এসআইআরে বাদ পড়া নাম ফেরানোর অভিযান, বাংলার বিচারাধীন ২২ লক্ষের বেশি আপিল বাইরে

যা জানা জরুরি
- বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নাম ফেরাতে নির্বাচন কমিশন যে বিশেষ অভিযান শুরু করছে, তার সুবিধা পাবেন না পশ্চিমবঙ্গের…
- সুপ্রিম কোর্টে কমিশনের দেওয়া হলফনামায় রাজ্যে এমন বিচারাধীন আবেদনের সংখ্যা ২২.২১ লক্ষ বলে জানানো হয়েছে।
- এর ফলে নাম ফেরানোর দুটি সমান্তরাল পথ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নাম ফেরাতে নির্বাচন কমিশন যে বিশেষ অভিযান শুরু করছে, তার সুবিধা পাবেন না পশ্চিমবঙ্গের সেই ভোটারেরা, যাঁদের আবেদন আপিল ট্রাইবুনালে বিচারাধীন। সুপ্রিম কোর্টে কমিশনের দেওয়া হলফনামায় রাজ্যে এমন বিচারাধীন আবেদনের সংখ্যা ২২.২১ লক্ষ বলে জানানো হয়েছে।
এর ফলে নাম ফেরানোর দুটি সমান্তরাল পথ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একদিকে ফর্ম ৬ জমা দিয়ে নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিকের কাছে আবেদন করা যাবে। অন্যদিকে ট্রাইবুনালের আবেদনকারীদের অপেক্ষা করতে হবে বিচারপ্রক্রিয়ার জন্য। ফর্ম ৬-এর আবেদন এক থেকে দুই মাসে নিষ্পত্তির নির্দেশ থাকলেও ট্রাইবুনালের পথ দীর্ঘায়িত হতে পারে।
এই বিশেষ অভিযান হবে এসআইআর শেষ হওয়া ২০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে। ২৯ সেপ্টেম্বর লিখিত নির্দেশ দেওয়া হয় এবং ১ অক্টোবর মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে তা পুনরায় জানানো হয়। বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের পাশাপাশি প্রথমবার ভোটার হওয়ার উপযুক্ত তরুণদের নাম তোলাও এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য।
কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, বুথস্তরের আধিকারিকেরা এসআইআরের আগের তালিকার সঙ্গে বর্তমান তালিকা মিলিয়ে দেখবেন। আগে নাম ছিল অথচ এখন নেই, এমন ব্যক্তিদের বুথভিত্তিক তালিকা তৈরি হবে। তারপর বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাঁদের বর্তমান অবস্থা যাচাই করা হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যোগ্য হলে তাঁকে ফর্ম ৬ পূরণে সাহায্য করবেন আধিকারিকেরা। ফলে তালিকা তৈরির সঙ্গে সরেজমিন অনুসন্ধানও চলবে।
প্রত্যেক বুথস্তরের আধিকারিককে সপ্তাহে অন্তত ২০ থেকে ২৫ জনের বিষয়ে অনুসন্ধান করতে বলা হয়েছে। এক মাসের মধ্যে যাচাই শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। আবেদনপত্রের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের যাচাইয়ের রিপোর্ট যাবে নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিকের কাছে। স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের বুথ এজেন্টদেরও তালিকা দেওয়া হবে। গৃহহীন মানুষ, শ্রমিক কলোনি এবং রাত্রিনিবাসের বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ শিবির করার নির্দেশ রয়েছে।
পুনর্ভুক্তির ক্ষেত্রে ফর্ম ৬-এর ধরনও তাৎপর্যপূর্ণ। এসআইআর শেষ হওয়া এলাকায় সাধারণ বিধিবদ্ধ ফর্মই ব্যবহার হবে। আবেদনকারী বা তাঁর বাবা-মায়ের নাম আগের এসআইআরের তালিকায় ছিল কি না, সেই অতিরিক্ত ঘোষণার প্রশ্ন এখানে প্রযোজ্য হবে না। ওই প্রশ্ন অনলাইন ফর্মে যুক্ত করা নিয়ে কমিশনের ভিতরেই আপত্তি উঠেছিল। এখন এসআইআর চলাকালীন প্রক্রিয়া এবং তার পরের নিয়মিত নাম তোলার প্রক্রিয়ার মধ্যে পার্থক্য করা হচ্ছে।
নতুন উদ্যোগের পটভূমিতে রয়েছে ভোটার তালিকা থেকে বিপুল নাম বাদ পড়া এবং কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়ে বিতর্ক। নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সান্ধু ও বিবেক জোশীর আপত্তির বিষয়ও সামনে এসেছে। তবে খসড়া তালিকা থেকে কারও নাম বাদ পড়েছে মানেই তিনি যোগ্য ভোটার হয়েও চূড়ান্তভাবে বাদ গিয়েছেন, এমন সিদ্ধান্ত টানা যায় না। পুনর্যাচাইয়ের উদ্দেশ্যই হল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণ করা।
কমিশনের বক্তব্য, ভোটার তালিকায় নাম তোলা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এসআইআরের সময়ে নাম নথিভুক্ত হয়নি বলেই কোনও যোগ্য নাগরিককে আবেদনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। অভিযান শেষে বুথভিত্তিক তালিকা রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের দেওয়া হবে, যাতে বাদ থাকা যোগ্য ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা যায়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় প্রচারের মাধ্যমেও মানুষকে সচেতন করতে বলা হয়েছে। কর্মসূচির অগ্রগতি নিয়মিত নজরদারির নির্দেশও রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে বিষয়টি জরুরি হয়ে উঠেছে ৬ অক্টোবরের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের কারণে। কংগ্রেসের বক্তব্য, দুই কেন্দ্রে যথাক্রমে ছয় হাজারের বেশি এবং বারো হাজারের বেশি আপিল ঝুলে রয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের দ্বিতীয়বার ভোট দিতে না পারার আশঙ্কা রয়েছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এবং দলের এসআইআর কমিটির চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ বসু কমিশনকে দুটি বিকল্প দিয়েছেন: আপিল নিষ্পত্তি পর্যন্ত সাময়িকভাবে নাম ফেরানো, অথবা বিচারাধীন আবেদনগুলিকে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের কাছে ফর্ম ৬-এর আবেদন হিসেবে বিবেচনা করা।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



