শাহবাজের সামনেই মোদীর বার্তা: ‘সন্ত্রাসে দ্বিচারিতা নয়’

যা জানা জরুরি
- বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের উপস্থিতিতেই সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কড়া বার্তা দিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
- কোনও দেশের নাম মুখে না আনলেও তাঁর বক্তব্যের নিশানা যে পাকিস্তান, তা নিয়ে বিশেষ সংশয় থাকেনি।
- মোদীর স্পষ্ট বার্তা, সন্ত্রাসবাদকে রাষ্ট্রনীতির হাতিয়ার করা কিংবা সন্ত্রাসবাদীদের আশ্রয় ও মদত দেওয়া কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের উপস্থিতিতেই সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কড়া বার্তা দিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কোনও দেশের নাম মুখে না আনলেও তাঁর বক্তব্যের নিশানা যে পাকিস্তান, তা নিয়ে বিশেষ সংশয় থাকেনি। মোদীর স্পষ্ট বার্তা, সন্ত্রাসবাদকে রাষ্ট্রনীতির হাতিয়ার করা কিংবা সন্ত্রাসবাদীদের আশ্রয় ও মদত দেওয়া কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
কিরঘিজস্তানের রাজধানীতে আয়োজিত সম্মেলনে মোদী বলেন, সন্ত্রাসবাদের মতো গুরুতর ইস্যুতে এসসিও-র সদস্যদেশগুলিকে অভিন্ন অবস্থান নিতে হবে। তাঁর কথায়, “সন্ত্রাসবাদ নিয়ে দ্বিচারিতার কোনও জায়গা থাকতে পারে না।” যে দেশগুলি সন্ত্রাসবাদকে নীতিগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে এবং জঙ্গিদের আশ্রয় ও সমর্থন দেয়, তাদের স্পষ্ট বার্তা দেওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সন্ত্রাসবাদ কখনও কোনও দেশের ‘কৌশলগত সম্পদ’ হতে পারে না—জানিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী।
মোদীর বক্তব্যে শুধু জঙ্গিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়টিই গুরুত্ব পায়নি। তাঁর মতে, সন্ত্রাসবাদের শিকড় উপড়ে ফেলতে হলে গোটা পরিকাঠামোতেই আঘাত করতে হবে। জঙ্গিদের অর্থের জোগান, সদস্য সংগ্রহ, মৌলবাদী মতাদর্শের প্রচার থেকে শুরু করে নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা—সব কিছুর বিরুদ্ধেই একযোগে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এই লড়াইয়ে এসসিও-র সদস্যদেশগুলির মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয়ের ডাক দেন তিনি।
পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের কৌশলগত স্বার্থে কিছু জঙ্গিগোষ্ঠীকে প্রশ্রয় দিয়েছে এবং ‘ভাল’ ও ‘খারাপ’ সন্ত্রাসবাদীর মধ্যে বিভাজন করেছে—এমন অভিযোগ বরাবরই করে এসেছে ভারত। ইসলামাবাদ অবশ্য সেই অভিযোগ অস্বীকার করে। ফলে শাহবাজ শরিফ যখন সম্মেলনকক্ষে উপস্থিত, ঠিক সেই সময় মোদীর এমন মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। ভারত-পাকিস্তানের পাশাপাশি চিন, রাশিয়া, ইরান-সহ ইউরেশিয়ার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দেশের প্রতিনিধিদের সামনে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কোনও রকম ‘বাছবিচার’ না করার বার্তা দেন তিনি।
আঞ্চলিক যোগাযোগ নিয়েও ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করেন মোদী। তাঁর বক্তব্য, যোগাযোগ প্রকল্প বাণিজ্য বাড়ানো এবং পারস্পরিক আস্থা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। তবে সেই প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি পূর্ণ সম্মান থাকা জরুরি। এই মন্তব্যকে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের মধ্য দিয়ে যাওয়া চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (সিপিইসি) নিয়ে ভারতের আপত্তিরই পুনরুল্লেখ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলা যুদ্ধ ও সংঘাত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। যুদ্ধ কোনও সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয় উল্লেখ করে বিরোধ মেটাতে আলোচনা ও কূটনীতির পথেই জোর দেন তিনি। নিরাপত্তা, যোগাযোগ এবং সুযোগ—এই তিনটি স্তম্ভের উপর ভারতের এসসিও-ভাবনা দাঁড়িয়ে রয়েছে বলেও জানান মোদী।
সব মিলিয়ে তাঁর বক্তব্যের সুর ছিল একেবারে স্পষ্ট—সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সুবিধামতো নীরবতা নয়, প্রয়োজন অভিন্ন এবং আপসহীন অবস্থান।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



