বাংলাস্ফিয়ার: আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় একজন অভিযুক্ত ইতিমধ্যেই দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। কিন্তু আদালতের রায় এবং এক ব্যক্তির শাস্তির পরেও এই ঘটনা ঘিরে মানুষের প্রশ্ন শেষ হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে আরও স্পষ্ট হয়েছে—আর জি করের রহস্য কেবল সেই রাতে হাসপাতালের সেমিনার কক্ষে কী ঘটেছিল, তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। রহস্যের আর একটি, সম্ভবত আরও বিস্তৃত, অংশ রয়েছে ঘটনার পরবর্তী কয়েক ঘণ্টা এবং কয়েক দিনের প্রশাসনিক আচরণের মধ্যে।

মৃত্যু ঘোষণা করতে অস্বাভাবিক বিলম্ব কেন হয়েছিল? নিহত চিকিৎসকের পরিবারকে প্রথমে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছিল কেন? তাঁদের হাসপাতালে পৌঁছনোর পরেও মেয়ের দেহ দেখতে দেওয়া হয়নি কেন? ধর্ষণ ও হত্যার সুস্পষ্ট লক্ষণ থাকা সত্ত্বেও সঙ্গে সঙ্গে এফআইআর দায়ের করা হয়নি কেন? অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দিয়ে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল কেন? পরিবার দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের কথা বলার পরেও দেহ এত দ্রুত সৎকার করা হল কেন? শ্মশানে অপেক্ষমাণ অন্য দেহগুলিকে অতিক্রম করে এই দেহের সৎকারে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল কার নির্দেশে? হাসপাতালের অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকে ঘিরে আগে থেকে একাধিক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও স্বাস্থ্য দফতর কী ব্যবস্থা নিয়েছিল? ঘটনার পরে তাঁকে পদ থেকে সরিয়েই প্রায় সঙ্গে সঙ্গে অন্য একটি সরকারি মেডিক্যাল কলেজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল কেন?

এই প্রশ্নগুলির উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত আর জি কর-কাণ্ডের পূর্ণ সত্য উদ্‌ঘাটিত হয়েছে বলা যায় না।

এই প্রেক্ষাপটেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি সামনে আসে—তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও পুলিশমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৎকালীন স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগমকে তদন্তের কার্যকর পরিধির বাইরে রেখে কি এই রহস্যের পূর্ণ উন্মোচন সম্ভব?

সোজাসাপটা উত্তর—সম্ভব নয়। অন্তত প্রশাসনিক ব্যর্থতা, প্রাতিষ্ঠানিক যোগসাজশ কিংবা সম্ভাব্য ধামাচাপার অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত তাঁদের ভূমিকা পরীক্ষা না করে সম্পন্ন হতে পারে না। তবে তাঁদের তদন্তের আওতায় আনার দাবি এবং তাঁদের অপরাধী বলে ঘোষণা করা এক কথা নয়। গণতান্ত্রিক ও আইনি বিচারে এই পার্থক্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তদন্তের আওতায় আনার অর্থ প্রথমেই গ্রেফতার নয়, অভিযোগপত্রও নয়। এর অর্থ হল, তাঁদের কাছে কী তথ্য পৌঁছেছিল, কখন পৌঁছেছিল, তাঁরা কী নির্দেশ দিয়েছিলেন, কার সঙ্গে কথা বলেছিলেন এবং তাঁদের অধীনস্থ প্রশাসন কোন সিদ্ধান্ত কী কারণে নিয়েছিল—সেগুলি নিরপেক্ষভাবে পরীক্ষা করা। প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন তার নিজস্ব পথে এগোবে। প্রমাণ না পাওয়া গেলে তদন্তই তাঁদের দায়মুক্তির সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য ভিত্তি হয়ে উঠবে।

একটি অপরাধ, কিন্তু তদন্তের অন্তত তিনটি স্তর

আর জি কর-কাণ্ডকে বুঝতে হলে তিনটি পৃথক স্তরকে আলাদা করা প্রয়োজন।

প্রথম স্তরটি হল ধর্ষণ ও হত্যার প্রত্যক্ষ অপরাধ। কে বা কারা ওই চিকিৎসকের উপর নির্যাতন চালিয়ে তাঁকে হত্যা করেছিল? সঞ্জয় রায়কে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত এই স্তরের একটি বিচারিক উত্তর দিয়েছে। কিন্তু নিহত চিকিৎসকের পরিবার-সহ সমাজের একটি বড় অংশের সন্দেহ—একজনের পক্ষেই কি গোটা অপরাধ ঘটানো সম্ভব হয়েছিল? অন্য কেউ কি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত ছিল? সেই সংশয় সম্পূর্ণ দূর হয়েছে কি না, তা এখনও বিতর্কের বিষয়।

দ্বিতীয় স্তরটি হল অপরাধস্থল, তথ্যপ্রমাণ ও প্রাথমিক তদন্ত পরিচালনা। ঘটনার খবর পাওয়ার পরে হাসপাতাল এবং পুলিশ নিয়ম মেনেছিল কি না; অপরাধস্থল সুরক্ষিত রাখা হয়েছিল কি না; দেহ উদ্ধার, মৃত্যুর ঘোষণা, সুরতহাল, ময়নাতদন্ত এবং এফআইআর দায়েরের প্রতিটি ধাপ সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়েছিল কি না—এই স্তরের প্রশ্নগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অপরাধের প্রথম কয়েক ঘণ্টাতেই সবচেয়ে মূল্যবান প্রমাণ সংগৃহীত হয়। সেই সময়ে গাফিলতি হলে পরে তার ক্ষতি পূরণ করা প্রায় অসম্ভব।

তৃতীয় স্তরটি হল সম্ভাব্য প্রাতিষ্ঠানিক বা প্রশাসনিক ধামাচাপা। কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কি অপরাধের গুরুত্ব কমিয়ে দেখাতে চেয়েছিল? কারও ভাবমূর্তি, পদ কিংবা বৃহত্তর কোনও স্বার্থ রক্ষা করতে তদন্তের গতিপথ বদলানোর চেষ্টা হয়েছিল? হাসপাতাল, স্বাস্থ্য ভবন, পুলিশ এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে কোনও নির্দেশ বা সমন্বয় ছিল কি না—এটাই এই স্তরের মূল বিষয়।

প্রথম স্তরে একজন দোষী সাব্যস্ত হওয়া দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের অনুসন্ধানকে অপ্রয়োজনীয় করে দেয় না। বরং অপরাধের পরের ঘটনাক্রমে যত অসংগতি পাওয়া যাবে, ততই বৃহত্তর তদন্তের প্রয়োজন বাড়বে।

আদালত কেন নতুন করে গোটা সময়রেখা দেখতে বলেছে

কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে সিবিআইয়ের তিন সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দলকে নিহত চিকিৎসকের শেষবার খাবার খাওয়ার সময় থেকে শুরু করে পরের দিন তাঁর দেহ সৎকার পর্যন্ত সম্পূর্ণ ঘটনাক্রম পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে। এই নির্দেশের তাৎপর্য গভীর। আদালত কার্যত বুঝিয়ে দিয়েছে, শুধু অপরাধস্থলের ঘটনাই নয়, তার আগের ও পরের প্রতিটি প্রশাসনিক পদক্ষেপও সত্য অনুসন্ধানের অঙ্গ।

সিবিআইয়ের আগের অনুসন্ধানে পুলিশের এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাজকর্মে একাধিক গুরুতর অসংগতি ধরা পড়েছিল। চিকিৎসকের দেহ সকালেই দেখা গেলেও তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত ঘোষণা করতে প্রায় চার ঘণ্টা সময় লেগেছিল। তাঁর বাবা-মা হাসপাতালে পৌঁছনোর পরেও প্রায় তিন ঘণ্টা তাঁদের দেহ দেখতে দেওয়া হয়নি। থানার আধিকারিকেরা যৌন নির্যাতন ও হত্যার খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে গেলেও সঙ্গে সঙ্গে এফআইআর দায়ের করেননি। প্রথমে অস্বাভাবিক মৃত্যুর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরেও ধর্ষণ ও হত্যার এফআইআর দায়ের করতে গভীর রাত হয়ে যায়।

এখানেই শেষ নয়। পরিবারের বক্তব্য, তাঁরা দেহ সংরক্ষণ এবং দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের সুযোগ চেয়েছিলেন। অথচ তাঁদের অনুরোধ কার্যকর হওয়ার আগেই দেহ বাড়িতে পৌঁছে যায় এবং দ্রুত সৎকারের ব্যবস্থা হয়। অভিযোগ রয়েছে, শ্মশানে আরও কয়েকটি দেহ অপেক্ষা করলেও চিকিৎসকের দেহকে আগে নিয়ে গিয়ে সৎকার করা হয়েছিল। সিবিআইয়ের বিশেষ তদন্তকারী দল পরে পানিহাটির শ্মশানে গিয়ে নথিপত্র পরীক্ষা করেছে এবং কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।

এই ঘটনাগুলিকে বিচ্ছিন্ন গাফিলতি হিসেবে দেখা যেতে পারে। কিন্তু সমস্ত গাফিলতি যদি একই দিকে ফল দেয়—অর্থাৎ তথ্যপ্রমাণ সংরক্ষণের সুযোগ কমিয়ে দেয়, পরিবারের স্বাধীন অনুসন্ধানের পথ বন্ধ করে এবং প্রশাসনকে দ্রুত একটি নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করে—তবে তদন্তকারীদের দেখতে হবে এর পিছনে কোনও সমন্বিত নির্দেশ ছিল কি না।

স্বাস্থ্যসচিবকে বাদ দিলে নির্দেশের শৃঙ্খল অসম্পূর্ণ থাকবে

আর জি কর কোনও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নয়। এটি রাজ্য সরকারের অধীন একটি গুরুত্বপূর্ণ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। তার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ স্বাস্থ্য দফতরের হাতে। হাসপাতালের অধ্যক্ষ, চিকিৎসা-শিক্ষা অধিকর্তা, স্বাস্থ্য-শিক্ষা বিভাগের শীর্ষকর্তা এবং স্বাস্থ্যসচিব—সবাই একটি নির্দিষ্ট প্রশাসনিক শৃঙ্খলের অংশ।

এই কাঠামোয় নারায়ণস্বরূপ নিগমের ভূমিকা পরীক্ষা না করে স্বাস্থ্য দফতরের প্রতিক্রিয়া বোঝা কঠিন।

প্রথম প্রশ্ন, ঘটনার খবর স্বাস্থ্য ভবনে কখন পৌঁছেছিল? কে খবর দিয়েছিলেন? মৌখিক বার্তা এসেছিল, না লিখিত প্রতিবেদন? সেই প্রতিবেদনে ঘটনাটিকে কীভাবে বর্ণনা করা হয়েছিল? আত্মহত্যা, অস্বাভাবিক মৃত্যু, না সম্ভাব্য ধর্ষণ ও হত্যা—কোন ভাষা ব্যবহার করা হয়েছিল?

দ্বিতীয় প্রশ্ন, খবর পাওয়ার পরে স্বাস্থ্যসচিব কোন কোন আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলেছিলেন? হাসপাতালের অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়েছিল কি না; হয়ে থাকলে কী কথা হয়েছিল? স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তা বা অন্য কোনও শীর্ষকর্তাকে তদন্ত, পরিবারকে সহায়তা কিংবা হাসপাতালের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল কি?

তৃতীয় প্রশ্ন, সন্দীপ ঘোষের ভূমিকা। তাঁর বিরুদ্ধে আর জি করের প্রশাসন ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে ঘটনার আগে থেকেই নানা অভিযোগ উঠেছিল। সেই অভিযোগগুলির কতগুলি স্বাস্থ্য দফতরের কাছে পৌঁছেছিল? কোনও তদন্ত হয়েছিল কি? তদন্তের ফল কী হয়েছিল? তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত কোন স্তরে হয়েছিল?

ঘটনার পরে সন্দীপ ঘোষ অধ্যক্ষের পদ থেকে সরে দাঁড়ালেও অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁকে অন্য একটি সরকারি মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ করা হয়। এত দ্রুত সেই সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হয়েছিল? কার সুপারিশে হয়েছিল? স্বাস্থ্যসচিব কি সেই নথিতে অনুমোদন দিয়েছিলেন? সিদ্ধান্তটি তাঁর স্তরের ঊর্ধ্বে নেওয়া হয়ে থাকলে তিনি কাকে প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন?

চতুর্থ প্রশ্ন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অস্বাভাবিক আচরণ সম্পর্কে স্বাস্থ্য দফতর তখন কী জানত। চিকিৎসকের পরিবারকে ভুল তথ্য দেওয়া, তাঁদের দীর্ঘক্ষণ দেহ দেখতে না দেওয়া কিংবা মৃত্যু ঘোষণায় দেরির খবর স্বাস্থ্য ভবনে গিয়েছিল কি? গেলে কোনও অনুসন্ধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল কি?

এই প্রশ্নগুলির উত্তর কোনও স্থানীয় নেতা, হাসপাতালের নিম্নপদস্থ কর্মী বা থানার আধিকারিক দিতে পারবেন না। উত্তর রয়েছে সরকারি নথি, বৈদ্যুতিন বার্তা, ফোনের তথ্য, বৈঠকের কার্যবিবরণী এবং শীর্ষকর্তাদের সাক্ষ্যে। সেই কারণে স্বাস্থ্যসচিবকে আগাম তদন্তের বাইরে রাখা হলে প্রশাসনিক নির্দেশের শৃঙ্খলে একটি বিরাট শূন্যস্থান থেকে যাবে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান ছিল তিনটি ক্ষমতাকেন্দ্রের শীর্ষে

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা রাজনৈতিক আবেগে আটকে গেলে সত্য অনুসন্ধান ব্যাহত হবে। তাঁর বিরোধীরা অনেক সময় প্রমাণের আগেই তাঁকে দোষী ঘোষণা করেন। আবার তাঁর সমর্থকেরা পদমর্যাদার কারণেই তাঁকে প্রশ্নের ঊর্ধ্বে রাখতে চান। আইনের দৃষ্টিতে দুটিই ভুল।

ঘটনার সময় মমতা শুধু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন না। স্বাস্থ্য দফতর ও স্বরাষ্ট্র দফতরও তাঁর হাতে ছিল। অর্থাৎ আর জি কর হাসপাতালের প্রশাসনিক শৃঙ্খল এবং কলকাতা পুলিশের রাজনৈতিক-প্রশাসনিক শৃঙ্খল—দুটিরই সর্বোচ্চ দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

এই বিশেষ পরিস্থিতিতে তাঁর কাছে কয়েকটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তর চাওয়া স্বাভাবিক।

তিনি প্রথম কখন ঘটনার কথা জানতে পারেন? তাঁকে কে জানিয়েছিলেন? প্রাথমিকভাবে তাঁকে আত্মহত্যার কথা বলা হয়েছিল, না ধর্ষণ ও হত্যার সম্ভাবনা জানানো হয়েছিল? তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, স্বাস্থ্যসচিব অথবা তৎকালীন পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে কখন কথা বলেন? পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বা দেহ সৎকারের বিষয়ে তিনি কোনও নির্দেশ দিয়েছিলেন কি না? সন্দীপ ঘোষকে অন্য মেডিক্যাল কলেজে নিয়োগের সিদ্ধান্ত তাঁর অনুমোদনে হয়েছিল কি না? প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তাঁর কাছে কোনও সতর্কবার্তা পৌঁছেছিল কি?

এই প্রশ্ন তোলার অর্থ এই নয় যে, তিনি নিশ্চয়ই অপরাধ গোপনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর হাতে দুটি সংশ্লিষ্ট দফতর থাকার কারণে তদন্তকারীদের তাঁর কাছে পৌঁছতেই হবে। অধস্তন কর্মকর্তারা পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিলে প্রশাসনিক শীর্ষের বক্তব্য প্রয়োজন। নথিতে কোনও সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়ে থাকলে, সেই অনুমোদনের কারণ জানতে হবে।

ভারতীয় ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় কোনও মুখ্যমন্ত্রী তদন্তের ঊর্ধ্বে নন। একই সঙ্গে নিছক রাজনৈতিক পদে থাকার জন্য তাঁকে অপরাধীও বলা যায় না। তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি দায় প্রতিষ্ঠা করতে হলে দেখাতে হবে—তিনি অপরাধ সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য জানতেন, সেই তথ্য গোপন করতে চেয়েছিলেন অথবা তদন্ত, প্রমাণ কিংবা সাক্ষীদের প্রভাবিত করার কোনও নির্দেশ দিয়েছিলেন। এমন প্রমাণ না থাকলে তাঁর দায় রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক হতে পারে; ফৌজদারি নয়।

কিন্তু প্রমাণ আছে কি না, তা জানার একমাত্র পথই হল তদন্ত। তদন্তের আগেই কাউকে নিষ্কলুষ বা দোষী ঘোষণা করা সত্য অনুসন্ধান নয়, রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ।

দ্রুত সৎকার: সিদ্ধান্তের উৎস কোথায়?

আর জি কর-কাণ্ডে সবচেয়ে অস্বস্তিকর অধ্যায়গুলির একটি হল দেহ সৎকারের তৎপরতা। একটি অস্বাভাবিক ও নৃশংস মৃত্যুর ক্ষেত্রে দেহ হল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ। পরিবার যদি দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের কথা তোলে, তবে প্রশাসনের দায়িত্ব হওয়া উচিত সেই দাবি আইনি ভাবে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত দেহ সংরক্ষণের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা।

তার বদলে এত তাড়াহুড়ো হল কেন?

স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা শ্মশানে উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ। কিন্তু তাঁদের উপস্থিতি নিজে থেকেই প্রমাণ করে না যে তাঁরা বৃহত্তর কোনও ষড়যন্ত্রে অংশ নিয়েছিলেন। জানতে হবে, তাঁরা সেখানে কার কাছ থেকে খবর পেয়ে গিয়েছিলেন; পরিবারকে সহযোগিতা করতে, না সৎকার দ্রুত সম্পন্ন করতে? শ্মশান কর্তৃপক্ষকে দেহটি আগে সৎকার করার জন্য কে বলেছিলেন? পুলিশের কোনও আধিকারিক কি নির্দেশ দিয়েছিলেন? স্থানীয় প্রশাসনের কেউ যোগাযোগ করেছিলেন? স্বাস্থ্য দফতর বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা ছিল?

কেবল স্থানীয় নেতা বা শ্মশানকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করে তদন্ত থেমে গেলে নির্দেশের উৎস অধরাই থাকবে। নীচের স্তরের কর্মীরা অনেক সময় মৌখিক নির্দেশ পালন করেন। সেই নির্দেশ কোন স্তর থেকে নেমেছিল, তা বের করাই তদন্তকারীর কাজ।

একটি কার্যকর তদন্তে শ্মশানের নথি, সেখানে উপস্থিত প্রত্যেক ব্যক্তির অবস্থান, তাঁদের ফোনের যোগাযোগ, পুলিশের যাত্রাপথ, দেহবাহী গাড়ির চলাচল এবং নিহতের পরিবারের বক্তব্য পাশাপাশি মিলিয়ে দেখতে হবে। সেই সময় স্বাস্থ্য ভবন, পুলিশ সদর দফতর ও মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে কী যোগাযোগ হচ্ছিল, তাও একই সময়রেখায় বসাতে হবে।

সন্দীপ ঘোষকে কেন্দ্র করে অস্বস্তিকর প্রশ্ন

আর জি কর-কাণ্ডে সন্দীপ ঘোষের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি হাসপাতালের অধ্যক্ষ ছিলেন, ফলে প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা, প্রশাসন এবং ঘটনার পরবর্তী সরকারি প্রতিক্রিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যক্তি হওয়ার কথা। তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির পৃথক তদন্তও হয়েছে। প্রশ্ন হল, সেই অনিয়ম এবং ধর্ষণ-হত্যার পরবর্তী সম্ভাব্য ধামাচাপার মধ্যে কোনও সম্পর্ক ছিল কি না।

ধরা যাক, হাসপাতালের ভিতরে এমন কোনও ক্ষমতাবলয় ছিল, যারা দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক প্রশ্রয় পেয়ে এসেছে। সে ক্ষেত্রে ওই বলয়ের অস্তিত্ব, কার্যপদ্ধতি এবং স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে সম্পর্ক পরীক্ষা না করে হত্যাকাণ্ডের প্রাতিষ্ঠানিক প্রেক্ষাপট জানা যাবে না।

সন্দীপ ঘোষকে এত দিন কে রক্ষা করেছিলেন—এই প্রশ্ন রাজনৈতিক সভায় তোলা সহজ, কিন্তু তদন্তে তার উত্তর প্রমাণ দিয়ে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ স্বাস্থ্য দফতরে জমা পড়েছিল কি না, পড়লে সেগুলি কোন টেবিলে গিয়েছিল, কারা নোট লিখেছিলেন, কার নির্দেশে ব্যবস্থা স্থগিত হয়েছিল—নথিগুলি উদ্ধার করতে হবে।

যদি দেখা যায় স্বাস্থ্যসচিব বারবার ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছিলেন কিন্তু রাজনৈতিক স্তরে তা আটকে গিয়েছিল, তবে তাঁর দায় এক রকম। যদি দেখা যায় তাঁর দফতরই অভিযোগগুলি চেপে রেখেছিল, দায় অন্য রকম। আবার যদি প্রমাণ হয়, সরকার যথাযথ প্রক্রিয়ায় অভিযোগগুলি পরীক্ষা করেছিল এবং কোনও যোগ্য প্রমাণ পায়নি, তা হলে সেই তথ্যও প্রকাশ করা উচিত।

অনুমান নয়, নথিই এখানে শেষ কথা বলবে।

প্রশাসনিক দায় এবং ফৌজদারি দায় এক নয়

আর জি কর নিয়ে আলোচনায় একটি বিপজ্জনক প্রবণতা দেখা যায়—কোনও কর্মকর্তার নাম তদন্তের দাবিতে উঠলেই ধরে নেওয়া হয়, তাঁকে অপরাধী বলা হচ্ছে। বাস্তবে তদন্তের পরিধি অনেক বিস্তৃত।

একজন মুখ্যমন্ত্রী বা সচিব নিজে কোনও বেআইনি নির্দেশ না দিয়েও প্রশাসনিক ব্যর্থতার জন্য দায়ী হতে পারেন। আবার কোনও প্রশাসনিক ব্যর্থতা অনিবার্যভাবে ফৌজদারি অপরাধ নয়। দায়িত্বের কয়েকটি পৃথক মাত্রা আছে।

প্রথমত, প্রত্যক্ষ ফৌজদারি দায়—অপরাধ সংঘটন, ষড়যন্ত্র, প্রমাণ লোপাট বা অপরাধীকে রক্ষা করার সচেতন চেষ্টা।

দ্বিতীয়ত, প্রশাসনিক দায়—দফতরের তদারকিতে ব্যর্থতা, অভিযোগ পেয়েও ব্যবস্থা না নেওয়া, অযোগ্য ব্যক্তিকে পদে বহাল রাখা কিংবা সংকটের সময় যথাযথ নির্দেশ না দেওয়া।

তৃতীয়ত, রাজনৈতিক দায়—সরকারের অধীন প্রতিষ্ঠান ও পুলিশব্যবস্থার ব্যর্থতার জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহি।

চতুর্থত, নৈতিক দায়—একটি ভয়াবহ ঘটনার পরে পরিবার ও আন্দোলনকারীদের প্রতি আচরণ, বক্তব্যের সংবেদনশীলতা এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখা।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও নারায়ণস্বরূপ নিগমের বিরুদ্ধে কোন স্তরের দায় প্রযোজ্য, তা তদন্তের আগে স্থির করা যায় না। কিন্তু তাঁদের সম্পূর্ণ বাইরে রেখে কোনও স্তরের দায়ই যথাযথভাবে বিচার করা সম্ভব নয়।

তদন্ত কীভাবে বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে

প্রথম কাজ হওয়া উচিত একটি মিনিটে-মিনিটে সময়রেখা তৈরি করা। চিকিৎসককে শেষ জীবিত অবস্থায় দেখা থেকে শুরু করে তাঁর দেহ সৎকার পর্যন্ত কে কোথায় ছিলেন, কখন কাকে ফোন করেছিলেন, কখন কোন নথি তৈরি হয়েছিল—সব একটি অভিন্ন সময়রেখায় বসাতে হবে।

দ্বিতীয়ত, হাসপাতালের সমস্ত যোগাযোগ সংরক্ষণ করতে হবে। অভ্যন্তরীণ বার্তা, দাপ্তরিক চিঠি, দায়িত্বের তালিকা, নিরাপত্তার নথি, উপস্থিতির হিসাব এবং নজরদারি ব্যবস্থার তথ্য পরীক্ষা প্রয়োজন।

তৃতীয়ত, পুলিশ, হাসপাতাল, স্বাস্থ্য ভবন এবং রাজনৈতিক প্রশাসনের যোগাযোগের তথ্য পাশাপাশি মিলিয়ে দেখতে হবে। একই সময়ে একাধিক ফোন বা বৈঠকের মধ্যে কোনও সিদ্ধান্তগত সম্পর্ক ছিল কি না, তা অনুসন্ধান করতে হবে।

চতুর্থত, নীচের স্তর থেকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে ধাপে ধাপে উপরের দিকে যেতে হবে। কার নির্দেশে কে কী করেছেন, সেই বয়ান নথি ও প্রযুক্তিগত তথ্য দিয়ে যাচাই করতে হবে।

পঞ্চমত, স্বাস্থ্যসচিব এবং প্রয়োজন হলে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত করতে হবে। তাঁদের শুধু রাজনৈতিক বিবৃতি যথেষ্ট নয়। তদন্তকারীদের নির্দিষ্ট প্রশ্ন করতে হবে এবং উত্তর অন্য সাক্ষ্য ও নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে।

ষষ্ঠত, কোনও ব্যক্তিকে আগাম দায়মুক্তি দেওয়া যাবে না। একই ভাবে জনরোষ মেটানোর জন্য প্রমাণহীন গ্রেফতারও করা যাবে না। তদন্তের লক্ষ্য প্রতিহিংসা নয়; ঘটনার সম্পূর্ণ শৃঙ্খল প্রতিষ্ঠা।

সরকার বদলালেই কি সত্য বেরিয়ে আসবে?

রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরে নতুন তদন্ত শুরু হলে জনমনে আশা তৈরি হয়। কিন্তু তার সঙ্গে একটি আশঙ্কাও থাকে—তদন্তটি সত্য অনুসন্ধানের বদলে পূর্বতন শাসকের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত হবে না তো?

নতুন সরকার যদি কেবল কয়েকজন প্রাক্তন শাসকদলের নেতা বা আধিকারিককে গ্রেফতার করে, অথচ নথি ও সিদ্ধান্তের পূর্ণ শৃঙ্খল প্রকাশ না করে, তবে তদন্তের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়বে। আবার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগের ভয়ে শীর্ষকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ না করলেও সত্য অপূর্ণ থাকবে।

সঠিক পথ হল আদালতের তত্ত্বাবধানে, পেশাদার তদন্তকারীদের মাধ্যমে এবং প্রমাণনির্ভর পদ্ধতিতে কাজ করা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলে তাঁকে আগাম অভিযুক্ত করা যাবে না; আবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলে তাঁকে প্রশ্নের ঊর্ধ্বেও রাখা যাবে না। নিগম একজন উচ্চপদস্থ আমলা বলেই তাঁর প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলি অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে না।

আসল প্রশ্নটি ক্ষমতার জবাবদিহির

আর জি কর-কাণ্ডের গুরুত্ব একটি অপরাধের বিচার ছাড়িয়ে বহুদূর প্রসারিত। এটি পরীক্ষা করছে, রাষ্ট্র পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে ভয়াবহ অপরাধ ঘটলে প্রশাসন কার স্বার্থ রক্ষা করে—নিহতের, না প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তির? পুলিশ কি অপরাধের প্রথম মুহূর্ত থেকে আইন মেনে চলে, না রাজনৈতিক সুবিধা বিচার করে? উচ্চপদস্থ আমলা ও মন্ত্রীরা কি শুধু সাফল্যের কৃতিত্ব নেবেন, না বিপর্যয়ের সময়ও জবাব দেবেন?

যদি তদন্ত কেবল নীচের স্তরের কয়েকজন কর্মী, পুলিশ আধিকারিক বা স্থানীয় নেতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তবে তার মাধ্যমে আংশিক সত্য পাওয়া যেতে পারে। কে দেহ নিয়ে গিয়েছিলেন, কে শ্মশানে ছিলেন, কে কোন নথিতে সই করেছিলেন—এসব জানা যাবে। কিন্তু সেই ব্যক্তিরা কার নির্দেশে কাজ করেছিলেন, কেন নিয়মের পরে নিয়ম ভাঙা হয়েছিল এবং প্রশাসনের বিভিন্ন শাখা একই সময়ে একই ধরনের আচরণ করেছিল কীভাবে—তার উত্তর পাওয়া যাবে না।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নারায়ণস্বরূপ নিগমকে তদন্তের আওতায় আনার দাবি তাই ব্যক্তিগত প্রতিশোধের দাবি হওয়া উচিত নয়। এটি প্রশাসনিক জবাবদিহির দাবি। তাঁদের বক্তব্যও সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয়। তাঁদের কাছে যদি কোনও বেআইনি নির্দেশ পৌঁছয়নি, তাঁরা যদি ধামাচাপার চেষ্টা না করে থাকেন, তদন্তই সেটি প্রতিষ্ঠা করবে। কিন্তু তাঁদের প্রশ্ন না করে, নথি পরীক্ষা না করে কিংবা সিদ্ধান্তের উৎস অনুসরণ না করে আগাম দায়মুক্তি দেওয়া হলে সেই দায়মুক্তির কোনও বিশ্বাসযোগ্যতা থাকবে না।

আর জি করের পূর্ণ সত্য জানতে হলে সেমিনার কক্ষ থেকে শ্মশান পর্যন্তই নয়, হাসপাতালের অধ্যক্ষের ঘর থেকে স্বাস্থ্য ভবন, লালবাজার এবং নবান্ন পর্যন্ত প্রতিটি প্রাসঙ্গিক দরজা খুলতে হবে। কে অপরাধ করেছিল, যেমন জানতে হবে; তেমনই জানতে হবে অপরাধের পরে রাষ্ট্র কী করেছিল, কেন করেছিল এবং কার নির্দেশে করেছিল।

অতএব চূড়ান্ত বক্তব্যটি স্পষ্ট। সঞ্জয় রায়ের অপরাধ ও শাস্তি আর জি কর মামলার একটি অংশের নিষ্পত্তি করেছে। কিন্তু সম্ভাব্য প্রমাণ লোপাট, তড়িঘড়ি সৎকার, এফআইআরে বিলম্ব, পরিবারকে বাধা, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আচরণ এবং সন্দীপ ঘোষকে ঘিরে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের রহস্য এখনও বৃহত্তর অনুসন্ধান দাবি করে। সেই অনুসন্ধানে তৎকালীন স্বাস্থ্যসচিবকে বাদ দেওয়া যায় না। একই ভাবে স্বাস্থ্য ও পুলিশ—দুই দফতরের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক দায়িত্বে থাকা তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর জ্ঞান, নির্দেশ ও যোগাযোগ পরীক্ষা না করেও পূর্ণ সত্যে পৌঁছনো যায় না।

তাঁরা দোষী কি না, সেই সিদ্ধান্ত প্রমাণ ও আদালতের। কিন্তু তাঁদের ভূমিকা পরীক্ষা করা প্রয়োজন কি না—তার উত্তর নিঃসন্দেহে হ্যাঁ। শীর্ষ ক্ষমতাকে স্পর্শ না করা কোনও তদন্ত হয়তো কয়েকটি নাম এবং কয়েকটি শাস্তি উপহার দিতে পারে; কিন্তু আর জি করের সম্পূর্ণ রহস্য উন্মোচন করতে পারবে না।