নিরপেক্ষতায় ‘না’ সুইসদের

যা জানা জরুরি
- নিরপেক্ষতার আরও কড়া সংজ্ঞা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব বিপুল ব্যবধানে প্রত্যাখ্যান করলেন সুইজারল্যান্ডের ভোটাররা।
- প্রস্তাবটি পাস হলে নেটোর সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের সহযোগিতা সীমিত হওয়ার পাশাপাশি রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পথও কঠিন হয়ে যেত।
- দেশটির ফেডারেল স্ট্যাটিস্টিক্যাল অফিসের প্রকাশিত চূড়ান্ত ফল অনুযায়ী, সব ক্যান্টনেই প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
নিরপেক্ষতার আরও কড়া সংজ্ঞা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব বিপুল ব্যবধানে প্রত্যাখ্যান করলেন সুইজারল্যান্ডের ভোটাররা। প্রস্তাবটি পাস হলে নেটোর সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের সহযোগিতা সীমিত হওয়ার পাশাপাশি রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পথও কঠিন হয়ে যেত।
দেশটির ফেডারেল স্ট্যাটিস্টিক্যাল অফিসের প্রকাশিত চূড়ান্ত ফল অনুযায়ী, সব ক্যান্টনেই প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার সংবিধানে ‘স্থায়ী ও সশস্ত্র নিরপেক্ষতা’র নীতি যুক্ত করার বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। প্রস্তাবটির পক্ষে প্রচার চালিয়েছিল অতি-দক্ষিণপন্থী সুইস পিপলস পার্টি বা এসভিপি।
প্রস্তাবটি পরাজিত হবে, এমনটাই অবশ্য আগে থেকে অনুমান করা হচ্ছিল। তবে ফলাফল ইউরোপের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখা নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্দরে যখন চাপ বাড়ছে, তখন সুইজারল্যান্ডের ভোটারদের এই সিদ্ধান্ত নজর কেড়েছে।
সুইজারল্যান্ডের কয়েক শতাব্দী-পুরনো নিরপেক্ষতা আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায় ১৮১৫ সালে, নেপোলিয়নের যুদ্ধের অবসানের পর। কিন্তু ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আক্রমণের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মস্কোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সুইজারল্যান্ড। এর পর থেকেই দেশের নিরপেক্ষতার বর্তমান নীতি নিয়ে বিতর্ক তীব্র হয়েছে।
গণভোটে ভোটারদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, তাঁরা সংবিধানে ‘স্থায়ী ও সশস্ত্র নিরপেক্ষতা’র নীতি অন্তর্ভুক্ত করতে চান কি না। প্রস্তাবটি পাস হলে সুইজারল্যান্ড কোনও সামরিক জোটে যোগ দিতে পারত না। রাষ্ট্রপুঞ্জের নির্দেশ ছাড়া যুদ্ধে লিপ্ত কোনও দেশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষেত্রেও সাংবিধানিক বাধা তৈরি হত।
ফলাফল এসভিপির ধনকুবের পৃষ্ঠপোষক ক্রিস্টফ ব্লোখারের জন্যও বড় ধাক্কা। উদ্যোগটির অন্যতম প্রধান সমর্থক ছিলেন তিনি। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রচারে প্রায় ২০ লক্ষ সুইস ফ্রাঁ খরচ করেছিলেন ব্লোখার—যা প্রায় ২১ লক্ষ ইউরো বা ১৮ লক্ষ পাউন্ডের সমান।
প্রস্তাবের বিরোধীরা ফলাফলকে স্বাগত জানিয়েছেন। গ্রিন পার্টির আইনপ্রণেতা সিবেল আরসলান বলেন, ভোটাররা বুঝেছেন, এসভিপি আসলে কী চাইছিল। তাঁর দাবি, দলটি সুইজারল্যান্ডকে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আরও বিচ্ছিন্ন করতে এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের সময়ে দেশের দায়িত্ব এড়ানোর পথ তৈরি করতে চেয়েছিল।
সুইস সরকার এবং দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দলও প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেছিল। তাদের যুক্তি ছিল, এটি পাস হলে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সুইজারল্যান্ড আর নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে কাজ করতে পারবে না। দেশ আক্রান্ত হলে তার নিরাপত্তাও দুর্বল হতে পারে এবং নেটোর সঙ্গে সহযোগিতার সুযোগ উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে যেতে পারে।
সুইজারল্যান্ড নেটোর সদস্য নয়। তবে গত তিন দশক ধরে সামরিক জোটটির সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা করে আসছে দেশটি।
সুইস ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের অনলাইন সংবাদমাধ্যম সুইসইনফোরের সাংবাদিক কেটি রোমির বিশ্লেষণ, ভোটারদের সিদ্ধান্ত থেকে বোঝা যাচ্ছে—দেশের বর্তমান নিরপেক্ষতা নীতির ব্যাখ্যাই তাঁরা গ্রহণ করেছেন। তাঁর মতে, সুইসরা নিরপেক্ষতাকে এমন একটি নীতি হিসেবে দেখছেন, যার প্রয়োগ সময় ও পরিস্থিতির সঙ্গে বদলাতে পারে। ফলে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে প্রয়োজন অনুযায়ী নীতি প্রয়োগের সুযোগ সরকারের হাতে থাকল।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



