বিয়েবাড়িতে বোমা, পাল্টা আগুন ইরানের

যা জানা জরুরি
- এক মাসের সামরিক বিরতি ভেঙে ইরানে ফের ব্যাপক হামলা চালাল আমেরিকা।
- দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের বাড়িতে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানায় এক শিশু-সহ অন্তত পাঁচ জন নিহত হয়েছেন।
- পাল্টা জবাবে জর্ডন, বাহরাইন ও কুয়েতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
এক মাসের সামরিক বিরতি ভেঙে ইরানে ফের ব্যাপক হামলা চালাল আমেরিকা। দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের বাড়িতে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানায় এক শিশু-সহ অন্তত পাঁচ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৬৮ জন। পাল্টা জবাবে জর্ডন, বাহরাইন ও কুয়েতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান। ফলে ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাত আরও ভয়াবহ মোড় নিতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
হরমোজগানের উপ-রাজ্যপাল আহমদ নাফিসি ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে জানিয়েছেন, প্রদেশের কুহেস্তাক এলাকায় একটি বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। সেই সময়ই বাড়িটিতে আছড়ে পড়ে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র। নিহতদের মধ্যে রয়েছে একটি শিশুও।
তেহরানের অভিযোগ, শুধু বিয়েবাড়িই নয়, সিরিকের একটি মৎস্যবন্দর, বন্দর ও সামুদ্রিক দফতরের একটি নজরমিনার, কেশম দ্বীপের মাছের খাবার তৈরির কারখানা এবং কেরমান প্রদেশের জিরফ্ত অসামরিক বিমানবন্দরেও হামলা হয়েছে।
যদিও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, তাদের অভিযানের নিশানা ছিল ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার, সামরিক যোগাযোগকেন্দ্র, সমুদ্রযান এবং সমুদ্রে মাইন পাতার পরিকাঠামো। বিয়েবাড়িতে হতাহতের খবর সম্পর্কে তারা অবহিত হলেও তা এখনও স্বাধীন ভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। মার্কিন বাহিনীর মুখপাত্র টিম হকিন্সের দাবি, সাধারণ মানুষকে কখনও ইচ্ছাকৃত ভাবে লক্ষ্য করে হামলা চালায় না মার্কিন সেনা।
ওয়াশিংটনের বক্তব্য, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ এবং পশ্চিম এশিয়ায় মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর উপর সম্ভাব্য ইরানি হামলা ঠেকাতেই নতুন অভিযান শুরু হয়েছে। রবিবার লারাক দ্বীপে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণব্যবস্থায় প্রথম হামলা চালায় আমেরিকা। মঙ্গলবার সেই অভিযান আরও বিস্তৃত হয়। তাতেই প্রায় এক মাসের সামরিক বিরতির কার্যত অবসান ঘটে।
এর পরেই পাল্টা আঘাত হানে তেহরান। ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড জর্ডনের আকাবা উপকূলে একটি মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। জর্ডনের সেনাবাহিনীর দাবি, ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে এবং আরও তিনটি জনশূন্য এলাকায় গিয়ে পড়েছে। বাহরাইনে মার্কিন বাহিনী এবং কুয়েতেও ড্রোন হামলার চেষ্টা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলির দাবি, সব হামলাই প্রতিহত করা হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে মার্কিন বাহিনীর কোনও হতাহতের খবর মেলেনি।
তবে সংঘাত থামার কোনও লক্ষণ নেই। আমেরিকাকে আরও ‘বিধ্বংসী আঘাত’-এর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। অন্য দিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ইরান পাল্টা হামলা চালালে তার জবাব আরও কঠোর হবে।
এই পাল্টাপাল্টি হামলার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে হরমুজ প্রণালীতে। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই জলপথ দিয়ে পরিবহণ হয়। ফলে সংঘাত আরও ছড়ালে শুধু পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তাই নয়, তেলের দাম, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল—সবই বড় ধাক্কার মুখে পড়তে পারে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



