হাইলাইটস:

  • ফ্রান্সকে ২-০ হারিয়ে টানা ৩৭ ম্যাচে অপরাজিত স্পেন।
  • ইউরোপীয় দলের দীর্ঘতম অপরাজিত থাকার ইতালির রেকর্ডে ভাগ বসাল লা রোহা।
  • দক্ষিণ আমেরিকার সেরা রেকর্ড এখনও ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার ৩৬ ম্যাচ।
  • ফাবিয়ান রুইস ৪৯ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেও এখনও হারেননি।
  • ফাইনালে মুখোমুখি হবে ৩৭ ম্যাচের স্পেন ও ১৪ ম্যাচ জয়ী আর্জেন্টিনা।

বাংলাস্ফিয়ার: ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে স্পেন আরেকটি ঐতিহাসিক কীর্তিও গড়েছে। লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল এখন টানা ৩৭টি ম্যাচে (নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় মিলিয়ে) অপরাজিত। পরিসংখ্যান সংস্থা অপটার তথ্য অনুযায়ী, এটি ইউরোপের কোনও দলের যৌথ দীর্ঘতম অপরাজিত থাকার রেকর্ড।

এই রেকর্ডের অন্য মালিক ইতালি। রবার্তো মানচিনির দল ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত ছিল। সেই সময়েই তারা জিতেছিল ইউরো ২০২০। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। স্পেন ২০২৫ সালের নেশনস লিগের ফাইনালে পর্তুগালের কাছে টাইব্রেকারে হেরেছিল। যদিও ফুটবলের পরিসংখ্যানে টাইব্রেকারের হারকে আনুষ্ঠানিক পরাজয় ধরা হয় না, ইতালির সেই ধারাবাহিকতায় এমন কোনও ব্যতিক্রম ছিল না।

দক্ষিণ আমেরিকার ইতিহাসে এত দীর্ঘ অপরাজিত থাকার নজির নেই। ব্রাজিল ১৯৯৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ১৯৯৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত ছিল এবং সেই সময়েই বিশ্বকাপ জিতেছিল। পরে ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের নভেম্বর পর্যন্ত আর্জেন্টিনাও একই রেকর্ড গড়ে। সেই ধারাবাহিকতা কাতার বিশ্বকাপে সৌদি আরবের কাছে হার দিয়ে শেষ হলেও, লিওনেল মেসিদের বিশ্বকাপ জয় সেই ধাক্কাকে দ্রুত ভুলিয়ে দেয়।

স্পেনের এই সাফল্য অবশ্য আকস্মিক নয়। ইউরোপের কোনও দল অন্তত ২৫ ম্যাচ অপরাজিত থাকার যে ১১টি নজির রয়েছে, তার মধ্যে ছয়টিই স্পেনের। আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, এই ছয়টির পাঁচটিই এসেছে গত ২২ বছরের মধ্যে। অর্থাৎ, গত দুই দশকে ইউরোপীয় ফুটবলে স্পেনের ধারাবাহিক আধিপত্যেরই প্রতিফলন এই পরিসংখ্যান।

এই দলের কয়েকজন ফুটবলারের ব্যক্তিগত রেকর্ড আরও বিস্ময়কর। প্যারিস সাঁ-জার্মাঁর মিডফিল্ডার ফাবিয়ান রুইস স্পেনের জার্সিতে ৪৯টি ম্যাচ খেলেছেন, অথচ এখনও কোনও ম্যাচে পরাজিত হননি (টাইব্রেকার বাদে)। যদিও চলতি ৩৭ ম্যাচের অপরাজিত ধারায় তিনি সবচেয়ে বেশি সময় মাঠে ছিলেন না।

বরং এই অভিযানের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মুখ মার্ক কুকুরেয়া। তাঁর পরেই রয়েছেন গোলরক্ষক উনাই সিমন, ডিফেন্ডার আইমেরিক লাপোর্ত, তরুণ বিস্ময় লামিন ইয়ামাল এবং ফরোয়ার্ড মিকেল ওইয়ারসাবাল

এই দীর্ঘ যাত্রাপথে দে লা ফুয়েন্তে ব্যবহার করেছেন ৬২ জন ফুটবলার। সংখ্যাটা দেখে অনেকে দ্বিধার ইঙ্গিত খুঁজতে পারেন, কিন্তু বাস্তবে তা স্পেনের গভীর প্রতিভাভাণ্ডারেরই প্রমাণ। অপরাজিত ধারায় অন্তত ২০টি ম্যাচ খেলা ১৫ জনের মধ্যে ১০ জনই বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে প্রথম একাদশে ছিলেন, চারজন নেমেছেন বদলি হিসেবে এবং মার্টিন জুবিমেন্দি ছিলেন বেঞ্চে।

স্পেনের এই ধারার শুরু ২০২৪ সালের মার্চে লন্ডন স্টেডিয়ামে কলম্বিয়ার কাছে ১-০ হারের পর। এরপর থেকে তারা শুধু অপেক্ষাকৃত দুর্বল দলের বিরুদ্ধেই নয়, ব্রাজিল, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও পর্তুগালের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধেও মোট ১১টি ম্যাচে অপরাজিত থেকেছে।

অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা বর্তমানে টানা ১৪টি ম্যাচ জিতেছে। তবে স্পেন শেষবার হারার পর থেকে মেসিদের তিনবার পরাজয়ের মুখ দেখতে হয়েছে। সাম্প্রতিক ইতিহাস তাই স্পষ্টভাবেই স্পেনের পক্ষেই কথা বলছে।

এবার বিশ্বকাপ ফাইনালে মুখোমুখি হবে একদিকে ৩৭ ম্যাচ ধরে অপরাজিত স্পেন, অন্যদিকে টানা ১৪ ম্যাচ জয়ী আর্জেন্টিনা। এক দলের সামনে ইতিহাস আরও দীর্ঘ করার সুযোগ, অন্য দলের সামনে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে মুকুট ধরে রাখার লড়াই।