অভিযোগের ঝড়ে রাজস্থান হাই কোর্ট, নতুন প্রধান বিচারপতি হিসেবে সঞ্জয় অগ্রবালের নাম সুপারিশ

যা জানা জরুরি
- বাংলাস্ফিয়ার: রাজস্থান হাই কোর্টের কার্যনির্বাহী প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব প্রকাশ শর্মার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপোষণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ ওঠার মধ্যেই আদালতের নিয়মিত প্রধান বিচারপতি…
- ছত্তীসগঢ় হাই কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কুমার অগ্রবালকে রাজস্থান হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি করার সুপারিশ করেছে কলেজিয়াম।
- প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি বিক্রম নাথ ও বি ভি নাগরত্নকে নিয়ে গঠিত তিন সদস্যের কলেজিয়াম সোমবার সন্ধ্যায় এই সিদ্ধান্ত নেয়।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
বাংলাস্ফিয়ার: রাজস্থান হাই কোর্টের কার্যনির্বাহী প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব প্রকাশ শর্মার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপোষণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ ওঠার মধ্যেই আদালতের নিয়মিত প্রধান বিচারপতি নিয়োগের উদ্যোগ নিল সুপ্রিম কোর্ট কলেজিয়াম। ছত্তীসগঢ় হাই কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কুমার অগ্রবালকে রাজস্থান হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি করার সুপারিশ করেছে কলেজিয়াম।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি বিক্রম নাথ ও বি ভি নাগরত্নকে নিয়ে গঠিত তিন সদস্যের কলেজিয়াম সোমবার সন্ধ্যায় এই সিদ্ধান্ত নেয়। বিচারপতি অগ্রবাল ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে ছত্তীসগঢ় হাই কোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন। কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন এবং রাষ্ট্রপতির নিয়োগসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে তিনি রাজস্থান হাই কোর্টের পূর্ণকালীন প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব নেবেন। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুসারে, একই দিনে বিচারপতি শর্মা ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিচারবিভাগীয় কাজ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন।
বিতর্কের সূত্রপাত সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সন্দীপ মেহতার তিনটি চিঠিকে ঘিরে। গত ২, ১০ এবং ১৭ আগস্ট প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে লেখা ওই চিঠিগুলিতে তিনি বিচারপতি শর্মাকে অবিলম্বে রাজস্থানের বাইরে বদলি এবং অন্য কোনও হাই কোর্ট থেকে একজন নিয়মিত প্রধান বিচারপতি নিয়োগের অনুরোধ জানান।
বিচারপতি মেহতার অভিযোগ, বিচারপতি শর্মা মামলার তালিকা নির্ধারণের প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে অন্য বেঞ্চ থেকে বাছাই করা কয়েকটি মামলা নিজের বেঞ্চে নিয়ে এসেছিলেন। প্রভাবশালী ও বিত্তবান মামলাকারীদের সুবিধা পাইয়ে দেওয়া, পছন্দের আইনজীবীদের প্রতি পক্ষপাতিত্ব এবং বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপের অভিযোগও তোলা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। উদয়পুরের মূল্যবান জমি এবং এক খনি ব্যবসায়ীর বিলম্বিত আবেদনসংক্রান্ত দু’টি মামলার বিশেষ উল্লেখ করেন বিচারপতি মেহতা।
যোধপুরের নতুন জেলা আদালত ভবন প্রস্তুত হওয়া সত্ত্বেও উদ্বোধন পিছিয়ে দেওয়া এবং প্রায় ৯৬ জন আইনজীবীকে অভিন্ন মানদণ্ড ছাড়াই জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। যদিও অন্য বিচারপতিদের আপত্তিতে শেষ পর্যন্ত সেই প্রস্তাব গৃহীত হয়নি।
অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরে জয়পুর ও যোধপুর—দুই জায়গাতেই আইনজীবীদের বিক্ষোভ শুরু হয়। রাজস্থান হাই কোর্ট লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কর্মবিরতির ডাক দিয়ে বিচারপতি শর্মার প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রত্যাহারের দাবি জানায়। জয়পুরে বিক্ষোভরত আইনজীবীদের সরাতে পুলিশও ডাকা হয়।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত অবশ্য জানিয়েছেন, কোনও কর্মরত বিচারপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তাকে প্রমাণিত সত্য হিসেবে গ্রহণ করা যায় না। প্রতিষ্ঠিত বিচারবিভাগীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে অভিযোগ যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট বিচারপতিকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া আবশ্যক। অতএব বিচারপতি অগ্রবালের নিয়োগ-সুপারিশে নেতৃত্বের অনিশ্চয়তা কাটলেও বিচারপতি শর্মার বিরুদ্ধে অভিযোগের নিষ্পত্তি এখনও বাকি।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



