২ কোটিতে ৫৩ কোটি! ‘হনুমান অংশ’-এর চমক

যা জানা জরুরি
- অথচ তিন সপ্তাহ যেতে না যেতেই বদলে গেল ছবিটির ভাগ্য।
- নিম করোলি বাবার জীবন ও আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকার থেকে অনুপ্রাণিত হিন্দি ছবি ‘হনুমান অংশ’ এখন ২০২৬ সালের ভারতীয় সিনেমার অন্যতম চমকপ্রদ সাফল্য।
- শুধু মোট আয়ের অঙ্কে নয়, ঘোষিত নির্মাণব্যয়ের সঙ্গে তুলনা করলেও ছবিটির সাফল্য নজরকাড়া।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
তারকা নেই, বড়সড় প্রচার নেই। মুক্তির প্রথম দিনেও আয় মাত্র ১০ লক্ষ টাকা। অথচ তিন সপ্তাহ যেতে না যেতেই বদলে গেল ছবিটির ভাগ্য। নিম করোলি বাবার জীবন ও আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকার থেকে অনুপ্রাণিত হিন্দি ছবি ‘হনুমান অংশ’ এখন ২০২৬ সালের ভারতীয় সিনেমার অন্যতম চমকপ্রদ সাফল্য।
শুধু মোট আয়ের অঙ্কে নয়, ঘোষিত নির্মাণব্যয়ের সঙ্গে তুলনা করলেও ছবিটির সাফল্য নজরকাড়া। সেই হিসাবেই কেউ কেউ ‘হনুমান অংশ’-কে বছরের সবচেয়ে লাভজনক ভারতীয় ছবিও বলছেন। তবে এই দাবির সঙ্গে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘কিন্তু’।
বিশাল চতুর্বেদীর লেখা ও পরিচালনায় তৈরি ‘হনুমান অংশ’ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ৭ আগস্ট। মুখ্য চরিত্রে রয়েছেন চন্দন আনন্দ, শোভিনব সত্যা এবং বিহান শেঠগে। পূর্ণিমা তিওয়ারি, অনিল কে রাস্তোগী এবং গুলশন পাণ্ডেকেও দেখা গিয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায়। প্রায় আড়াই ঘণ্টার ছবিটি কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র শংসাপত্র পর্ষদের ‘ইউ’ ছাড়পত্র পেয়েছে।
ছবির শুরুটা অবশ্য মোটেই আশাব্যঞ্জক ছিল না। প্রায় ২ কোটি টাকা বাজেটে তৈরি এই ছবির প্রথম দিনের নিট আয় ছিল মাত্র ১০ লক্ষ টাকা। প্রথম সপ্তাহ শেষে সেই অঙ্ক দাঁড়ায় ১ কোটি ৮ লক্ষে। দ্বিতীয় সপ্তাহেও ছবিটি যেন ধীরে ধীরে বক্স অফিসের রাডার থেকে হারিয়ে যাচ্ছিল।
তার পরই গল্পে আসে বড়সড় মোড়।
দর্শকদের মুখে-মুখে প্রচার এবং নিম করোলি বাবার ভক্তদের আগ্রহে তৃতীয় সপ্তাহ থেকে হঠাৎ বাড়তে থাকে ছবির প্রদর্শনী এবং দর্শকসংখ্যা। পরিচালক জানিয়েছেন, প্রচলিত বিজ্ঞাপনের বদলে তাঁরা আটটি ভান্ডারা বা গণভোজের মাধ্যমে ছবির বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। প্রচারের সীমিত বাজেটই তাঁদের এই অভিনব পথ বেছে নিতে বাধ্য করেছিল।
আর তার পর বক্স অফিসে যেন অন্য ছবি।
বক্স অফিস পর্যবেক্ষক স্যাকনিল্কের ২৫তম দিনের হিসাব অনুযায়ী, ভারতে ছবিটির নিট আয় ৪৫ কোটি ২৮ লক্ষ টাকা এবং মোট সংগ্রহ ৫৩ কোটি ৪৩ লক্ষ টাকা। শুধু ২৫তম দিনেই ৬,৫৮৭টি প্রদর্শনী থেকে ছবিটি নিট ৫ কোটি ১৫ লক্ষ টাকা আয় করেছে।
অর্থাৎ ঘোষিত ২ কোটি টাকার বাজেটের তুলনায় শুধু ভারতের নিট সংগ্রহই প্রায় ২২.৬ গুণ। সরল অঙ্কে দেখলে, বাজেটের তুলনায় অতিরিক্ত সংগ্রহের হার ২,০০০ শতাংশেরও বেশি। এই কারণেই ‘হনুমান অংশ’-এর সাফল্যকে ঘিরে এত হইচই।
তবে এখানেই একটু থামা দরকার।
বক্স অফিস সংগ্রহ আর প্রযোজকের লাভ এক জিনিস নয়। প্রেক্ষাগৃহে বিক্রি হওয়া টিকিটের পুরো টাকা প্রযোজকের পকেটে যায় না। পরিবেশক ও প্রদর্শকের অংশ, কর, প্রচার এবং অন্যান্য খরচ বাদ দেওয়ার পরেই প্রকৃত লাভের হিসাব করা সম্ভব। উপরন্তু, ছবিটির বাজেট নিয়েও সব সূত্র একমত নয়। কোথাও ২ কোটি টাকা বলা হয়েছে, আবার কোথাও ১০ কোটি টাকার বাজেটের দাবি রয়েছে।
তাই ‘২,০০০ শতাংশ লাভ’কে সরাসরি নিরীক্ষিত প্রযোজক-লাভ না বলে বাজেট বনাম বক্স অফিস সংগ্রহের অনুপাত বলা বেশি সঙ্গত।
আর ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-কে পিছনে ফেলার দাবিটিও বুঝতে হবে সেই জায়গা থেকেই। রণবীর সিংহ অভিনীত ছবিটি বিশ্বজুড়ে ১,৮৫২ কোটি টাকারও বেশি আয় করেছে। মোট আয়ের হিসাবে ‘হনুমান অংশ’ তার ধারেকাছেও নেই।
কিন্তু ঘোষিত বাজেটের তুলনায় আয়ের অনুপাতের খেলায় ছবিটির কীর্তি সত্যিই নজরকাড়া। এক দিকে কয়েকশো কোটি টাকার তারকাখচিত ব্লকবাস্টার, অন্য দিকে মাত্র কয়েক কোটি টাকার আধ্যাত্মিক ছবি—দুই ছবির বক্স অফিসের গল্প একেবারে আলাদা।
‘হনুমান অংশ’-এর আসল চমক তাই ৫৩ কোটির অঙ্কে যতটা, তার চেয়েও বেশি ২ কোটি টাকা থেকে সেই অঙ্কে পৌঁছে যাওয়ার গল্পে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



