6
বাংলাস্ফিয়ার: কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চ এক গুরুত্বপূর্ণ অন্তর্বর্তী নির্দেশে জানিয়েছে, ভোটার তালিকা থেকে কোনও ব্যক্তির নাম বাদ যাওয়া মাত্রই তাঁকে গণবণ্টন ব্যবস্থার (পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম) সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা যায় কি না, সেই বৃহত্তর আইনি প্রশ্নের নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন। এই পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি আদালত আবেদনকারীর রেশন সুবিধা অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্য উম্মে সালমার দায়ের করা একটি রিট আবেদনের শুনানি করছিলেন। আবেদনকারীর অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের খাদ্য ও সরবরাহ দফতরের বিশেষ সচিবের ৪ জুন, ২০২৬-এর একটি নির্দেশের পর স্থানীয় রেশন ডিলার তাঁকে জানিয়েছিলেন, ভোটার তালিকায় তাঁর নাম পুনর্বহালের আবেদন বিচারাধীন থাকার প্রমাণ দেখাতে না পারলে তাঁর আরকেএসওয়াই-১ (RKSY-I) প্রকল্পের রেশন সুবিধা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া কি গণবণ্টন ব্যবস্থার মাধ্যমে অত্যাবশ্যকীয় খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ বন্ধ করার বৈধ কারণ হতে পারে, সেটিই এই মামলার মূল প্রশ্ন। পাশাপাশি, ফর্ম-৬-এ নাম পুনর্ভুক্তির আবেদন বিচারাধীন থাকাকালীন রেশন সরবরাহ বন্ধ করা যায় কি না, তাও বিচার্য বিষয়।
এই প্রশ্নগুলির নিষ্পত্তি প্রয়োজন বলে মনে করে আদালত মামলাটি গ্রহণ করেছে।
আবেদনকারীর বক্তব্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তাঁর নাম থাকলেও সেটি পরে “বাতিল” (Deleted) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এরপর তিনি ৯ এপ্রিল, ২০২৬ অনলাইনে ফর্ম-৬ জমা দিয়ে ভোটার তালিকায় নাম পুনর্বহালের আবেদন করেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেই আবেদনের কোনও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি।
শুনানির সময় রাজ্যের পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়, আবেদনকারীর আরকেএসওয়াই-১ রেশন কার্ড এখনও সক্রিয় রয়েছে এবং তাঁর রেশন সরবরাহ বন্ধ করার কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।
আবেদনকারীর আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টের Association for Democratic Reforms বনাম Election Commission of India (২০২৬ SCC OnLine SC 990) মামলার রায়ের ওপর নির্ভর করেন। তাঁদের যুক্তি ছিল, বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (Special Intensive Revision বা SIR) প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনের অনুসন্ধান কেবল নির্বাচনী তালিকায় অন্তর্ভুক্তির যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য; এটি কোনও ব্যক্তির নাগরিকত্ব নির্ধারণ করে না।
কলকাতা হাইকোর্টও সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ১৮৬(ফ) অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে জানায়, নির্বাচন কমিশনের নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত অনুসন্ধান শুধুমাত্র ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির যোগ্যতা নির্ধারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এটি কোনও ব্যক্তিকে নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করে না এবং নাগরিকত্ব আইনের অধীনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও নয়।
আদালত আরও উল্লেখ করে, আবেদনকারী ইতিমধ্যেই আইন অনুযায়ী ফর্ম-৬ জমা দিয়ে নাম পুনর্বহালের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন এবং সেই আবেদন এখনও বিচারাধীন।
রাজ্যের পক্ষ থেকে রেশন কার্ড সক্রিয় থাকার আশ্বাস নথিভুক্ত করে আদালত নির্দেশ দেয়, আদালতের অনুমতি ছাড়া আবেদনকারীর মাসিক রেশন পাওয়ার অধিকার খর্ব করা বা তাঁর বিরুদ্ধে কোনও জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না।
এছাড়া, আদালত আবেদনকারীকে ভারতের নির্বাচন কমিশনকে মামলায় পক্ষভুক্ত করার অনুমতি দিয়েছে। একই সঙ্গে কোচবিহার (সদর) মহকুমার উপ-খাদ্য ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রক এবং সংশ্লিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রের ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারকে দুই সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলা: উম্মে সালমা বনাম পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও অন্যান্য (WPA 1402 of 2026), কলকাতা হাইকোর্ট, জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চ।
You Might Also Like