হাইলাইটস:
- আজতেকা স্টেডিয়ামের বাইরে উদ্বোধনী ম্যাচের আগে হিংসাত্মক সংঘর্ষ।
- মুখোশধারী প্রায় ২০০ জন পুলিশ ব্যারিকেড ভেঙে ঢোকার চেষ্টা করে; ছোড়া হয় ইট, পাথর ও পেট্রোল বোমা।
- বহুজন গ্রেফতার, আহত একাধিক পুলিশকর্মী।
- ম্যাচ শুরু ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন।
বাংলাস্ফিয়ার: মেক্সিকোর বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হল জয়ের মধ্য দিয়ে। কিন্তু মাঠের ভেতরের উৎসবের আবহ কিছুটা ম্লান করে দিল স্টেডিয়ামের বাইরে ঘটে যাওয়া হিংসাত্মক ঘটনা।
মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী ম্যাচ শুরুর ঠিক আগে টিকিটবিহীন দর্শক এবং বিভিন্ন বিক্ষোভকারী গোষ্ঠীর সদস্যদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। বিশেষ করে স্টেডিয়ামের ৮ নম্বর গেটের সামনে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, একদল মুখোশধারী ব্যক্তি পুলিশের নিরাপত্তা বলয় ভেঙে স্টেডিয়ামে ঢোকার চেষ্টা করে। তাদের লক্ষ্য করে পুলিশ প্রতিরোধ গড়ে তুললে শুরু হয় ইট, পাথর, বোতল এবং অন্যান্য বস্তু নিক্ষেপ। কিছু ক্ষেত্রে পেট্রোল বোমাও ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, এই ঘটনায় বহুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কয়েকজন পুলিশকর্মী আহত হওয়ায় তাঁদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়।
মেক্সিকো সিটির জননিরাপত্তা দফতরের এক মুখপাত্র জানান, “প্রায় ৮০০ জনের দুটি বিক্ষোভকারী দলের মধ্য থেকে প্রায় ২০০ জন মুখোশধারী ব্যক্তি আলাদা হয়ে গিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। তবে মেট্রোপলিটন পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।”
বিশ্বকাপের আগে গোটা সপ্তাহ জুড়েই মেক্সিকো সিটি উত্তপ্ত ছিল। শিক্ষক সংগঠন, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এবং দেশের প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার নিখোঁজ মানুষের পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন চালাচ্ছিলেন। তবে স্টেডিয়ামের বাইরে যে সংঘর্ষ হয়, তার সঙ্গে সরাসরি কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের যোগ পাওয়া যায়নি।
প্রশাসনের উদ্বেগ ছিল, বিক্ষোভকারীরা হয়তো ম্যাচ শুরুর সময়সূচিতে প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ অন্তত পাঁচটি আলাদা বিক্ষোভকারী গোষ্ঠী স্টেডিয়ামের আশপাশে জড়ো হয়েছিল। তবু শেষ পর্যন্ত ম্যাচ নির্ধারিত সময়েই শুরু হয় এবং বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।
শুধু স্টেডিয়াম নয়, শহরের কেন্দ্রীয় জোকালো চত্বরে আয়োজিত ফিফা ফ্যানফেস্ট নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। কিছু বিক্ষোভকারী ওই অনুষ্ঠান বাতিলের দাবি তুললেও প্রশাসন তা নস্যাৎ করে দেয়। ফলে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সেখানে ফুটবলপ্রেমীদের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে মেক্সিকোর রাষ্ট্রপতি ক্লাওদিয়া শেইনবাউম উদ্বোধনী ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি নিজের টিকিটটি ২১ বছর বয়সি এক লটারিজয়ী তরুণকে উপহার দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী দিন তাই এক অদ্ভুত দ্বৈত ছবির সাক্ষী থাকল মেক্সিকো—স্টেডিয়ামের ভেতরে ফুটবলের উৎসব, আর বাইরে উত্তেজনা, সংঘর্ষ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ধস্তাধস্তি। তবে সব অশান্তি সত্ত্বেও ম্যাচ আয়োজন এবং টুর্নামেন্টের সূচনা ব্যাহত হয়নি, যা ফিফা এবং মেক্সিকান প্রশাসনের কাছে আপাতত বড় স্বস্তির খবর।