বাংলাস্ফিয়ার: দেশে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বক্স অফিসে বিপুল সাফল্য পেলেও জাপানে কার্যত হতাশাজনক সূচনা করল রণবীর সিং অভিনীত ‘ধুরন্ধর’ ফ্র্যাঞ্চাইজির নতুন ছবি ‘ধুরন্ধর ২: দ্য রিভেঞ্জ’ । ১০ জুলাই জাপানে মুক্তি পাওয়া ছবিটি প্রথম দিনেই প্রত্যাশার তুলনায় অত্যন্ত কম দর্শক টানতে সক্ষম হয়েছে। ট্রেড রিপোর্ট অনুযায়ী, মুক্তির দিন গোটা দেশে ছবিটি দেখতে প্রেক্ষাগৃহে গিয়েছেন মাত্র প্রায় ৯০০ জন।
বক্স অফিস বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয় মূল বাজারে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ‘ধুরন্ধর’ ফ্র্যাঞ্চাইজি উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। দুটি ছবির সম্মিলিত বিশ্বব্যাপী আয় ইতিমধ্যেই ৩,১০০ কোটিরও বেশি বলে দাবি করা হয়েছে। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় জাপানেও ছবিটি ভালো ব্যবসা করবে বলে আশা করা হচ্ছিল। কিন্তু বাস্তবে চিত্রটি সম্পূর্ণ উল্টো।
জানা গিয়েছে, জাপানে প্রায় ৮০টি প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি মুক্তি পায়। মুক্তির প্রথম দিন দুপুর ২টো পর্যন্ত ৫৭টি প্রদর্শনস্থলে মোট ৪৪৯টি টিকিট বিক্রি হয়। সাধারণত সন্ধ্যা ও রাতের শোগুলিতে দর্শকসংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ে। কিন্তু ‘ধুরন্ধর’-এর ক্ষেত্রে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। দিনের শেষে মোট দর্শকসংখ্যা দাঁড়ায় মাত্র ৯০০, যা বড় বাজেটের আন্তর্জাতিক মুক্তিপ্রাপ্ত ছবির ক্ষেত্রে অত্যন্ত হতাশাজনক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
শুধু তাই নয়, মুক্তির পর শুক্রবার, শনিবার এবং রবিবার— টানা তিন দিনই জাপানের শীর্ষ ২৫টি সর্বাধিক আয়কারী ছবির তালিকায় জায়গা করে নিতে পারেনি ‘ধুরন্ধর’। আজ এক সপ্তাহ কেটে গেলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। কোনও বিদেশি ছবির জন্য এই তালিকায় স্থান পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে ধরা হয়। সেই পরীক্ষায়ও ব্যর্থ হয়েছে ছবিটি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ছবিটি মুক্তির আগে জাপানে প্রচারেও যথেষ্ট জোর দেওয়া হয়েছিল। সামাজিক মাধ্যমে প্রচার, স্থানীয় দর্শকদের উদ্দেশে বিশেষ প্রচারণা এবং একাধিক বিপণন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। তবু সেই প্রচেষ্টা দর্শক টানতে কার্যকর হয়নি।
চলচ্চিত্র বাণিজ্য মহলের একাংশের মতে, জাপানের দর্শকদের রুচি এবং ভারতীয় মূলধারার বাণিজ্যিক ছবির ভাষা ও উপস্থাপনার মধ্যে এখনও বড় ব্যবধান রয়েছে। ব্যতিক্রম হিসেবে কিছু ভারতীয় ছবি সেখানে সাফল্য পেলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বাজার সীমিত। ফলে শুধুমাত্র ভারত বা অন্যান্য দেশে বাণিজ্যিক সাফল্য পাওয়া মানেই জাপানেও একই ফল হবে— এমন ধারণা ঠিক নয়।
অন্যদিকে, ট্রেড বিশ্লেষকদের আরেকটি অংশের বক্তব্য, প্রথম সপ্তাহান্তের ফল অবশ্যই হতাশাজনক হলেও চূড়ান্ত রায় দেওয়ার সময় এখনও আসেনি। মুখে মুখে প্রশংসা ছড়ালে বা বিশেষ প্রদর্শনীর মাধ্যমে দর্শকসংখ্যা কিছুটা বাড়তে পারে। যদিও বর্তমান প্রবণতা বলছে, জাপানে ছবিটির ব্যবসা প্রত্যাশার তুলনায় অনেকটা কম থাকার আশঙ্কাই বেশি।
সব মিলিয়ে, বিশ্বজুড়ে সাফল্যের রেকর্ড গড়া ‘ধুরন্ধর’ ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য জাপানের বাজারে এই সূচনা বড় ধাক্কা বলেই মনে করছে চলচ্চিত্র মহল। এখন দেখার, আগামী কয়েক দিনে ছবিটি ঘুরে দাঁড়াতে পারে কি না, নাকি জাপানের বক্স অফিসে এই হতাশাই তার ভবিতব্য হয়ে থাকে।
জাপানে সাড়া ফেলতে ব্যর্থ ‘ধুরন্ধর’, প্রথম দিনে দর্শক মাত্র ৯০০
2