জি গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা সুভাষ চন্দ্রের ব্যক্তিগত দেউলিয়াত্বের মামলায় নজিরবিহীন পদক্ষেপ করল জাতীয় কোম্পানি আইন ট্রাইব্যুনাল বা এনসিএলটি। তাঁর প্রস্তাবিত ঋণ পরিশোধ পরিকল্পনা নিয়ে তিন সদস্যের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ মত তৈরি না হওয়ায় পাঁচ সদস্যের বিশেষ বেঞ্চ গঠন করা হয়েছে। এনসিএলটির সভাপতি বিচারপতি অনুপিন্দর সিং গ্রেওয়াল নিজেই এই বেঞ্চের নেতৃত্ব দেবেন।

বেঞ্চের অন্য সদস্যেরা হলেন বিচারবিভাগীয় সদস্য বাচু ভেঙ্কট বলরাম দাস ও মহেন্দ্র খাণ্ডেলওয়াল এবং কারিগরি সদস্য অতুল চতুর্বেদী ও রবীন্দ্র চতুর্বেদী। মঙ্গলবার সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা। কোম্পানি আইন, ২০১৩-র ৪১৯(৫) ধারায় নতুন করে বিষয়টি সভাপতির কাছে পাঠানোর পর এই বৃহত্তর বেঞ্চ গঠিত হয়েছে।

মামলার কেন্দ্রে রয়েছে চন্দ্রের ঋণ পরিশোধ পরিকল্পনা। তাঁর বিরুদ্ধে পাওনাদারদের স্বীকৃত দাবি ২২,০০৬ কোটি ৫৭ লক্ষ টাকা। তার বিপরীতে তিনি মাত্র ৬ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন। পরিকল্পনাটি গৃহীত হলে পাওনাদারদের প্রায় ৯৯.৯৭ শতাংশ অর্থ ছেড়ে দিতে হবে। অর্থাৎ, প্রতি ১০০ টাকা দাবির বিপরীতে উদ্ধার হবে তিন পয়সারও কম। এই অস্বাভাবিক ব্যবধান নিয়েই মামলাটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

ইন্ডিয়াবুলস হাউজিং ফিনান্স ২০২২ সালে দেউলিয়া ও দেউলিয়াত্ব বিধির ৯৫ ধারায় সুভাষ চন্দ্রের বিরুদ্ধে আবেদন করেছিল। বিভিন্ন সংস্থাকে দেওয়া ঋণের ব্যক্তিগত জামিনদার হিসাবে তাঁর দায় নির্ধারণের জন্য ওই প্রক্রিয়া শুরু হয়। সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তী নির্দেশে কিছুদিন মামলা স্থগিত থাকার পর ২০২৪ সালের এপ্রিলে আবেদনটি গৃহীত হয়।

প্রথমে এনসিএলটির দুই সদস্যের বেঞ্চে মতভেদ দেখা দেয়। বিচারবিভাগীয় সদস্য অশোক কুমার ভরদ্বাজ পরিশোধ পরিকল্পনাটি অনুমোদনের পক্ষে মত দেন। কারিগরি সদস্য রীনা সিনহা পুরী পরিকল্পনাটি প্রত্যাখ্যান করে পাওনাদারদের দেউলিয়া ঘোষণার আবেদন করার অনুমতি দেওয়ার পক্ষে ছিলেন। তাঁর মতে, ঋণ নিষ্পত্তির পেশাদার প্রয়োজনীয় স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও যথাযথ অনুসন্ধানের দায়িত্ব পালন করেননি।

মতভেদ মেটাতে মামলাটি তৃতীয় সদস্য নীলেশ শর্মার কাছে যায়। তিনি কিছু পাওনাদারকে তালিকা থেকে বাদ দিয়ে পরিকল্পনা অনুমোদনের মত দেন। কিন্তু মূল দুই সদস্য সোমবার জানান, তিনটি মতই বস্তুগত ভাবে আলাদা; ফলে তৃতীয় সদস্যের মতকে ‘সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়’ ধরে চূড়ান্ত নির্দেশ দেওয়া সম্ভব নয়।

এখন পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ শুধু চন্দ্রের প্রস্তাব অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানই করবে না; ব্যক্তিগত জামিনদারের বিপুল দায় নামমাত্র অর্থে নিষ্পত্তি করা যায় কি না, সেই প্রশ্নেও গুরুত্বপূর্ণ আইনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।