বিশ্লেষণ

এখান থেকে স্বাভাবিক হয়ে বেরোনো যায় না’: ফ্রান্সের কারাগারে বন্দি শৈশবের দিনরাত্রি

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • শিশু-কিশোরদের সেলগুলির ছবি তোলা আমার পক্ষে কঠিন ছিল।
  • জায়গাগুলি একই সঙ্গে ব্যক্তিত্বহীন এবং একান্ত ব্যক্তিগত।
  • ভিতরে ঢুকলে অচিরেই নিজেকে একই জায়গায় পাক খেতে দেখা যায়—কোথাও যাওয়ার নেই।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

শিশু-কিশোরদের সেলগুলির ছবি তোলা আমার পক্ষে কঠিন ছিল। জায়গাগুলি একই সঙ্গে ব্যক্তিত্বহীন এবং একান্ত ব্যক্তিগত। ভিতরে ঢুকলে অচিরেই নিজেকে একই জায়গায় পাক খেতে দেখা যায়—কোথাও যাওয়ার নেই। ঘরটুকু জুড়ে যে সামান্য কয়েকটি জিনিস রয়েছে, দৃষ্টি গিয়ে থামে সেগুলির উপরেই: একটি জানলা, সেলের গরাদ, কোনও রকমে শোয়ার মতো একটি বিছানা, লেখার টেবিলের কাজ চালানোর জন্য একটি তক্তা, কখনও একটি বই কিংবা কয়েকটি আঁকা ছবি।

কখনও কর্মীর অভাবে কোনও কিশোরকে দিনের ২৩ ঘণ্টা পর্যন্ত নিজের সেলে কাটাতে হয়। এই পরিস্থিতি এবং পড়াশোনা ও খেলাধুলার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত থাকা নিয়ে সমালোচনা করেছে ইউরোপের নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি।

“রোজ আমাদের সেলে আটকে রাখা হয়। সেল কখনও কখনও নিজের নিরিবিলি কোণ হয়ে উঠতে পারে ঠিকই, কিন্তু তবু ব্যাপারটা কঠিন। বাড়িগুলো যে ভাবে তৈরি, তাতে সেই নিরিবিলি কোণটাও কখনও সত্যি নিরিবিলি থাকে না। সব সেল পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। বাইরের অনুপ্রবেশ যেন এখানকার স্বাভাবিক ব্যাপার। সারাক্ষণ কেউ না কেউ আমাদের উদ্দেশে চেঁচিয়ে ডাকছে। জানলাগুলো উঠোনের দিকে, সারা দিন চিৎকার শুনতে হয়। রাতে অবস্থা আরও খারাপ।”

সেলের জানলা থেকে সরাসরি দেখা যায় কারাগারের উঠোন। প্রতিদিন সেখানে এক ঘণ্টা কাটানো বাধ্যতামূলক।

অপ্রাপ্তবয়স্ক হোক বা প্রাপ্তবয়স্ক, সব বন্দিকেই প্রতিদিন বাধ্যতামূলক ভাবে এক ঘণ্টা কারাগারের উঠোনে কাটাতে হয়। সেলের জানলাগুলি উঠোনের দিকে খোলা বলে অন্যের নজর এড়িয়ে থাকা প্রায় অসম্ভব। প্রতিটি নড়াচড়া, প্রতিটি কথা ঘটে সহবন্দি ও রক্ষীদের চোখের সামনে। ওরা আমার সঙ্গে কথা বলেছিল কারাজীবনের একঘেয়েমি নিয়ে, সময়ের বদলে যাওয়া, কৃত্রিম এক অনুভূতি নিয়ে।

“মনে হয়, এখানে থাকতে থাকতে আমি বোকা হয়ে যাচ্ছি। নিজেকে একটা নির্বোধ মনে হয়। অনেক কিছু ভুলে যাই। যা জানতাম, তা-ও আর মনে নেই। নতুন কিছু আর দেখিই না। সেলে একই দেওয়ালের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে চোখ ঝাপসা হয়ে আসে। বিশেষ করে সপ্তাহের শেষের দিনগুলোয়—মনে হয় যেন গোটা তিন সপ্তাহ কেটে যাচ্ছে। [সপ্তাহান্তে ক্লাস হয় না, অন্য কাজকর্মও প্রায় থাকে না।] এখানে আমার মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। টিভি আমাকে পাগল করে দেয়, তাই নিজেকে ব্যস্ত রাখতে ছবি আঁকি। মনের জোর লাগে। কেউ কেউ পাগল হয়ে যায়; কোনও কিছুতেই আর পরোয়া করে না, যেন হারানোর আর কিছুই নেই। অন্য ইউনিটের ছেলেদের সঙ্গে থাকতে আমার ভাল লাগে না। ঝামেলা এড়াতে বরং নিজের সেলেই ফিরে যেতে চাই।”

উঠোনে এক কিশোর আমাকে বলছিল প্রকৃতির প্রতি তার ভালবাসার কথা। সে পাখির ছবি তুলতে চায়, খোলা আকাশের নীচে ঘুমোতে চায়, নদীতে স্নান করতে চায়। পরদিন আদালতে তার শুনানি। সে শুধু কথা বলতে চাইছিল—মনের মধ্যে যা কিছু ভেসে উঠছিল, সব উজাড় করে দিতে চাইছিল: তার মা, মায়ের মাদকাসক্তি; শুনানির ভয়; তার আইনজীবী; হেরোইন; সব শেষ করে দেওয়ার ইচ্ছা; এখানেই থেকে যাওয়া, অন্য কোথাও চলে যাওয়া, নদী।

এক কিশোর বলে চলেছিল তার মনে জমে থাকা সব কথা: মায়ের মাদকাসক্তি, আদালতের শুনানির ভয়, হেরোইন এবং জীবন শেষ করে দেওয়ার ইচ্ছা।

ফ্রান্সের ছ’টি অপ্রাপ্তবয়স্কদের বন্দিকেন্দ্রের মধ্যে মাত্র তিনটিতে মেয়েদের রাখার অনুমতি রয়েছে। তাদের রাখা হয় আলাদা ইউনিটে, তবে ছেলেদের সঙ্গে একই ক্লাস ও অন্যান্য কাজকর্মে তারা অংশ নেয়। নিজের সেলে বসে এক কিশোরী আমাকে বলছিল বন্দিজীবনের অসুবিধার কথা। বলছিল এক অদ্ভুত বৈপরীত্যের কথা: নিরাপত্তা ও নজরদারিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি জায়গাতেই নিজেকে নিরাপদ মনে হয় না।

“বিছানায় শুলেই সারাক্ষণ আড়ষ্ট হয়ে থাকি। ভয় হয়, দরজার ছোট ফুটো দিয়ে কেউ হয়তো আমাকে দেখছে। নিজের ইচ্ছেমতো ভঙ্গিতে আর ঘুমোতে পারি না। আগে প্যান্ট পরে ঘুমোতে ভাল লাগত না। এখানে সব জামাকাপড় পরেই ঘুমোই। নিজের ব্যক্তিগত পরিসর আর কী ভাবে বাঁচাব, জানি না। মন খারাপ হলে কাউকে বুঝতে দিই না, দুঃখ লুকিয়ে রাখি। নিজেকে বাঁচাতে অন্য মেয়েদের সঙ্গেও এ নিয়ে কথা বলি না। মেয়েরা এ রকমই—সামান্য ঝগড়া হলেই গোটা জেল জেনে যায়। মেয়ে হয়ে জেলে থাকা সহজ নয়। আমরা যখন চিৎকার করি, তখন সত্যিই চিৎকার করি।”

ফ্রান্সের ছ’টি অপ্রাপ্তবয়স্কদের বন্দিকেন্দ্রের মধ্যে মাত্র তিনটিতে মেয়েদের রাখা যায়।

শাস্তিমূলক ইউনিটের সেলগুলি খালি থাকার সময়ে সেখানে ছবি তোলার সুযোগ পাই। এখানে শিশু-কিশোরদের একা আটকে রাখা হয়। ভিতরে রয়েছে কংক্রিটের ছোট্ট একটি উঠোন এবং প্রায় সম্পূর্ণ ফাঁকা কয়েকটি সেল। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বলে কিছু নেই। জানলাগুলি বন্ধ, খোলা যায় না। সরু, ধূসর উঠোনটির একমাত্র কাজ প্রতিদিন বাধ্যতামূলক এক ঘণ্টা খোলা হাওয়ায় চলাফেরার সুযোগ দেওয়া। দেওয়ালে মল দিয়ে লেখা নানা কথা। কারণ বন্দিদের কলম বা ব্যক্তিগত জিনিসপত্র রাখার অনুমতি নেই।

অপ্রাপ্তবয়স্কদের এই শাস্তিমূলক ইউনিটে পাঁচ দিন পর্যন্ত আটকে রাখা যায়; হিংসার ঘটনায় সেই মেয়াদ হতে পারে সাত দিন। আইন অনুযায়ী শিশু-কিশোরদের নানা কাজকর্মের সুযোগ দিয়ে ব্যস্ত রাখার কথা। কিন্তু সেই বিধান সব সময় মানা হয় না। ফলে কার্যত সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় দিন কাটাতে হতে পারে তাদের। কয়েক দিন আগে এক কিশোর আমাকে বলেছিল, তার কাছে সেই অভিজ্ঞতা কেমন।

“গরাদ কাটার জন্য একটা করাত জোগাড় করেছিলাম। সেই জন্য আবার আমাকে ওই শাস্তির সেলে যেতে হচ্ছে। ওই খুপরিতে ঢুকলে তুমি সেখানেই আছ, সেখানেই থাকবে—ব্যস। মাথা খারাপ হয়ে যায়। দেওয়ালের সঙ্গেই কথা বলতে হয়, আর কিছু করার নেই। সত্যি বলছি, ওখানে কেউ কেউ আত্মহত্যা করতে চায়। জায়গাটা ভয়ঙ্কর। ওরা বলে শাস্তিমূলক ইউনিট। কিন্তু ওখান থেকে স্বাভাবিক হয়ে বেরোনো যায় না। সম্ভবই নয়। জানলা খুলতে পারবে না। নিজের ইচ্ছেমতো আলো জ্বালাতে বা নেভাতে পারবে না। তার জন্য রক্ষীকে ডাকতে হবে। ওরা আমাদের বলে, এটা বিশ্রাম নেওয়ার জায়গা। কিন্তু তা সত্যি নয়। এত কিছু সহ্য করার পরে বরং আরও খারাপ কিছু করার চিন্তা মাথায় আসে।”

শাস্তিমূলক ইউনিটে রয়েছে কংক্রিটের ছোট্ট উঠোন এবং প্রায় ফাঁকা সেল। দেওয়ালে মল দিয়ে লেখা নানা কথা।

এক কিশোরকে দেখেছিলাম খাতায় দাগ টানতে। এক-একটি দিন কাটছে, সে দাগ কেটে তার হিসাব রাখছে। কারাগারে আপাতদৃষ্টিতে খুবই সাধারণ এক কাজ। নিজের সেলে বসে তখন সে এ নিয়ে কথা বলতে চায়নি। কয়েক সপ্তাহ পরে কথা বলেছিল।

“এখানে আসার পর ওরা একটা খাতা দিয়েছিল। আর কত দিন বাকি, গুনে রাখার জন্য তাতে দাগ টানতাম। ইচ্ছে হয়েছিল, তাই করেছিলাম। এক দিন বন্ধ করে দিলাম। ওতে তো দিনগুলো আর তাড়াতাড়ি কাটছিল না। সবচেয়ে কঠিন হল সারা দিন সেলে বসে থাকা। রাতের চেয়ে দিন কাটে আরও ধীরে। সেলে শুধু একটা টিভি আছে। কিছু ক্ষণ পরে সেটাও আর ভাল লাগে না। তখন ঘুমিয়ে পড়ি।

“বেশি ভাবার চেষ্টা করি না। বরং সমাজকর্মীর সঙ্গে দেখা করতে যেতে চাই। তাতে সেল থেকে বেরোনো যায়, মনটাও ভাল হয়। লোকজনের সঙ্গে দেখা করা নিয়ে আমার খুব একটা মাথাব্যথা নেই। তবে ক্লাস আর অন্য কাজকর্মে থাকলে এসব চিন্তা থেকে মন সরিয়ে রাখা যায়। [যদি ছাড়া পাই] পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাই। এমন একজন নিয়োগকর্তা খুঁজতে চাই, যার কাছে পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ শেখার ব্যবস্থা থাকবে। হয়তো এই গ্রীষ্মে, কিংবা পরের গ্রীষ্মে। বিচার অনেক দিন ধরে চলতে পারে। আমার মনে হয়, জেলে মানুষ পাগল হয়ে যেতে পারে। তবে নিজের জন্য আমার ভয় হয় না।”

সময়ের হিসাব রাখতে কেউ কেউ খাতায় দাগ কেটে দিন গোনে।

এখানে ওদের বন্দি থাকার কারণ প্রায়ই এক: মাদক পাচার বা বিক্রি। বাইরে বাগানে এক কিশোরের সঙ্গে দেখা হয়। ফুলের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে সে। ফুলগুলির রং তার জুতো আর টুপির রঙের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। দ্রুত নিজের কাহিনি শোনাতে শুরু করে।

“সকাল দশটায় শুরু করেছিলাম, একটা ছোট পার্কে। কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ ছিল। তার মধ্যে বেশ বড় একটা প্যাকেট—৫০টা ছোট প্যাকেট, ড্রপার আর হেরোইন। অনেক টাকার জিনিস। আমার খদ্দের ছিল। এক সময়ে দেখি বিএসি [অপরাধ দমন পুলিশের] একটা দল। ওরা যখন আমাকে ধরল, তখনও ব্যাগটা আমার কাছেই ছিল।”

ফুলের মধ্যে দাঁড়িয়ে এক কিশোর তার মাদক বিক্রির কথা বলছে।

কখনও মনে হয়, তার বিবরণে বাড়তি রং চড়ানো হচ্ছে। কিংবা বাস্তবের চেয়ে কাহিনিটা একটু বেশি আকর্ষণীয় করে বলা হচ্ছে। তখন এখানকারই আর এক কিশোর সম্পর্কে এক শিক্ষাকর্মীর বলা কথা মনে পড়ে। সেই কিশোর তাঁকে মাদক ব্যবসায় নিজের জড়িয়ে পড়ার কাহিনি শুনিয়েছিল। তার মামলার নথি জানা ছিল বলে তিনি বলেছিলেন, “কিন্তু তুমি তো আসলে সে ভাবে এর মধ্যে ছিলেই না।” ছেলেটি উত্তর দিয়েছিল, “জানি। নিজের জন্য একটা জীবন বানিয়ে নিচ্ছি।”

জিমনেসিয়ামে এক কিশোর ফুটবল খেলছে। তাকে খুবই ছোট দেখায়। চোখে ক্লান্তি। অল্প কিছু ক্ষণ কথা বলে জানতে পারি, সে অভিভাবকহীন এক অভিবাসী।

“হাওয়া ভরা একটা নৌকোয় উঠেছিলাম। তাতে ১৮ জন ছিল। স্পেনে পৌঁছই। তার পরে দশ মাস আগে ফ্রান্সে আসি। এখানে আছি প্রায় তিন মাস। এই প্রথম জেলে এলাম। ফুটবল খেলতে চেয়েছিলাম, সেই জন্যই ইউরোপে এসেছি। আর স্বাধীনতার জন্যও। স্টেডিয়াম বেশি দূরে নয়। তাই জেলের সেল থেকেই খেলার আওয়াজ শুনতে পাই। লিয়োনেল মেসিকে খুব ভালবাসি। ও-ই আমার আদর্শ। ইতিহাসের সেরা ফুটবলার। আমি ফুটবলার হব।”

জিমনেসিয়ামে ফুটবল খেলতে থাকা অভিভাবকহীন এক অভিবাসী জানায়, হাওয়া ভরা নৌকোয় স্পেনে পৌঁছে সেখান থেকে ফ্রান্সে এসেছিল সে। প্রায় তিন মাস ধরে কারাগারে রয়েছে।

কারাগারের সবার ব্যবহারের জায়গায় আর এক কিশোর চুল কাটাচ্ছে। এটি একটি বিশেষ মুহূর্ত। যিনি চুল কাটছেন, শ্রমজীবী পাড়াগুলিতে তাঁর কাজের জন্য সমাজমাধ্যমে তিনি বেশ পরিচিত। তাঁর চুল কাটার ধরন রক্ষীদের কাটার থেকে একেবারেই আলাদা। রক্ষীদের কাট সাধারণত সাদামাটা, অনেকটা একই রকমের। এখানে কিশোরেরা নিজেদের পছন্দের ছাঁট বেছে নিতে পারে। ওরা তাঁকে বিশ্বাস করে। ওদের সঙ্গে কী ভাবে কথা বলতে হয়, তিনি জানেন।

এক কিশোর আমাদের তার ১৭ বছরের এক বন্ধুর কথা বলে। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই তাকে খুন করা হয়েছিল। মাদক ব্যবসাকে ঘিরে হিসাব চুকোনোর খুন।

“ছেলেগুলো স্কুটারে এসেছিল। ওর পাশে এসে দাঁড়ায়, একটা ‘গিটার’ [রাইফেল] বের করে গুলি করে। ওর অনেক টাকা ধার ছিল। জেল থেকে বেরোনোর কয়েক দিনের মধ্যেই ওকে শেষ করে দিল। ওর সঙ্গে ওরা ভয়ঙ্কর সব কাণ্ড করেছিল। ও নিজের খদ্দেরদের ধরে রাখতে টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড বদলে দিয়েছিল বলে ওরা ওর দাদাকে অপহরণ করেছিল।”

চুল কাটানোও এখানে একটি বিশেষ মুহূর্ত। যিনি চুল কাটেন, স্থানীয় সমাজমাধ্যমে তিনি সুপরিচিত।

আত্মহত্যার ঝুঁকি চিহ্নিত হলে সংশ্লিষ্ট কিশোর বা কিশোরীকে একটি বিশেষ সেলে রাখা হয়। তার নাম জরুরি সুরক্ষা সেল। তার পরে তাকে দেওয়া হয় ‘এক বার ব্যবহারের কিট’। তাতে থাকে ফাঁস লাগানো ঠেকানোর উদ্দেশ্যে তৈরি সহজে ছিঁড়ে যায় এমন পোশাক। এখানে আত্মহত্যায় মৃত্যুর সংখ্যা হাতে গোনা হলেও আত্মহত্যার চেষ্টার সংখ্যা বেশি। আবার এমন অনেকে আছে, যারা কোনও পরিসংখ্যানেই আসে না। কারণ জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার কিছু দিন পরে, কারাব্যবস্থার বাইরে তাদের মৃত্যু হয়েছে। কারাগারের শিক্ষা ও চিকিৎসা দলের এক সদস্য আমাকে বলেছিলেন, এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া কতটা কঠিন।

আত্মহত্যার ঝুঁকি ধরা পড়লে অপ্রাপ্তবয়স্ক বন্দিদের বিশেষ পোশাকের ‘এক বার ব্যবহারের কিট’ দেওয়া হয়।

“আত্মহত্যাগুলোই আমাকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয়। এক কিশোর এখানে আত্মহত্যা করেছিল, মুক্তি পাওয়ার মাত্র দেড় সপ্তাহ আগে। আমি ভেঙে পড়েছিলাম। আর এক কিশোরী ছাড়া পাওয়ার পরে হাসপাতালের একটি বিশেষ চিকিৎসা বিভাগে গিয়েছিল। কয়েক সপ্তাহ পরে সেখানে নিজের জীবন শেষ করে দেয়। ‘আত্মহত্যার সংকট চিহ্নিত করা’ নিয়ে আমাদের প্রশিক্ষণ হয়। কিন্তু ছোট্ট জোনাথনের ক্ষেত্রে আমরা ঘুণাক্ষরেও সন্দেহ করিনি। মুক্তির মাত্র কয়েক দিন আগে নিজের জীবন শেষ করে দেওয়া! এখানে এমন সব মুহূর্তের মধ্য দিয়ে যেতে হয় আমাদের, এমন সব যন্ত্রণা। কিন্তু তার পরে সেগুলো নিয়ে আমরা কী করি? এ-ও আর একটা মৃত্যু, যা সবাই ভুলে যাবে।”

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles