈতিক আবহাওয়া প্রতিকূল মনে হলে সেই চাল আরও কাজে আসে। এই ধরনের কৌশলে নজর ঘোরাতে গেলে প্রায় সব সময়ই অন্য কিছু মানুষের ক্ষতি হয়। কিন্তু রাজনীতি সাধুসন্তদের কাজ নয়। সেখানে উদ্দেশ্যসিদ্ধির যুক্তিতে অপ্রীতিকর উপায়কেও প্রায়ই ন্যায্য বলে চালানো হয়।
এসব বলার অর্থ এসআইআরের সমস্যাগুলিকে সমর্থন করা নয়। আমার বক্তব্য হল, এসআইআরের কুয়াশা কেটে গেলে শেষ পর্যন্ত আমরা হয়তো গণহারে ভোটাধিকার হরণের ছবি দেখব না। বরং দেখব, দেশের ও সাধারণ মানুষের মঙ্গলের পক্ষে আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলি নিয়ে জনপরিসরে আলোচনা করার মূল্যবান সময় নষ্ট হয়েছে। আর সেই প্রশ্নগুলির মীমাংসা অনেক ক্ষেত্রেই প্রতিষ্ঠানের সুস্বাস্থ্য দিয়ে হয় না; হয় রাজনৈতিক অর্থনীতির দ্বন্দ্ব ও পারস্পরিক টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে। শুরুতে উল্লেখ করা আংয়ের সাক্ষাৎকারটিও আমাদের সেই কথাই বলে।
অবশ্যই একটি গণতান্ত্রিক সমাজকে তার প্রতিষ্ঠানগুলি নিয়ে উদ্বিগ্ন হতে হবে। সাংবাদিকদেরও সেই প্রতিষ্ঠানগুলিকে ভিতর থেকে বিপর্যস্ত করার চেষ্টা উন্মোচন করে যেতে হবে। কিন্তু এই কলামের প্রধান আপত্তি বরাবরই এখানে: রাজনৈতিক অর্থনীতি নিয়ে যতটা ভাবি, প্রতিষ্ঠান নিয়ে তার চেয়ে অনেক বেশি ভাবি আমরা।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



