‘হেরা ফেরি’তেই বন্দি! ক্ষোভ প্রিয়দর্শনের

যা জানা জরুরি
- ‘হেরা ফেরি’ তাঁকে হিন্দি সিনেমার অন্যতম সফল কৌতুকচিত্র-নির্মাতার তকমা এনে দিয়েছিল।
- অথচ সেই ছবিই নাকি তাঁর জীবনে ‘দুর্বিষহ’ হয়ে দাঁড়িয়েছিল!
- পরিচালক প্রিয়দর্শনের আক্ষেপ, ছবিটির বিপুল সাফল্যের পর প্রযোজক থেকে দর্শক—সকলেই তাঁকে শুধু কৌতুকচিত্রের পরিচালক হিসেবেই দেখতে শুরু করেন।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
‘হেরা ফেরি’ তাঁকে হিন্দি সিনেমার অন্যতম সফল কৌতুকচিত্র-নির্মাতার তকমা এনে দিয়েছিল। অথচ সেই ছবিই নাকি তাঁর জীবনে ‘দুর্বিষহ’ হয়ে দাঁড়িয়েছিল! পরিচালক প্রিয়দর্শনের আক্ষেপ, ছবিটির বিপুল সাফল্যের পর প্রযোজক থেকে দর্শক—সকলেই তাঁকে শুধু কৌতুকচিত্রের পরিচালক হিসেবেই দেখতে শুরু করেন। ফলে একের পর এক একই ঘরানার ছবি বানাতে বানাতে একসময় রীতিমতো হাঁপিয়ে উঠেছিলেন তিনি।
মনস্তাত্ত্বিক রোমাঞ্চচিত্র ‘হৈওয়ান’ মুক্তির আগে এক সাক্ষাৎকারে প্রিয়দর্শন ফিরে দেখেছেন তাঁর হিন্দি ছবির সফর। তাঁর প্রথম হিন্দি ছবি ‘মুসকুরাহট’ ছিল গুরুগম্ভীর নাটকীয় কাহিনিনির্ভর। ‘গর্দিশ’ তাঁকে পরিচিতি দেয়, ‘বিরাসত’-এর সাফল্য সেই জায়গা আরও শক্ত করে। কিন্তু ২০০০ সালে ‘হেরা ফেরি’ মুক্তির পরই বদলে যায় তাঁর পরিচয়।
প্রিয়দর্শনের কথায়, “‘গর্দিশ’ সফল হয়েছিল, ‘বিরাসত’ও সফল হয়েছিল। তার পর ‘হেরা ফেরি’ আমার জীবন দুর্বিষহ করে দিল। তার পর থেকে শুধুই কৌতুক, কৌতুক আর কৌতুক। সত্যি বলতে, কৌতুকচিত্রের শুটিং করতে আমি ঘৃণা করি।”
তাঁর কথার সঙ্গে মেলে পরিসংখ্যানও। ২০০১ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ২০টি হিন্দি ছবি পরিচালনা করেছেন প্রিয়দর্শন। তার মধ্যে ১৬টিই কৌতুকচিত্র। ‘ভুল ভুলাইয়া’, ‘বিল্লু’-র মতো ছবিতেও ছিল হাস্যরসের প্রাধান্য। এমনকি চলতি বছরের গোড়ায় মুক্তি পাওয়া তাঁর হিন্দি প্রত্যাবর্তনের ছবি ‘ভূত বাংলা’ও তৈরি হয়েছিল ভৌতিক-কৌতুকের মিশেলে।
তবে কৌতুক নিয়ে প্রিয়দর্শনের ভাবনা একটু আলাদা। তাঁর ছবিতে পর পর কৌতুক বা আলাদা আলাদা হাসির দৃশ্য সাজিয়ে দর্শককে হাসানোর চেষ্টা থাকে না। বরং চরিত্রগুলি নিজেদের পরিস্থিতিকে ভীষণ গুরুত্বের সঙ্গে নেয়—আর সেই পরিস্থিতিই দর্শকের কাছে হাস্যকর হয়ে ওঠে। অভিনেতাদের মুখভঙ্গি বা কৃত্রিম কায়দায় হাসানোর চেষ্টাও তাঁর পছন্দ নয়। পরিস্থিতি থেকেই স্বাভাবিক ভাবে হাস্যরস তৈরি হোক—এটাই তাঁর দর্শন।
নিজের নাম কোনও একটি ঘরানার সঙ্গে চিরতরে আটকে যাক, সেটাও চান না প্রিয়দর্শন। তাঁর মতে, অনেক পরিচালকের একটি নির্দিষ্ট ‘স্বাক্ষর’ থাকে। কিন্তু তিনি নিজেকে কোনও একটি পরিচয়ের মধ্যে বন্দি করতে চান না। সেই কারণেই ‘হৈওয়ান’-এর হাত ধরে ফের গুরুগম্ভীর গল্পে ফিরেছেন তিনি।
‘হৈওয়ান’ আসলে প্রিয়দর্শনেরই ২০১৬ সালের মালয়ালম ছবি ‘ওপ্পাম’-এর হিন্দি পুনর্নির্মাণ। ছবিতে দৃষ্টিহীন এক ব্যক্তির চরিত্রে সইফ আলি খান এবং হত্যাকারীর ভূমিকায় অক্ষয় কুমার অভিনয় করেছেন। গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন বোমান ইরানি, শ্রিয়া পিলগাঁওকর, সাইয়ামি খের, রাজপাল যাদব, যিশু সেনগুপ্ত-সহ আরও অনেকে। অতিথি চরিত্রে দেখা যাবে মোহনলালকে। প্রয়াত অভিনেতা আসরানির শেষ পর্দা-উপস্থিতিও রয়েছে এই ছবিতে।
‘হৈওয়ান’ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা ১১ সেপ্টেম্বর। হাসির ছবি থেকে বেরিয়ে এবার প্রিয়দর্শনের এই গুরুগম্ভীর প্রত্যাবর্তন দর্শক কতটা পছন্দ করেন, সেটাই দেখার।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



